চ্যাপ্টার ২: দ্য ডিজিটাল ব্রেকথ্রু

দুদিকের দুটো ‍ওয়াইপার জল টানতে টানতে ক্লান্ত হয়ে গেছে। বৃষ্টিটা বেশ জাঁকিয়ে এল।

রাতের কলকাতায় এমনিতেই গাড়িঘোড়া কম। এই বৃষ্টিতে তো রাস্তাঘাট একেবারেই শুনশান। রাস্তার কুকুরগুলোও কোথাও একটা লুকিয়ে পড়েছে। 

মতিলালের আনমার্কড এসইউভি-র উইন্ডশিল্ডে তখন উন্মাদ মৌমাছির ঝাঁকের মতো আছড়ে পড়ছে বৃষ্টির জল। কেবিনের ভেতরটা জাস্ট ফ্রিজিং। 

এসির টেম্পারেচার আঠারো ডিগ্রিতে সেট করে রাখতে ভালোবাসেন মতিলাল। এতে ব্রেন শার্প থাকে। শহরের পচা গন্ধটা আর ভেতরে ঢুকতে পারে না।

প্যাসেঞ্জার সিটে বসে আছে বিক্রম, ঠিক যেন কালো পাথরে খোদাই করা একটা মূর্তি। ওর ব্রিদিং একদম স্লো, মেট্রোনোমিক রিদম। যেন টার্মিনেটরের অ‍ার্নল্ড শোয়ারজেনেগার।

ফোর সেকেন্ডস ইন। ফোর সেকেন্ডস আউট। কম্যান্ডো কন্ডিশনিং জিনিসটা রক্ত থেকে কোনোদিন যায় না। গ্লাভস পরা হাতে ও একটা ক্লিয়ার, প্লাস্টিক এভিডেন্স ব্যাগ ধরে আছে। ব্যাগের ভেতর একটা ফাটা, সস্তা স্মার্টফোন।

রাকেশ এটা পিজির জন্য দিল, বিক্রম নিচু গলায় বলল।

রাকেশ ছেলেটা ভারি ভালমানুষ ভায়া, বৃষ্টিতে ভেজা স্লিক, কালো অ্যাসফাল্টের দিকে চোখ রেখেই মতিলাল জবাব দিলেন, বেচারার মিডিয়া ফলআউট সামলাতে গিয়েই তো ঘাম ছুটে যাচ্ছে, ঘর আর সার্চ করবে কখন! তা পেল কোথায় এটা?

করিডোরের শেষের টয়লেট ট্যাঙ্কের ঠিক নিচে টেপ দিয়ে আটকানো ছিল। বেরোনোর সময় অ‍ামারই চোখে পড়ল। রাকেশকে দিতে বলল, এতো পিজির ডিপার্টমেন্ট, ভাই। তুই ওটা পিজির কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা কর। ব্যাগটা ওল্টাতে ওল্টাতে বিক্রম বলল, স্ট্যান্ডার্ড বার্নার। চাইনিজ মেক। কিন্তু বড্ড ভারী। মডিফায়েড ব্যাটারি। কেউ একজন হার্ডওয়্যারটা পুরো চেঞ্জ করে এর ভেতর কাস্টম লজিক বোর্ড ইন্সটল করেছে। যদিও পিজি এটা অ‍ারও ভাল বলতে পারবে।

মতিলালের মুখে কোনো রিঅ্যাকশন নেই। উনি জাস্ট ড্যাশবোর্ড কনসোলের একটা বাটনে ট্যাপ করলেন, ধরে ফেললেন পিজিকে। বললেন, পিজি, টেল মি ইউ আর অ্যাওয়েক।

অ্যাওয়েক? স্পিকারে ফাটাফাটি হাই-অকটেন এনার্জি নিয়ে ভেসে এল পিজির গলা, চিফ, ঘুম জিনিসটা একটা আউটডেটেড বায়োলজিক্যাল কনসেপ্ট। আমি এই মুহূর্তে একটা ভেজিটেবল স্যান্ডউইচ চিবোতে চিবোতে একটা প্রোপ্রাইটারি ফায়ারওয়ালের কার্নেল রিরাইট করছি। বলুন, আমার জন্য কী এনেছেন?

