রবিবার, দুপুর ১২.১৪, মুম্বাই
মেসেজ ঢোকার শব্দ। টিং!
আন্ধেরি সাবওয়ে স্টেশনের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল সারিকা।
থাইয়ের কাছে মোবাইলে ভাইব্রেশন হতেই চমকে উঠল।
সরব? সরব পাঠাল?
মেসেজটা চেক করার মতো এনার্জিও যেন আর অবশিষ্ট নেই।
টেনশন আর এক্সাইটমেন্টে শরীরটা কেমন অবশ লাগছে। সারিকা ওর স্কিন-টাইট জিন্সের পকেট থেকে স্মার্টফোনটা বের করার চেষ্টা করল। জিন্সটা এতটাই টাইট যে ফোন বের করতে রীতিমতো কসরত করতে হয়।
কে জানে বাবা, ফ্যাশনের নামে মেয়েরা আর কত কষ্ট করবে! ঠিক সেই সময়ই একটা গাড়ি এসে দাঁড়াল ওর গা ঘেঁষে।
জায়গাটা আন্ধেরি ইস্ট।
সামনেই মাথুরাদাস ভাসানজি রোড। লম্বা রাস্তা।
সরব লাস্ট মেসেজে এখানেই ওয়েট করতে বলেছিল।
একটু অাগে এখানে পৌঁছে সারিকা নিজের গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে। ড্রাইভারকে বলেছে তিন ঘণ্টা পরে পিক-আপ করতে। এই তিনটে ঘণ্টার কথা অাগাম ও ভাবতে চায় না। তাহলে অার কিছুতেই শরীরকে বশে রাখতে পারবে না ও।
সরব আসবে। সরব ওকে পিক-আপ করবে। এটা ওদের পুরনো প্রথা। পুরনো কাসুন্দি।
সারিকা চেষ্টা করল ওদের শেষ শারীরিক ঘনিষ্ঠতার মুহূর্তটা মনে না করতে। কিন্তু শরীর কি আর মন বা ব্রেনের কথা শোনে?
ওই স্পর্শের কথা মনে পড়লেই ভেতরটা শিরশির করে ওঠে। একটা অদ্ভুত রেস্টলেসনেস কাজ করে যখনই মিসাইলের ছবিটা মনের ভেতর ভেসে ওঠে। ভাবতে চায় না সারিকা। কিছুতেই না।
সারিকা জোর করে চিন্তাটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করল। কিন্তু চিন্তাটা যেন স্প্রিং দেওয়া পুতুল, বারবার লাফিয়ে লাফিয়ে ফিরে আসছে।
একটা কুচকুচে কালো বিএমডব্লিউ নিঃশব্দে এসে দাঁড়িয়েছে ওর সামনে। ড্রাইভার ইঞ্জিন বন্ধ করল না। ইঞ্জিনের একটা চাপা গর্জন শোনা যাচ্ছে।
জানলার কাচ কালো ফিল্ম দিয়ে ঢাকা। টিন্টেড গ্লাস। ভেতরটা দেখা যায় না।
গাড়িটার মধ্যেই কেমন যেন একটা অশুভ ব্যাপার আছে। দেখলেই গা ছমছম করে।
এটাই কি সরব?
সারিকা এক পা এগলো। বুকের ভেতরটা ধড়ফড় করছে।
একদিকে ভয়, অন্যদিকে তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
আস্তে আস্তে জানলার কালো কাচটা নামল। ভেতরে যে বসে আছে, তার মুখটা একবার দেখলে ভোলা মুশকিল। চিবুকে গভীর একটা কাটা দাগ। বীভৎস দেখতে। লোকটা হাসল। হাসিটা আরও ভয়ংকর।
লোকটা বলল, ম্যাডাম, আমি শোফার। স্যার গাড়ি পাঠালেন আপনাকে পিক-আপ করার জন্য।
সারিকা জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিল, তোমার স্যার কোথায়?
কিন্তু তার আগেই জিন্সের পকেটে ফোনটা আবার ভাইব্রেশন দিয়ে উঠল। হঠাৎ এই ভাইব্রেশনে সারিকা ইলেকট্রিক শকের মতো কেঁপে উঠল।
কে ফোন করছে এই অসময়ে? স্ক্রিনে নামটা দেখে অবাক হলো।
এসিপি উদিত কাশ্যপ। ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট। এই পুলিশ কাকু তো সাইবার সেলেরও চার্জে। হঠাৎ কী দরকার পড়ল?
