মুম্বাই পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে কমিশনারের অফিস। পালিশ করা সেগুন কাঠ আর ঠান্ডা লেদারের এক দুর্গ। রিইনফোর্সড গ্লাসের জানলার ধারে দাঁড়িয়ে আছেন কমিশনার রাকেশ আগরওয়াল। নিচে ক্রফোর্ড মার্কেটের ট্র্যাফিক। সেদিকে তাঁর দৃষ্টি নেই। তিনি গাড়িগুলো দেখছেন না। তাঁর চোখে ভাসছে ছাব্বিশ বছরের একটা মেয়ের মুখ। রোজি।
ঘটনাচক্রে রোজি তাঁর নিজের বোনেরই মেয়ে। এটা দেশমুখের কেন, কারও জানার কথা নয়। একমাত্র মিনিস্টার সাহেব জানেন, রোজির মায়ের সঙ্গে মন্ত্রী রাজেশ প্যাটেলের দাদার বিয়ে হয়েছিল। রোজি একইসঙ্গে মন্ত্রীর ভাইঝি এবং একইসঙ্গে তাঁরও বোনঝি। বড় ভাল মেয়ে ছিল রোজি।
রাগে কমিশনারের হাতের মুঠো শক্ত হয়ে আঙুলের গাঁটগুলো সাদা হয়ে উঠল। যতটুকু বোঝা যাচ্ছে, এটা পরিস্কার হোমিসাইড। নইলে ঠিক ওই সময়ের সিসিটিভি গায়েব হবে কেন? এটা একটা চরম পেশাদারদের কাজ। অাজকাল এমন খুন হচ্ছে। রাস্তাঘাটে গুলি চালিয়ে চম্পট দিয়ে তিন দিনের মধ্যে ধরা পড়ে যাওয়ার দিন শেষ।
এখন খুনের ধরন বদলেছে।
ভারী ওক কাঠের ডেস্কের ওপর একটা সিকিওর ল্যান্ডলাইন ব্লিঙ্ক করছে। পাত্তা দিলেন না রাকেশ। বুকের ভেতরের ঠান্ডা রাগটা জমতে দিচ্ছেন তিনি। বরফের মতো শক্ত হচ্ছে সেটা। পুলিশের স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিওর এখানে ফেল করবে। ইনস্পেক্টর দেশমুখ লোক ভালো। কিন্তু ও একজন স্ট্রিট কপ। ওর কাজ ওইসব ছিঁচকে গুন্ডাদের ধরা যারা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ফেলে যায়, ওয়েপন ফেলে পালায়, প্যানিক করে।
যে জিনিসটা রোজিকে খুন করেছে, সে প্যানিক করেনি।
জানলা থেকে ঘুরলেন রাকেশ। অফিশিয়াল ফোনটা ছুঁলেন না। দেওয়ালের গায়ে বসানো ভারী বায়োমেট্রিক সেফ খুললেন। ভেতরে একটা ম্যাট-ব্ল্যাক স্যাটেলাইট ফোন। একেবারে অফ-দ্য-গ্রিড ডিভাইস। স্টেট টেলিকম সার্ভারে এর কোনো লগ থাকে না।
একটা হাইলি এনক্রিপ্টেড নম্বরে ডায়াল করলেন তিনি। ঠিক দু’বার রিং হলো।
বলুন, ওপাশ থেকে আওয়াজ এল। গলার স্বর তীক্ষ্ণ। কোনো উত্তাপ নেই। এমন এক মানুষের গলা, যার কারবার শুধুমাত্র ফ্যাক্টস নিয়ে।
আমি রাকেশ বলছি মতিলাল, কমিশনারের গলাটা খাদে নেমে একটা ফিসফিসানিতে পরিণত হলো, একটা ফেবার চাই।
লাইনে এক মাইক্রোসেকেন্ডের স্তব্ধতা।
তারপর ভেসে এল কলকাতার চিফ ডিটেকটিভ, ইন্সপেকটর মতিলাল মিস্ত্রীর গলা, তুমি ডার্ক লাইনে কল করছ, রাকেশ। হঠাৎ কী এমন ঘটল?
আমার বোনঝি, রোজি, ঢোঁক গিললেন রাকেশ। তারপর গলা থেকে আবেগটুকু জোর করে মুছে ফেলে বললেন, কাল রাতে মার্ডার হয়েছে। ভারুচ ওয়েস্ট। চোদ্দ তলা। হাই-সিকিউরিটি বিল্ডিং। অপরাধী কোনও চিহ্ন রাখেনি।
কজ অফ ডেথ কিছু অান্দাজ পেলে?