মাইল খানেক দূরে, সল্টলেক সেক্টর ফাইভের হার্টে নিজের ডিজিটাল কিংডমে সিংহাসনে বসে আছে পিজি। ও যে কখন ঘুমোয়, কখন জাগে, তা এই পৃথিবীতে দুজন জানে – স্বয়ং ওর সৃষ্টিকর্তা অ‍ার ও নিজে।

অন্ধকার ঘর, শুধু ছ-টা কার্ভড মনিটরের স্টেরাইল নীল আলোয় আলোকিত। 

মতিলাল, বিক্রমের পাশাপাশি এখন রাকেশও জেনে গেছে, পিজি একজন কত বড় জিনিয়াস। ও এমন একজন প্রডিজি, যে অ‍ামেরিকায় বসে চোদ্দো বছর বয়সে নেহাতই জাস্ট মজা করার জন্য একটা ডিফেন্স কন্ট্রাক্টরের সার্ভার হ্যাক করে বসেছিল। সেই নিয়ে সেই সময় প্রচুর ঝামেলা হয়েছিল। কিন্তু মাইনর হওয়ায় পিজিকে খুব বেশি কেস খেতে হয়নি।

তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। সারা পৃথিবী জুড়ে বহু এ অ‍াই ডেটা সেন্টার বানানোর পর পিজির মনে হল এবার দেশে ফিরে অন্যরকম কিছু করা যাক। 

তারপর থেকেই বিক্রম অ‍ার মতিলালের সঙ্গে পাকাপাকিভাবে একটা গাঁটছড়া বাঁধার সিদ্ধান্ত। বলা যেতে পারে, ক্রিমিনাল এবং ক্রাইম ক্র্যাক করার ক্ষেত্রে পিজি হচ্ছে ওদের ডিজিটাল মাইন্ড।

নিজের অপারেটিং সিস্টেমে কাজ করে পিজি। নো কর্পোরেট ব্যাকডোরস। জাস্ট পিওর, ওপেন-সোর্স ফ্রিডম।

পিজির গলা ভেসে এল, বলুন মতিবাবু, অ‍ামার জন্য ক্রাইম স্পট থেকে কী এনেছেন?

তোমার বন্ধু একটা ফোন পেয়েছে ভায়া, খুকখুক করে হাসলেন মতিলাল, তাঁর গলায় কোনো ইমোশন নেই, বললেন, এটা খুন হয়ে যাওযা নন্দিনীর ফোন। আমরা ওটা তোমার কাছেই নিয়ে আসছি।

অ‍াবার অত কষ্ট করবেন কেন মতিবাবু, পিজি বলল। 

লাইনের ওপারে অ্যাগ্রেসিভ টাইপিংয়ের শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। 

পিজি বলল, টাইম ইজ ডেটা, চিফ। ডেটা ইজ মানি। গ্লাভবক্সের ভেতরে যে ডায়াগনস্টিক কেবল আছে, ওটায় ফোনটাকে প্লাগ-ইন করে দিন। আমি এখান থেকেই রিমোট অ্যাক্সেস নিচ্ছি।

বিক্রম গ্লাভ কম্পার্টমেন্টটা খুলে একটা মোটা, ব্রেইডেড ইউএসবি-সি কেবল বের করে এসইউভির হিডেন টার্মিনালে বার্নার ফোনটা প্লাগ-ইন করে দিল।

কানেক্টিং… পিজি বিড়বিড় করল। তারপরেই অ‍াছড়ে পড়ল ওর চমকে যাওয়া গলা, ওহ, ওহ, ওয়াও।

