রক্তমাখা নীল ভিডিও – চ্যাপ্টার টু

গ্রাস ওকে শুরুতেই মূল প্ল্যানটা বলেনি।

দুদিন অ‍াগে ওকে ডেকে পাঠিয়েছিল সোনাগাছিতে ওর ডেরায়।

বলেছিল, একরাতের জন্য ১৫ লাখ টাকা পেতে কেমন লাগবে রে তোর? তবে একসঙ্গে দুই বোনকেই চাই। হবে?

গ্রাসের ডেরায় মদ, মেয়ে অ‍ার মেসিন, এই তিনটে ম-এর অবাধ অ‍ানাগোনা। ফলে টেবিলের ওপর ফেলে রাখা বিদেশি গ্লক পিস্তলটা নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে পিটার বলেছিল, কেন ফালতু ইয়ার্কি মারছ? এই সাত সকালে টাকার লোভ দেখাচ্ছ?

গ্রাস বলেছিল, ইয়ার্কি তুই মারছিস, অ‍াগে বন্দুকটা নামা। ওসব জিনিস নিয়ে ছেলেখেলা করতে নেই।

পিস্তল টেবিলের ওপর রেখে পিটার ওর চওড়া কাঁধ ঝাঁকিয়েছিল, বলো, কী করতে হবে?

গ্রাস বলেছিল, প্ল্যান তো বলা যাবে না। অ‍াগে ওদের কথা দিতে হবে যে ওরা অ‍াসবে, কাজ করবে একসঙ্গে, তবে বলব। ওদের অ‍াগে রাজি করা।

পিটার সঙ্গে সঙ্গে ফোনে ধরেছিল রাহিকে। টাকাটার কথা শুনে রাহি বলেছিল, অ‍ারবের শেখ নাকি গো? একরাতে অত টাকা দেবে। কিন্তু দুজনকে একসঙ্গে কেন? সেটা ভাল করে জানো অ‍াগে।

পিটার একই প্রশ্ন পাঠিয়ে দিয়েছিল গ্রাসের কোর্টে। দুজন একসঙ্গে কেন? রাহি জানতে চাইছে।

গ্রাস বলেছিল, অ‍ারে বাবা, বুঝতে পারছিস না? একটা বুড়ো পারভার্ট। যমজ বোন খুঁজছে। লোকটাকে তুইও চিনিস।

কে লোকটা? খুব সাবধানে পিটার জিজ্ঞেস করেছিল।

গ্রাস কান খোঁচাতে খোঁচাতে বলেছিল, সব বলব। অ‍ামি কথা দিচ্ছি, দশ মিনিটের ভেতর মালটা মাল খেয়ে অ‍াউট হয়ে যাবে। ফলে ওদের কোনও খাটনিও নেই। ১৫ লাখ টাকা। এক রাতে। তবে একটা অন্য কাজ অ‍াছে, অ‍ার সেটাই অ‍াসল। তবে অ‍াগে ওদের রাজি হতে হবে। তবে বলব।

পিটার চোখ কুঁচকে বলল, খুন খারাপির কেস নয়তো। বিষ-টিষ খাওয়ানো বা ওইসব? ওসব ওরা পারবে না, করবেও না।

গ্রাস খ্যাঁকখ্যাঁক করে হাসল, তুই শালা শুধু বডিটাই বানিয়েছিস, মাথাটার দিকে একেবারেই নজর দিসনি। একটা বুড়োকে খুন করার জন্য দুটো মেয়েকে পাঠাব? অ‍ামরা কি মরে গেছি? চিতার অ‍াগুন দেখতে পাচ্ছিস?

তাহলে?

বলছি তো সব বলব। অ‍াগে ওরা রাজি হোক। তবে তো।

কোনও ঝামেলা নেই বলছো?

গ্রাস মাথা নাড়ল, অ‍ামি গ্যারান্টার। হল? ওদের কাজ বড়জোর অ‍াধঘণ্টা থেকে চল্লিশ মিনিট। তারপর এখানে তুই একা অ‍াসবি, অ‍ামার হাতে একটা জিনিস হ্যান্ড ওভার করে টাকা নিয়ে চলে যাবি। ওদের সঙ্গে কথা বল, কথা বল। শাোন, এমন চান্স অ‍ার জীবনে পাবি না।

পিটার উঠে গিয়ে ঘরের বাইরে চলে এসেছিল, রাহিকে ফোনে বলেছিল, মনে হয়, লোকটার ব্যাগ থেকে কিছু একটা বের করে নিয়ে অ‍াসতে হবে, বা ওই রকম কিছু একটা। রাজি হয়ে যাও, এমন চান্স কিন্তু সহজে অ‍াসবে না।

রাহি হেসে বলেছিল, চুরি করতে বলছো?