এম ই বলছে ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। ইট লুকস ন্যাচারাল কজেস, কমিশনার অাগরওয়াল থেমে থেমে বললেন।
কিন্তু অল্পবয়সী একটা মেয়ের ন্যাচারাল কজেস তুমি বিলিভ করো না, মতিলাল নরম গলায় বলে উঠলেন, এটা কোনো প্রশ্ন নয়। এটা একটা লজিক্যাল ডিডাকশন।
আমি আমার চোখকে বিলিভ করি, মতিলাল, ডেস্কের ওপর ঝুঁকে পড়ে বললেন রাকেশ।
বুঝে গেছি। ঠিক অাছে, ক্রাইম সিনের ফাইলগুলো অামাকে পাঠাও, নির্দেশ দিলেন মতিলাল।
এগুলো হাইলি ক্লাসিফায়েড, মতিলাল। তোমার জুরিসডিকশনের বাইরে। হোম মিনিস্ট্রি যদি জানতে পারে আমি তোমাকে ডেকেছি .., একটু ইতস্তত করলেন কমিশনার।
তুমি জুরিসডিকশন নিয়ে ডিসকাস করার জন্য ডার্ক লাইনে কল করোনি, রাকেশ, রাকেশের দ্বিধাটা চিরে দিয়ে থামিয়ে দিলেন মতিলাল, তুমি কল করেছ কারণ তোমার শহরে একটা ঘোস্ট ঢুকেছে। আর তুমি জানো স্ট্যান্ডার্ড ডিটেকটিভরা ভূত শিকার করতে পারে না। ফাইলগুলো সেন্ড করো।
মতিলালের অফিসে একটা হালকা পিং শব্দ হলো। ওঁর প্রাইভেট সার্ভারে এসে পৌঁছল এনক্রিপ্টেড ডেটা প্যাকেট।
ওপেন করো, লাইনে রাকেশের ভারী শ্বাসপ্রশ্বাস শোনা গেল, বলো কী দেখছ।
মাউস ক্লিক করলেন মতিলাল। রোজির ফ্ল্যাটের হাই-রেজোলিউশন ছবিতে ভরে গেল স্ক্রিন। চোখের পলক পড়ল না তাঁর। ঘরের জিওমেট্রি স্ক্যান করছে তাঁর চোখ। মর্মান্তিক দৃশ্যটাকে ডিসেক্ট করে পরিণত করছে র, কোল্ড ডেটা পয়েন্টে।
ইমেজ ওয়ান। লিভিং রুম, মতিলালের গলা একদম ফ্ল্যাট, মেকানিক্যাল। মার্বেলের মেঝেতে বডিটা চিৎ হয়ে পড়ে আছে। দু’হাত দু’পাশে শান্তভাবে রাখা। ফোর-আর্মে কোনো ডিফেন্সিভ ব্রুইজিং নেই। ব্রোকেন ফিঙ্গারনেইলস নেই।
এক্সাক্টলি। এম ই বলছে ও জাস্ট কোলাপ্স করেছে।
এম ই একটা ইডিয়ট, তীক্ষ্ণ গলায় জবাব দিলেন মতিলাল, ওরা হিসেবের বাইরে হাঁটে না।
ছবির একটা স্পেসিফিক কোয়াড্র্যান্ট জুম করলেন তিনি, বললেন, মেঝেতে জলের গ্লাসটা দেখো, রাকেশ। ওর ডান হাত থেকে প্রায় বারো ইঞ্চি দূরে।
দেখছি। হার্ট অ্যাটাক হিট করার সময় হাত থেকে ড্রপ করেছে।
ফিজিক্স তা বলছে না, মতিলাল বললেন। মানুষের শরীরে যখন সাডেন, ম্যাসিভ মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন হয়, তখন পতনটা খুব কেওটিক হয়। মাসল স্প্যাজম হয়। সেন্টার অফ গ্র্যাভিটি ভায়োলেন্টলি শিফট করে। পড়ার সময় ওর হাতে যদি গ্লাসটা থাকত, সেটা শ্যাটার করত। অথবা অন্তত গড়িয়ে যেত। অনেকটা রেডিয়াস জুড়ে জল ছড়াত।