ওয়াও কোনো প্রফেশনাল টার্ম নয়, পিজি, মতিলাল মজা করে বললেন।

ওয়াও ইজ দ্য ওনলি টার্ম, চিফ। এই ফোনটা একটা ফোর্ট্রেস। এতে কোনো স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড্রয়েড রান করছে না। এটা একটা কাস্টম-বিল্ট লিনাক্স শেল। টু ফিফটি সিক্স-বিট এইইএস এনক্রিপশন। জাইরোস্কোপের সাথে একটা সেলফ-ডেস্ট্রাক্ট প্রোটোকল ওয়্যার্ড করা আছে। যদি হাত থেকে পড়ে যেত, বা লক স্ক্রিন বাইপাস করার ট্রাই করতে, এটা মাইক্রোসেকেন্ডের মধ্যে নিজের ফ্ল্যাশ মেমরি পুরো ওয়াইপ আউট করে দিত। পিজি গলায় তখনও বিষ্ময় কাটেনি।

ওরে অ‍ামাদের টেকনিক্যাল জারগন শোনাস না। সোজা বাংলাটা বল, ক্র্যাক করতে পারবি কি না বল?  বিক্রম জিজ্ঞেস করল।

অ‍ামি ইনসাল্টেড ফিল করছি ভায়া, পিজি মতিলালের গলা নকল করে বলল, আমি ইন্টারনেটের দরজায় তালা মারি বস। গিভ মি এক্স্যাক্টলি ফোর মিনিটস।

কলকাতার জনশূন্য রাস্তা চিরে এসইউভি-টা ছুটে চলেছে, টায়ারগুলো রাতের অন্ধকারে নোংরা জলের ফোয়ারা ছড়াচ্ছে। 

ক্যালকুলেটেড অ্যাগ্রেশনের সাথে ড্রাইভ করছেন মতিলাল, ফিজিক্সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এমন সব অ্যাঙ্গেলে কর্নার নিচ্ছেন, অথচ স্টিয়ারিং হুইলে তার হাত প্রায় নড়ছেই না। হঠাৎ দেখলে মনে হতে পারে তিনি স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে ঘুমিয়ে পড়েছেন।

তিন মিনিট চল্লিশ সেকেন্ড পর, ড্যাশবোর্ডের স্ক্রিনটা ফ্লিকার করে উঠল। ডিজিটাল বৃষ্টির মতো সবুজ কোডের লাইনগুলো ডিসপ্লের ওপর দিয়ে ক্যাসকেড করতে শুরু করল।

আই অ্যাম ইন, পিজি অ্যানাউন্স করল, গলায় পারফেক্টলি মজার সুর, রুট ডিরেক্টরি বাইপাস করে দিয়েছি। ক্যাশে এক্সট্র্যাক্ট করছি এখন। হোলি মাদার অফ মেটাডেটা। চিফ, ইউ নিড টু সি দিস। আমি ড্যাশ স্ক্রিনে ইন্টারফেসটা মিরর করে দিচ্ছি।

সবুজ কোডগুলো উধাও হয়ে গেল। তার জায়গায় স্ক্রিন জুড়ে পরপর টেক্সট মেসেজ, অডিও ট্রান্সক্রিপ্ট আর পিডিএফ ফাইল পপ-আপ করতে লাগল।

ভায়া, এসব দেখে অ‍ামরা কী বুঝব? আমাদের বুঝিয়ে বলো ব্যাপারটা, মতিলালের গলা করুণ শোনাল।

এটা কোনো রাস্তার পাতি ডাকাতের গ্যাং নয়, পিজির গলা এখন প্লেফুল থেকে ডেডলি সিরিয়াস। একটু পিজি থামল পিজি। সময় নিল সম্ভবত গোটা ব্যাপারটা হজম করতে। তারপর বলল, দিস ইজ আ রোগ স্টার্টআপ। এখন বোঝা যাচ্ছে, এইসব ডাকাতিগুলোর পেছনে কোনও বড় ব্লু-প্রিন্ট রয়েছে। তাই ওরা এত অর্গানাইজড। এটা জানা যাচ্ছে ওদের চ্যাট লগগুলো দেখলে।

