আজ থেকে বছর ৩৬ আগে, সেটা ১৯৮৯ সালের শেষ, বা ৯০-এর শুরু, যখন বিক্রমদার প্রথম অ্যাডভেঞ্চার – মুখোশের আড়ালে – লিখি, এবং সেটা আজকালের লক্ষীন্দ্র সরকার বই আকারে ছাপে, তখন কষ্মিনকালেও ভাবিনি, ২০২৬ সালে ফের বিক্রমদা ফিরে আসবে তার অন্যান্য সঙ্গী-সাথীদের সঙ্গে নিয়ে।
মাঝখানে অনেক কিছু ঘটে গেছে।
টানা ২০ বছরের ওপর বাংলাতে কিছু লিখিনি। ফের যে লিখব, তার কোনও ভাবনা মনের সুদূর কোণেও ছিল না।
থাকার কোনও কারণ ছিল কি?
বন্ধু ও দাদা, আজকালের সিস্টেম ম্যানেজার, কার্তিক পাল, যাঁর সাহায্য ছাড়া আমার টেকনোলজির জগতে পা রাখা সম্ভব হত না, সেই কার্তিক দা, স্টুডিওতে গেলেই কিন্তু সমানে বলত, সঞ্জীব, তোমার পুরনো বাংলা লেখাগুলো আমাকে দাও, আমি ওগুলো ছাপানোর ব্যবস্থা করছি।
আমি টুসকি মেরে প্রসঙ্গটা উড়িয়ে দিতাম, ধুস, ওসব পুরনো লেখা কেউ পড়বে না কি?
কার্তিকদা বলত, আরে তুমি বুঝতে পারছ না।
আমি সত্যিই বুঝতে পারিনি। তাই ব্যাপারটাকে পাত্তাও দিই নি।
কার্তিকদার সঙ্গে বহু প্রকাশকের চেনাশোনা। কারণ, কলেজ স্ট্রিটে যেগুলো – কোল্ড কেস – অর্থাৎ যা কেউ পারে না, তা কার্তিক দার কাছে রিবাউন্ড হয়ে আসে, এবং, কার্তিকদা সেগুলো বাঁ হাতে অত্যন্ত অবহেলার সঙ্গে সমাধান করে দেয়।
আমি মনে করি, কার্তিক দা ভুল জায়গায়, ভুল সময়ে জন্মেছে। হার্ভার্ড বা এমআইটির মত জায়গাই একমাত্র পারে এইসব প্রতিভার কদর করতে।
পরে সম্রাটের Samrat Hui কাছে জানতে পারি, ফেসবুকে সৌম্য ব্যানার্জী, প্রথম বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন – বিক্রমদার রহস্য অ্যাডভেঞ্চারগুলোকে কি ফেরানো যায় না?
**********
শেষ খবর – বিক্রমদার গোয়েন্দাগিরি – প্রথম খণ্ড পাওয়া যাচ্ছে। পাবেন পত্রপাঠ প্রকাশনীর ওয়েবসাইটে।
**********
অন্যদিকে অমিতাভ Amitabha Chakraborty তারও দশ বছর আগে থাকতে ২০১৪ বা ১৫ সাল থেকে, বা আরও আগে, সমানে বিক্রমদার সব প্রকাশিত লেখা সংগ্রহ করছে এবং প্রকাশকের দরজায় দরজায় নক করছে, এগুলো কি বই করা যায় না?