মতিলাল আরও ক্লোজ জুম করলেন। গ্লাসটা একদম পারফেক্টলি সোজা হয়ে আছে। ঠিক ওর গোড়ায় নিট, ছোট্ট একটা জলের ফোঁটা। ওটা ড্রপ করেনি, রাকেশ। ওটাকে ওখানে প্লেস করা হয়েছে।
স্যাটেলাইট লাইনে এক ভারী স্তব্ধতা ঝুলতে লাগল।
কেউ ওকে ধরে ফেলেছিল, ফিসফিস করে উঠলেন রাকেশ, মাই গুডনেস।
রিয়ালাইজেশনটা একটা ফিজিক্যাল ব্লো-এর মতো হিট করল তাঁকে।
ইয়েস, কেউ ওকে ধরেছিল। ইনস্ট্যান্টলি নিউট্রালাইজ করেছে। স্কাল ট্রমা প্রিভেন্ট করতে সাবধানে মাটিতে শুইয়ে দিয়েছে। তারপর সাডেন কোলাপ্স মিমিক করার জন্য গ্লাসটাকে স্টেজ করেছে, শুধরে দিলেন মতিলাল।
নেক্সট ফাইল খুললেন। সিকিউরিটি লগস।
ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্ট ওপেন করলেন মতিলাল। বাইনারি রিডআউট আর সিস্টেম অ্যাক্সেস কোডের ওপর দিয়ে ডার্ট করল তাঁর চোখ।
ফ্ল্যাটের স্মার্ট-হাবে একটা মাইক্রো-ব্ল্যাকআউট হয়েছে, নোট করলেন মতিলাল। ঠিক দশ মিনিটের লোকালাইজড স্ট্যাটিক। রাত ১:৫৮ থেকে ২:১০-এর মধ্যে। বাইরে থেকে বায়োমেট্রিক ডোর লক এনগেজ করা হয়েছে ঠিক ১:৫২-এ। যে খুলেছে সে নিজের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডেটার একটা ক্লোন ইউজ করেছে।
তোমার টিম কি ক্লোনটা ট্রেস করতে পারবে, মতিলাল? অসহায় শোনাল কমিশনারের গলা।
দ্যাখো, রাকেশ, তোমার টিমও পারবে না। লোকাল পুলিশের টেকনোলজি এক্ষেত্রে ইউজলেস। এটা একটা জিরো-ডে এক্সপ্লয়েট। মিলিটারি-গ্রেড, চেয়ারে হেলান দিয়ে বললেন মতিলাল।
তাঁর মাথায় ধাঁধাটা ধীরে ধীরে অাকার নিচ্ছে। খুব ডার্ক একটা পাজল।
একটু থেমে তিনি বললেন, রাকেশ, কেয়ারফুলি শোনো। স্ট্রিট থাগ মিলিটারি এনক্রিপশন ইউজ করে না। ভাড়াটে খুনি এত ক্লিনিক্যাল পারফেকশনের সাথে হার্ট অ্যাটাক স্টেজ করে না। এটা মার্ডার নয়। এটা অ্যাসাসিনেশন বাই এ স্পেশালিস্ট মার্সেনারি।
ছাব্বিশ বছরের একজন আর্কিটেক্টের ওপর কে অ্যাসাসিনেশন অর্ডার দেবে? রাকেশের গলা হতাশায় বুজে গেল।
তিনি বললেন, বিশ্বাস করো মতিলাল, বড় ভালো মেয়ে ছিল রোজি। ওকে সবাই ভালবাসত। তাছাড়া ওর কাছে এমন কিছু টাকা-পয়সাও ছিল না যার লোভে ওকে কেউ মারবে। ওর মা, অামার বোন, ক্যান্সার পেশেন্ট। রোজি একা সামলাত। তাছাড়া ওর কোনও আন্ডারওয়ার্ল্ড টাইস ছিল না। পলিটিকাল কানেকশন ছিল না! যদিও ওর কাকাও এখানে মিনিস্টার। কিন্তু মেয়েটা কোনওদিন কারও কাছ থেকে একফোঁটা হেল্প নেয়নি, চায়নি। সাচ এ ব্রেভ, ইনোসেন্ট গার্ল। কে ওকে এভাবে মারবে?