বিক্রম সামনের দিকে একটু ঝুঁকল, তার তীক্ষ্ণ চোখ স্ক্রিনের রোলিং টেক্সটগুলো স্ক্যান করছে।

ওরা নিজেদের কোড করা একটা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ইউজ করে, পিজি ব্যাপারটা অ‍ারও একটু এক্সপ্লেইন করল, দেখুন মতিবাবু, আমি ওদের সার্ভার-সাইড ব্যাকআপগুলো রিড করছি। ওদের ল্যাঙ্গুয়েজটা দেখুন। এরা রাস্তার গুন্ডাদের মতো কথা বলে না। প্রজেক্ট ম্যানেজারদের মতো কথা বলে। ব্যাঙ্ক রবারিগুলোকে ওরা স্প্রিন্টস বলে। সিসিটিভি জ্যামিংয়ের নাম দিয়েছিল ফেজ ওয়ান ডেপ্লয়মেন্ট।

মতিলালের ভুরু কুঁচকে গেল। তিনি একবার বিক্রমের দিকে তাকালেন। দেখলেন বিক্রমেরও ভুরূ কুঁচকে রয়েছে।

প্রোফাইলগুলো দেখা, বিক্রম বলল।

ওকে, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট পুল করছি, পিজি বলতে লাগল, আমরা জানি শ্যামল ছিল লিডার। কিন্তু বাকি তিনজন? ওরা হচ্ছে মডার্ন এডুকেশন সিস্টেমের জ্যান্ত ট্র্যাজেডি। বিভূকে দ্যাখো। সে হচ্ছে ডেমোলিশনস গাই। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি-টেক। নিজের ক্লাসের টপার ছিল ছেলেটা। চুয়াত্তরটা কর্পোরেট জবে অ্যাপ্লাই করেছিল। সবকটা থেকে রিজেক্টেড। কারণটা এখনই ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। 

আর তাই এখন ও বম্ব বানায়? বিক্রমের গলা হিমশীতল।

জাস্ট বম্ব নয়। প্রিসিশন এক্সপ্লোসিভস, পিজি কারেক্ট করে দিল। অ্যাডভান্সড ফিজিক্স ইউজ করে ও ব্লাস্ট রেডিয়াস ক্যালকুলেট করে। তারপর আছে অজয়। কলেজ ড্রপআউট। মাত্র দুটো সেমিস্টার অ্যাফোর্ড করতে পেরেছিল। ওর বাবার স্ট্রোক হয়, আর মেডিক্যাল বিলের ধাক্কায় ওরা ব্যাঙ্করাপ্ট হয়ে যায়। হি ইজ দ্য লজিস্টিক্স গাই। মিউনিসিপ্যাল ট্র্যাফিক অ্যালগরিদম ইউজ করে ও গেটওয়ে রুটগুলো চার্ট করে।

আর তিন নম্বর? মতিলাল জিজ্ঞেস করলেন।

নীরব, পিজি বলল। হ্যাকারের গলায় একটা স্লাইট হেজিটেশন। মাস্টার অফ আর্টস। সাইকোলজি আর পলিটিক্যাল সায়েন্সে ডাবল মেজর। হি ইজ দ্য ব্রেনস। ওই ওদের ম্যানিপুলেট করেছে। গ্রুপে করা ওর টেক্সটগুলো দেখলে সেটা বোঝা যায়।

ড্যাশবোর্ডের স্ক্রিনে পিজি একটা সিঙ্গল মেসেজ এক্সপ্যান্ড করল।

ভেসে উঠল নীরবের বাণী – সিস্টেম আমাদের অপর্চুনিটি থেকে বঞ্চিত রেখে আমাদের কাছ থেকে ওবিডিয়েন্স ডিমান্ড করে। আমরা চুরি করছি না ভাইসব। আমরা একটা করাপ্ট এস্টাবলিশমেন্টকে অডিট করছি। এই সোনাটা আমাদের পাওনা। এটা আমাদের ডিলেড স্যালারি।