প্রকাশকেরা একটি কথাই বলত, আরে লেখক পটল তুলেছে, কী পটল তোলার প্রক্রিয়ায় রয়েছে তা কি আমরা জানি? তারপর ফালতু ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলার মত একটা ঝামেলা হবে। অনেকে এসে রয়্যালটি দাবি করতে শুরু করবে, ইত্যাদি।
সন্দেহ নেই তাঁদের কথায় যুক্তি ছিল।
ইতিমধ্যে বিখ্যাত গবেষক, লেখক সমুদ্র বসুর https://www.facebook.com/samudra.basu.3
চোখে পড়ে সৌম্য ব্যানার্জীর Soumyo Banerjee Book Reviews ফেসবুক পোস্ট ও তিনি বইপাড়ার সম্রাটের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সম্রাট তখন তার বন্ধুবান্ধদের নিয়ে আমাকে খুঁজতে নেমে পড়ে। এই সার্চ পার্টির মধ্যে নীলাঞ্জন https://www.facebook.com/nil.nilanjan.56, সৌরভ এবং আরও অনেকে ছিল, Sourav Das তাঁদের মধ্যে একজন।
ওরা গুগলে সার্চ করে পাবলিশড অথর হিসেবে যার ছবি দেখতে পায়, তার বয়স বড়জোর ৩৫ বা ৪০।
এই লোকটা যদি ৯০ সালে বিক্রমদা লিখে থাকে, তাহলে সে মায়ের পেটেই লেখালেখি শুরু করেছিল। মানে, কেশব নাগের পাটিগণিত তাই বলছে।
তার ওপর লোকটার তিন রকম নাম পাওয়া যাচ্ছে – সঞ্জীব সিনহা, সঞ্জীব সিংহ ও সঞ্জীব দেব সিনহা।
কোনটা ঠিক?
সম্রাট ফেসবুকে জানায়, যাঁরা এই ব্যক্তির সন্ধান দিতে পারবেন, তাঁকে ওর সাম্রাজ্যের কোষাগার থেকে ৫০০০ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
ফেসবুকেই এইসব দেখেশুনে স্বনামধন্য গবেষক ও লেখক আজকালেরই প্রাক্তনী দেবাশিস মুখোপাধ্যায় জানান, আমি এই লোকটাকে চিনি। ও আজকালে এক সময় কাজ করত, গল্প লিখত। আমাদের সঙ্গে লাস্ট ট্রেনে ফিরত ও শেওড়াফুলিতে নেমে যেত। সম্ভবত ওখানেই থাকে। তোমরা খোঁজ করে দেখতে পারো।
অনেকেই জানেন, শেওড়াফুলিতে একটি বহু প্রাচীন নিষিদ্ধ পল্লী আছে।
একটি লোক রাতের অন্ধকারে চুপিচুপি রোজ শেওড়াফুলির মত একটি জায়গায় নেমে যায় কেন?
ফলে আলোচনায় এটাও উঠে আসে, অনেক লেখকের স্বভাব চরিত্র কিন্তু সব সময় ভালো হয় না। এমন বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে সেই শরৎবাবুর আমল থেকে।
এমন লোককে খুঁজে বের করে বিপদে পড়ব না তো?
সঙ্গত প্রশ্ন।
এইসব নানা ডামাডোলের বাজারে দেবাশিসদা কথা প্রসঙ্গে বিখ্যাত শিল্পী দেবব্রত ঘোষের কাছে জানতে পারে, একটি লোকের সঙ্গে সঞ্জীবের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তার নাম কার্তিক পাল।
ভাগ্যক্রমে দেবব্রত ঘোষের নানা ধরনের সমস্যা সামলাতে ডাক পড়ে এই কার্তিক দারই। এবং কার্তিকদা বহুবার কথাপ্রসঙ্গে দেবুদাকে আমার কথা বলেছে।
দেবুদা তখন কার্তিক দাকে জানায়, তুমি দেমুকে সঞ্জীবের নম্বরটা দাও। একদল ছেলে ওকে খুঁজছে।
তারপর গত নভেম্বরের এক বিকেলে আমার কাছে সম্রাটের ফোন আসে।
আপনাদের এই ভালোবাসা আর খোঁজাখুঁজির ফলেই বিক্রমদাকে নিয়ে আবার কলম ধরতে হলো।
আপনাদের এই আগ্রহকে সম্মান জানাতেই বিক্রম, পিজি আর মতিলাল মিস্ত্রিকে নিয়ে একটি অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে।
নতুন সব কেস আর গল্পের আপডেট সবার আগে পেতে পেজটিতে যুক্ত হতে পারেন:
Facebook Page: https://www.facebook.com/VikramdaOfficial
এই লেখাটার সামারি হল – এইসব মানুষগুলো না থাকলে – বিক্রমদার গোয়েন্দাগিরি করা লাটে উঠত। ![]()
শেষ খবর – বিক্রমদার গোয়েন্দাগিরি – প্রথম খণ্ড পাওয়া যাচ্ছে। পাবেন পত্রপাঠ প্রকাশনীর ওয়েবসাইটে।