সারিকা ফোনটা ধরল, ইয়েস, মিস্টার কাশ্যপ।
ওপার থেকে উদিতের গলাটা কামানের গোলার মতো আছড়ে পড়ল ওর কানের ওপর, ম্যাডাম! আপনি কোথায়?
উদিতের গলায় স্পষ্ট উত্তেজনা অবাক করে দিল সারিকাকে, কেন মিস্টার কাশ্যপ? আমি আন্ধেরিতে। একটা বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।
না ম্যাডাম! খবরদার নড়বেন না। ইউ হ্যাভ টু স্টে অ্যাট হোম। ইওর লাইফ ইজ অ্যাট রিস্ক।
উদিত থামল না, একনাগাড়ে বলে গেল, হ্যাঁ ম্যাডাম। আপনার ওই ব্ল্যাকমেলার বন্ধুটি ডায়ানা লামারকে খুন করেছে। খুনির পরের টার্গেট অাপনি। আপনি আন্ধেরিতে আছেন তো? ওখানেই দাঁড়ান। নড়বেন না। এক্স্যাক্ট লোকেশনটা দিন। আশেপাশে কোনো ট্র্যাফিক পুলিশকে দেখতে পাচ্ছেন? থাকলে তাকে ফোনটা দিন—আমি ইনস্ট্রাকশন দিচ্ছি। প্লিজ কোথাও যাবেন না। আই রিপিট, স্টে দেয়ার! প্লিজ, ডোন্ট মুভ। অাই এগেইন রিপিট, ইওর লাইফ ইজ অ্যাট রিস্ক ম্যাম।
উদিতের কথাগুলো শুনতে শুনতে সারিকার চোখ গেল গাড়ির ড্রাইভারের দিকে। ওই বীভৎস মুখ! ওই চিবুকের কাটা দাগ!
এর পরে যা ঘটল, তা প্রত্যাশিত।
গাড়ির দিকে এগনর বদলে পিছিয়ে যেতে থাকল সারিকা।
সারিকার ভয়ার্ত চিৎকারেই স্যামি বুঝতে পারল, ওর গেম ওভার।
পুলিশ শুধু জেনেই যায়নি, সারিকাকে সতর্ক করেও দিয়েছে। সারিকাকে ভিড়ের মধ্যে দৌড়তে দেখে, স্যামি অার এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করল না।
কালো বিএমডব্লিউটা দানবের মতো গর্জন করে, ট্রাফিকের তোয়াক্কা না করে, নিমেষের মধ্যে হারিয়ে গেল গাড়ির ভিড়ে।
গাড়িটাকে মিলিয়ে যেতে দেখে দাঁড়িয়ে পড়ল সারিকা।
দাঁড়িয়ে রইল মূর্তির মতো।
ওর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেছে। পুলিশ না আসা পর্যন্ত ও ওখানেই দাঁড়িয়ে রইল। পথচলতি বেশ কিছু মানুষ ওকে ঘিরে ধরে জানতে চাইছে, কী হয়েছে?
ওই মুখটা সারিকা জীবনে ভুলবে না। চিবুকে কাটা দাগওয়ালা লোকটাই কি ডায়ানাকে মেরেছে? খুনি কি গাড়ির ভেতরেই বসে ছিল?
উদিত কাশ্যপ লোকাল পুলিশকে ইনস্ট্রাকশন দিল সারিকাকে দ্রুত থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য।
ততক্ষণে মুম্বাইয়ের সব ট্রাফিক পোস্টে অ্যালার্ট চলে গেছে। একটা কালো বিএমডব্লিউকে খুঁজছে পুলিশ। গাড়িটা মাথুরাদাস ভাসানজি রোড দিয়ে নিউ নাগরদাস রোডের দিকে গেছিল।
কিন্তু তারপর? তারপর যেন জাদুর মতো হাওয়া হয়ে গেল। ভ্যানিশড ইনটু দ্য ব্লু! কোথাও কোনো চিহ্ন নেই। এমন কী হতে পারে?
লেখাটি ভালো লাগলো?
এই থ্রিলার মাল্টিভার্সকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং লেখায় বাড়তি অক্সিজেন জোগাতে চাইলে সাপোর্ট করতে পারেন।
কীভাবে সাপোর্ট করবেন? →