ও ওদের ব্রেনওয়াশ করে র‍্যাডিকালাইজড করে দিয়েছে, বিক্রম সিটে হেলান দিয়ে দেখতে দেখতে বলল, ও ওদের ফ্রাস্ট্রেশন, ওদের আনএমপ্লয়মেন্টকে হাতিয়ার করে একটা ক্রুসেড বানিয়ে দিয়েছে। 

মতিলাল যোগ করলেন, ওদের দাঁড়ানোর জন্য একটা মরাল হাই-গ্রাউন্ড তৈরি করে দিয়েছে নীরব।

একজ্যাক্টলি, পিজি বলল। ওরা নিজেদের গিল্টি মনে করে না। দে ফিল জাস্টিফায়েড। ওরা নিজেদের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী রবিনহুড ভাবে। বাট ইট গেটস ওয়ার্স।

প্লিজ এনলাইটেন অ‍াস পিজি, ঠাণ্ডা গলায় বললেন মতিলাল। অ‍াসলে গোটা ব্যাপারটার গভীরতা এখন তিনি বুঝতে পারছেন। এটাও বুঝতে পারছেন, পিজি না থাকলে এই টেকনিকালি হাই-এন্ডের কাজকর্মগুলো ধরতে ধরতে পাখি উড়ে যেত।

ফোনের অ্যালোকেটেড মেমরির আরও গভীরে ঢুকলাম আমি, পিজি কন্টিনিউ করল, স্পিকারে ওর টাইপিংয়ের শব্দ ইকো হতে লাগল, সেই সঙ্গে ভেসে অ‍াসতে লাগল ওর গলা, নন্দিনী শুধু শ্যামলের গার্লফ্রেন্ড ছিল না। শি ওয়াজ দ্য কনসায়েন্স অফ দ্য গ্রুপ। ও পালাতে চাইছিল। ও সমানে শ্যামলকে টেক্সট করছিল, টাকার ভাগ নিয়ে নেপালে পালিয়ে যাওয়ার জন্য রিকোয়েস্ট করছিল। কিন্তু নীরবের সামনে রুখে দাঁড়ানোর মতো হিম্মত শ্যামলের ছিল না।

মনে হচ্ছে নীরব ওদের এই প্ল্যানটা জেনে গেছিল, বিক্রম বলল।

বিঙ্গো, পিজি কনফার্ম করল, ফোনের ট্র্যাশ সেক্টর থেকে আমি জাস্ট একটা ডিলিটেড এফিমেমেরাল টেক্সট থ্রেড রিকভার করলাম। নীরব ডিরেক্টলি নন্দিনীকে মেসেজটা পাঠিয়েছিল। তোমরা বডি পাওয়ার ঠিক তিন ঘণ্টা আগে।

স্ক্রিনটা আবার ফ্লিকার করল। কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদা হরফে একটা রক্ত জল করা টেক্সট মেসেজ ফুটে উঠল।

নীরব লিখেছে – তুমি এমন একটা ভ্যারিয়েবল যাকে আমরা আর কন্ট্রোল করতে পারছি না নন্দিনী। ভ্যারিয়েবলস সমীকরণকে কম্প্রোমাইজ করে দেয়। শ্যামল তোমাকে ভালোবাসে, কিন্তু ও মিশনকে আরও বেশি ভালোবাসে। অ‍ামি তোমার সঙ্গে কথা বলতে চাই। অ‍ামার অ‍াশা, তোমার ভুলটা তোমাকে বোঝাতে পারব।

ভুল ঠিক করার দায়িত্ব নিয়ে ও অ‍াসেনি, মতিলাল সফটলি বললেন, ও গেছিল একটা গ্যারোট ওয়্যার নিয়ে, যা দিয়ে নন্দিনীকে শ্বাসরোধ করে মারে।