পিটার বলেছিল, না, মানে, অ‍ামার চিন্তা হচ্ছে রাহেলাকে নিয়ে। ও যদি বেঁকে বসে?

রাহি বলেছিল, সে ভার অ‍ামার। তুমি শুধু বলো, পাঁচ অ্যাডভান্স চাই। অ‍ার দেখো চাপ দিয়ে মালটা অ‍ারও বাড়ানো যায় কি না।

পিটার ঘরে ঢুকে চওড়া হেসে বলেছিল, নাও, রাজি করিয়েছি অনেক কষ্টে। শুধু একটাই শর্ত, পাঁচ অ্যাডভান্স চাইছে ওরা।

গ্রাস চোখ ঘুরিয়ে বলেছিল, কাজের অ‍াগেই অ্যাডভান্স? ভাল কারবার ফেঁদেছিস তোরা।

এবার কাজটা বলো।

গ্রাস গলা নামিয়ে বলেছিল, ঠাণ্ডা মাথায় শোন। ওদের পোশাকে বডি ক্যাম লাগানো থাকবে। অ‍ামি সেসব দেব। লুকিয়ে লোকটার কিছু ভিডিও তুলতে হবে। ক্যামেরাগুলো অ‍ামাকে ফেরত দিয়ে সেদিন রাতেই বাকি টাকা নিয়ে যাবি। অ‍াজ তোকে পাঁচ দিয়ে দিচ্ছি। ঠিক অ‍াছে?

পিটার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেছিল, বুঝেছি, ওদের দিয়ে অ‍াসল কাজটা করাবে, এদিকে ঠেকাবে ১৫ লাখ, অ‍ার ওদিকে মালটাকে ব্ল্যাকমেল করে তুলবে কোটি কোটি। কি, অ‍ামি ঠিক বলছি তো?

গ্রাস অ‍াড়মোড়া ভেঙে, হাই তুলে বলেছিল, কে বলে তোর বুদ্ধি নেই? এই তো বেশ মাথা খেলছে।

পিটার এমনিতেই রগচটা। উঠে দাঁড়িয়ে বলেছিল, ওসব দিল্লাগি চলবে না। মাল বাড়াও।

গ্রাস যেন জানত, এমন ভঙ্গিতে বলেছিল, ঠিক অ‍াছে, অ‍‍ারও পাঁচ পাবি। ওদের বলার দরকার নেই, ওটা অ‍ামি তোকে দেব। তুই সোনা ছেলে।

পিটার তেতো হাসি গিলে বলেছিল, অ‍ামি মীরজাফর নই। তুমি ৩০ দেবে। তার এক পয়সাও কমে ওরা যাবে না। এটা রিস্কি জব। লোকটা কে জানি না। ওদের তো চিনে নেবে, তাই না? তারপর? অ‍ামাকেই তো ওদের প্রোটেকশন দিতে হবে।

গ্রাস দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেছিল, এই জন্যই তোকে বলি মাথামোটা। নিজের ন্যাংটো ছবি দেখে ওই বুড়ো এমন তিড়িং বিড়িং লাফাবে, যে এসব ও ভাববেই না। তাছাড়া হোটেলের কামরাতেও কেউ ক্যামেরা লাগাতে পারে, তাই না? সেটা অ‍ামি বুঝে নেব। কারণ লোকটা হচ্ছে, জ্যাকি সেন।

জ্যাকি সেন? পিটারের চোখ বড় বড় হয়ে গেছিল, কিন্তু ও তো তোমার বস।

গ্রাস নির্লিপ্ত গলায় বলেছিল, বস না হাতির মাথা। শালা অ‍ামার কাঁধে বন্দুক রেখে এখানে কারবার চালায়। ওই জন্যই তো বলছি, ব্যাপারটা তো অ‍ামিই সামলাব, তুই অত ভাবছিস কেন? হোটেলের মালিককে ফাঁসিয়ে দেব। তোরা সেফ থাকবি। তুই অ‍ামাকে বিশ্বাস কর। অ‍ামি দলের লোকেদের ফাঁসাই না।

পিটার বিশ্বাস করেছিল।

অ‍ার সেটাই ওর জীবনের সবথেকে বড় ভুল হয়ে গেছিল।