দ্যাট, ঠান্ডা গলায় বললেন মতিলাল, ইজ হোয়াট উই আর গোয়িং টু ফাইন্ড আউট। তবে ডেস্কের পেছনে বসে এ কাজ পসিবল নয়। আমি মুম্বাই আসছি। টুনাইট। অামার সঙ্গে অারও দুজন থাকবে। কে সেটা গোপনই থাক। ডোন্ট ওয়ারি রাকেশ, তুমি অামার ব্যাচমেট ছিলে। কেউ অন্যায় ফেবার না চাইলে মতিলাল মিস্ত্রী তাকে ফেরায় না।
আমি একটা ডিসক্রিট সেফ হাউসের ব্যবস্থা করছি, সাথে সাথে অফার করলেন রাকেশ। আমার বেস্ট প্লেনক্লোদস অফিসারদের একটা স্কোয়াড দিচ্ছি।
নো, ফ্ল্যাটলি রিজেক্ট করে দিলেন মতিলাল, তোমার লোকগুলো স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিওরে কম্প্রোমাইজড। ওরা পেপার ট্রেইল ছাড়ে। নয়েজ মেক করে। এভিডেন্স যা বলছে খুনি যদি ততটাই এক্সপার্ট হয়, তবে পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে ওরা পুলিশের টেল স্পট করে ফেলবে।
তাহলে এই খুনীকে হান্ট করার প্ল্যান কী তোমার? রাকেশ জিজ্ঞেস করলেন।
আমি নিজের অ্যাসেট আনছি, ইমেজ ফাইলগুলো ক্লোজ করে জবাব দিলেন মতিলাল। আমার যেটা দরকার, সেটা মন দিয়ে শোনো। সিটির গ্রিডে ফুল, আনরেস্ট্রিক্টেড অ্যাক্সেস লাগবে। ট্র্যাফিক ক্যামেরা, সেলুলার টাওয়ার, ব্যাঙ্কিং নোডস, এভরিথিং। আমাকে মুম্বাইয়ের ব্যাকডোর কি-গুলো দিয়ে দাও, রাকেশ। আর অাপাতত কয়েকটা দিন তুমি অন্য দিকে তাকিয়ে থাকো। ইটস অা ড্যাম গুড কেস। কিন্তু তোমার কাছে যা শুনলাম, তাতে মেয়েটার জন্য সত্যি খারাপ লাগছে।
ডান। জাস্ট… বাস্টার্ডটাকে খুঁজে বের করো, মতিলাল। ওকে শেষ করো। এতক্ষণে রাকেশের গলা অাবেগে কেঁপে গেল।
আমি ওদের ডাউন করি না, রাকেশ। আমি ওদের ইরেজ করে দিই। স্টে অফ দিস চ্যানেল।
কলটা টার্মিনেট করলেন মতিলাল। অফিসে আবার সেই স্তব্ধতা ফিরে এল। ভারী, থমথমে। তিনি উঠে দাঁড়ালেন। গ্লাসের বাকি গরম জলটুকু ছোট সিঙ্কে ঢেলে দিলেন। তুলে নিলেন একটা সেকেন্ডারি, আনট্রেসেবল মোবাইল ডিভাইস।
গেম ইজ অন। বোর্ড সেট হয়ে গেছে।
কিন্তু একটা ভূতকে ধরতে হলে তাঁর নিজেরও একটা ফ্যান্টম দরকার। আর যে লোকটা এই কাজ করেছে তাকে ব্রেক করতে গেলে, তাঁর একটা মজবুত অস্ত্রেরও দরকার।
ফার্স্ট নাম্বারটা ডায়াল করলেন তিনি। ইনস্ট্যান্টলি কানেক্ট হলো।
পিজি ভায়া, মতিলাল বললেন।
অন্য প্রান্তে, কুড়িটা আলাদা আলাদা সার্ভার মনিটরের আলোয় গ্লো করছে একটা বেসমেন্ট। সেখানে নিজের র্যাপিড টাইপিং পজ করল প্রকাশ গুপ্ত। অ্যাকাডেমিক দুনিয়ায় সে প্রকাশ। হ্যাকারদের অদৃশ্য জগতে পারফেক্ট জেন্টলম্যান, আর আন্ডারওয়ার্ল্ডের কাছে ডিজিটাল গড। হেডসেটটা অ্যাডজাস্ট করল পিজি। বলল, মতিবাবু। অাপনি এই ফ্রিকোয়েন্সিতে খুব রেয়ারলি কল করেন। কেউ ডেড, অথবা ভেরি রিচ। কোনটা?