অ‍াসলে নীরব এখন হাউস ক্লিন করছে, পিজি বলল, এনক্রিপ্টেড লাইনের ওপারে সিচুয়েশনের গ্র্যাভিটিটা বেশ বোঝা যাচ্ছে। শ্যামল পুলিশের জালে, গ্যাং এখন লিডারলেস। কিন্তু নীরব কোনওদিনই শ্যামলের পরোয়া করেনি। ও শুধু বাকি লুট আর নিজের সারভাইভাল নিয়ে ভাবছে। ও নন্দিনীকে মেরেছে যাতে মেয়েটা পুলিশের সাথে কোনো প্লি ডিল করে রাজসাক্ষী হতে না পারে।

বিক্রম এক মাইক্রোসেকেন্ডের জন্য চোখ বন্ধ করে ক্রাইম সিনটা আবার ভিজুয়ালাইজ করল। 

লক করা দরজা। কোনো স্ট্রাগল না থাকা। পরিপাটি করে বাঁধা ডান জুতো আর তাড়াহুড়ো করে গোঁজা বাঁ জুতো।

গাইজ, পিজির গলাটা হঠাৎ তীক্ষ্ণ শোনাল, বিক্রম যে ট্রেনের টিকিটের স্টাবটা পেয়েছে, সেটার ইমেজের ভেতরকার লোকেশন মেটাডেটা আমি জাস্ট এইমাত্র পিং করলাম।

ডেস্টিনেশন কোথায়? মতিলাল জিজ্ঞেস করলেন।

ওটা ওর পালানোর টিকিট ছিল না, পিজি ফিউরিয়াসলি টাইপ করছে। ওটা একটা ক্লু যেটা ও পেছনে ফেলে রেখে গেছে। আ ফাইনাল অ্যাক্ট অফ ডেফিয়েন্স। স্টাবের ওপরের কিউআর কোডটা বারাণসী ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনের একটা ডিজিটাল লকারের সাথে লিঙ্কড।

বারাণসী। ঘাটের শহর। মৃত্যুর শহর।

নীরব নিজেকে জিনিয়াস ভাবে, মতিলাল অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিলেন। গর্জে উঠে একটা খাঁচায় বন্দি জন্তুর মতো সামনের দিকে ছিটকে গেল এসইউভি। 

বিড়বিড় করে বললেন, নীরবের ধারণা ওর এডুকেশন ওকে আনটাচেবল করে রেখেছে। ও ভাবে ও সবকটা ভ্যারিয়েবল ক্যালকুলেট করতে পারে।

হি মিসক্যালকুলেটেড, ভিজে একসা হয়ে ব্লার হয়ে যাওয়া রাস্তার দিকে তাকিয়ে বিক্রম বলল, ও ওর ইকুয়েশনে আমাদের ফ্যাক্টর করেনি।

দমদম এয়ারপোর্ট থেকে ফার্স্ট কার্গো ফ্লাইটে আমি তোমাদের দুজনের টিকিট বুক করছি, পিজি বলল। চল্লিশ মিনিট পর ছাড়বে। ক্রেটগুলোর ওপর শুয়ে ঘুমিয়ে নিতে পারো।

ঘুম জিনিসটা, মতিলালের গলা খসখস করে উঠল, একটা আউটডেটেড বায়োলজিক্যাল কনসেপ্ট ভায়া। জাস্ট গেট আস ইন দ্য এয়ার, পিজি।

ড্যাশবোর্ডের স্ক্রিনটা অন্ধকার হয়ে গেল। 

যথার্থই একটা ডিজিটাল ব্রেডক্রাম্ব পাওয়া গেছে, কনজিউমড, অ্যান্ড ডাইজেস্টেড। এখন বাকি শুধু শিকার। 

আর বিক্রম এবং মতিলালের কাছে, এই পাগল হয়ে যাওয়া দুনিয়ায় ওই শিকার ছাড়া আর কোনো কিছুরই কোনও মানে হয় না।

গল্পটি ভালো লাগছে? পরের পর্ব পড়ুন:

পরবর্তী পর্ব: চ্যাপ্টার ৩: হাতে সময় কম →

Leave a Comment