ডেড। মুম্বাই। তোমার প্রাইমারি রিগস প্যাক করে নাও ব্রাদার, বললেন মতিলাল, আমাদের একটা শ্যাডো হান্ট করতে হবে। মিলিটারি-গ্রেড ইলেকট্রনিক কাউন্টারমেজার্স। স্পুফড বায়োমেট্রিক্স। ওয়াইপড সিকিউরিটি হাবস। পিওর স্ট্যাটিক থেকে আমাকে একটা ভূতের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট রিবিল্ড করে দিতে হবে তোমাকে।
সাউন্ডস লাইক মাই কাইন্ড অফ পার্টি, পিজির গলায় একটা মজার সুর। কখন লিভ করছি আমরা?
থ্রি আওয়ার্স। আমি আমাদের ফিজিক্যাল অ্যাসেটকে সিকিওর করছি এখন।
মতিলাল ডিসকানেক্ট করে ফাইনাল নাম্বারটা ডায়াল করলেন।
একটা প্রাইভেট, হাই-অ্যালটিটিউড ট্রেনিং ফেসিলিটি।
কংক্রিটের দেওয়ালে ইকো হচ্ছে হেভি ব্যাগে হাড়-হিম করা আঘাতের রিদমিক সাউন্ড। ফোন বাজলেও বিক্রমের মুভমেন্ট থামল না। একটা ফ্ললেস, স্পিনিং এলবো স্ট্রাইক এক্সিকিউট করল সে। ইমপ্যাক্টে কেঁপে উঠল ভারী ক্যানভাসটা। তারপর স্টেপ ব্যাক করল। ওর ব্রিদিং একদম ইভন, এনটায়ারলি কন্ট্রোলড। এক্স-কমান্ডো। লিথাল। ক্লিন।
ডিভাইসটা পিক আপ করল সে, কী খবর মতিবাবু?
ভায়া বিক্রম। প্যাক ইওর গিয়ার। আমরা তিন ঘণ্টার মধ্যে মুম্বাই মুভ করছি, মতিলাল বললেন।
টার্গেট প্রোফাইল? বিক্রম জিজ্ঞেস করল। গলা একদম শান্ত, কোনো অাবেগ নেই।
আ প্রফেশনাল। সার্জিক্যাল প্রিসিশন। দশ সেকেন্ডের মধ্যে হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড নিউট্রিলাইজেশন, নো ভিজিবল ট্রমা। ওরা জানে কীভাবে ব্রিচ করতে হয়, সাইলেন্টলি কিল করতে হয়, আর কীভাবে ভ্যানিশ হয়ে যেতে হয়, মতিলাল এক নিঃশ্বাসে বলে গেলেন।
কপাল থেকে এক বিন্দু ঘাম মুছল বিক্রম। ওর ট্রেনিং পার্টনার বিষ্ণু থাপাকে হাত তুলে থামাল।
আ প্রফেশনাল ইজ জাস্ট আ ম্যান উইথ আ সিস্টেম, মতিবাবু, নরম গলায় বলল বিক্রম, অ্যান্ড এভরি সিস্টেম হ্যাজ আ ব্রেকিং পয়েন্ট। আই উইল বি রেডি। জাস্ট পিক মি অাপ।
বিক্রম তার প্র্যাকটিস পার্টনারকে বলল, বিষ্ণু, অামাকে অাজ রাতেই মুম্বই যেতে হচ্ছে। যদি দরকার হয়, তোমাকে ডেকে নেব।
একগাল হেসে বিষ্ণু বলল, ওকে ভাইয়া। প্লিজ কল মি।
ওদিকে ফোনটা রেখে দিলেন মতিলাল।
ট্রিনিটি অ্যাসেম্বলড। ফের তিন মাথা এক হচ্ছে।
রেড করিডর স্নাইপার-কে নিকেশ করার পর গত তিন মাস হাতে কোনও কাজ না থাকায় তাঁরা ভাবছিলেন কোনও কোল্ড কেস ওপেন করবেন।
যাক, তার অার দরকার হল না।
একটা ডার্ক, স্প্রলিং মেট্রোপলিস-এ পা রাখতে চলেছেন তাঁরা।
তাঁরা এবার শিকার করবেন এক ফেসলেস কিলারকে। জ্যাকেটটা তুলে নিলেন মতিলাল। চেক করে নিলেন নিজের স্ট্যান্ডার্ড-ইস্যু সাইডআর্মের ওজন।
অন্ধকারের সেই শিকারি এবার নিজেই শিকারে পরিণত হতে চলেছে।
