আমি কি পিজির সঙ্গে কথা বলতে পারি? ওপাশ থেকে খুব মার্জিত, সুরেলা একটা নারী কণ্ঠ ভেসে এল।
হ্যাঁ, বলছি।
আমার বস আপনার সঙ্গে কথা বলতে চান। প্লিজ একটু হোল্ড করবেন?
মেয়েটির গলার স্বরটা পিজির বেশ লাগল। মিষ্টি, একটা সুর আছে। এই মেঘলা, মনমরা সকালে এমন গলা শুনতে কার না ভালো লাগে?
বাইরে একনাগাড়ে ঝিরঝির বৃষ্টি চলছে। আকাশের মুখ ভার। পিজির মনের আকাশেও ঘন কালো মেঘ জমে আছে।
প্রকাশ গুপ্ত—ওরফে পিজি, হ্যাকারস সার্কেলে যাকে সবাই চেনে পারফেক্ট জেন্টলম্যান হিসেবে, আজ খুব একটা ভালো মুডে নেই সে।
কাল রাতে স্বপ্নে মা এসেছিল। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে মা বলল, চান করার সময় জলটা একটু গরম করে নিবি, কেমন? বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, তোর যা ঠাণ্ডা লাগার ধাত।
মাকে একটুও ছাড়তে ইচ্ছে করছিল না। কিন্তু স্বপ্ন তো। অামাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ সেখানে খাটে না।
বেডরুমের জানলা দিয়ে পিজি দেখেছিল, সত্যিই বৃষ্টি পড়ছে বাইরে। অালো ফুটতে চেয়েও পারছে না।
এমন দিনে কি অার কাজ করতে ইচ্ছে করে?
মাঝে মাঝে এমন একটা সময় আসে যখন সত্যি কোনও কাজ করতে ইচ্ছে করে না। অতীত স্মৃতিরা সব কালো মেঘের মতো মনের আকাশে ভিড় করে, হাড়ের ভেতর দিয়ে ঠান্ডা স্রোতের মতো বয়ে যায়, রক্তের সঙ্গে মিশে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে হালকা বিষণ্ণতা।
পিজি তার পাঁচ ফুট এগারো ইঞ্চির ছিপছিপে শরীরটাকে খুব কষ্ট করে বিছানা থেকে তুলল।
নাঃ, আজ কাজ করার একদম মুড নেই। বিক্রমকে একটা ফোন করে দেখা যেতে পারে, ও যদি ফ্রি থাকে, তাহলে একটু অাড্ডা মারা যায়।
বাইরের বৃষ্টি, মনের ভেতর বিষন্ন মেঘের অানাগোনা, এমন সময়েই মেয়েটি ফোন করল তার সুরেলা গলায়। নিশ্চয়ই গান শেখে দক্ষিণীতে। যেভাবে বলল, তাতে তো মনে হল সুর লাগল পঞ্চমে।
কিন্তু অাবার বস কেন? তোমার সঙ্গেই তো অারও কিছুক্ষণ কথা হতে পারত।
এই রসভঙ্গে পিজি খানিকটা বিরক্ত হয়ে তেতো গলায় বলল, বেশ তো, অাপনার বসকে দিন।
অমন রমণীয় নারী কণ্ঠের পরেই একটা কর্কশ পুরুষালি গলা ভেসে এল, আমার নাম জ্যাকি সেন। আমি এসিপি রাকেশ চৌধুরীর কাছ থেকে তোমার নম্বর পেলাম। আমি তোমার সঙ্গে পার্সোনালি কথা বলতে চাই। তুমি কি এখনই একবার আমার অফিসে আসতে পারবে? ইটস ভেরি আরজেন্ট।
পিজি থমকে গেল।
প্রথমত লোকটার গলাটা ওর একদম পছন্দ হয়নি।
একটা অচেনা ভদ্রলোককে একেবারে সরাসরি – তুমি – সম্বোধন? তাও অাবার হুকুমের সুরে কথা?
এইসব লোকগুলো অাসে কোত্থেকে? যেখান থেকে অাসে, সেখানেই অাবার ওদের পাঠিয়ে দেওয়া দরকার। রাকেশকে বলে দিতে হবে, যাকে-তাকে ফোন দেওয়ার অাগে যেন একবার ওর সঙ্গে কথা বলে নেয়।
একটা জ্যাকি সেনের নাম পিজি শুনেছে।
ঢপের ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট, ফিল্ম প্রোডিউসার, অার মিডিয়া ব্যারন। বিনয় বস্তুটি এদের ডিকশনারিতে নেই। এরা ভাবে টাকা আর ক্ষমতা দিয়ে পুরো পৃথিবীটাকে নিজের ইশারায় নাচাবে।
আমার সঙ্গে এর কী পার্সোনাল কাজ থাকতে পারে? পিজির কৌতূহল হলো।
কিন্তু একই সঙ্গে জ্যাকির কথা বলার ভঙ্গিটা ওর ভাল লাগেনি। তবে পিজি জানে এমন লোকের ওপর রাগ করে লাভ নেই, কারণ তাতে লজিকের রাস্তা গুলিয়ে যায়।
তাই পিজি উত্তর দিতে একটু সময় নিল। জ্যাকি অধৈর্য হয়ে একটা ছোট্ট কাশি দিয়ে জানান দিল যে সে লাইনে আছে।
পিজি যতটা সম্ভব বিনয়ী হয়ে বলল, সরি, আজ আমি খুব ব্যস্ত। কাল তোর সঙ্গে দেখা করব, ঠিক অাছে? তুই অামার থেকে বয়সে অনেক ছোট, তাই তুই বললাম, কিছু মনে করলি না তো?
জ্যাকির গোটা ব্যাপারটা হজম করতে বেশ খানিকটা সময় লাগল। সময় তো লাগবেই। ও বুঝে গেছে সব জায়গায় খাপ খোলা ঠিক নয়। ওতে তরোয়ালের ধার কমে যায়।
অাসলে গ্রাসের ল্যাপটপ ও মোবাইল নিয়ে অাসার পর থেকে জ্যাকির বিড়ম্বনা বেড়েছে বই কমেনি।
দুটোর কোনওটাই খোলা যাচ্ছে না। ওর টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ফিলিপ এত কাজের ছেলে হয়েও ফেল করল। তারপর ও অারও দুজনকে ধরে অানল, তারাও খানিক ধস্তাধস্তির পর হাল ছেড়ে দিল।
তখন জ্যাকি বাধ্য হয়েই রাকেশকে ফোন করল। অ্যাসিট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ, অাপাতত ওই গুণধর টিকটিকি মতিলাল মিস্ত্রির সহকারী হলেও রাকেশ ছেলেটা খুব ভদ্র। একদমই ওর বস মতিলালের মত চোয়াড়ে নয়।
মতিলাল মিস্ত্রি দায়িত্ব নেওয়ার পর রাকেশের মারফত জ্যাকি মতিলালের সঙ্গে একটা লাইন তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। হাবেভাবে বুঝিয়েছিল, ওর পে-রোলে এলে মাসে কয়েক লাখ নিশ্চিতভাবেই পাওয়া যাবে।
মতিলাল একটি কথা বলে ফোন কেটে দিয়েছিল, অারেকদিন ফোন করলে এখানে ধরে এনে জুতিয়ে লাল করে দেব।
জ্যাকির খুব প্রেস্টিজে লেগেছিল, রাকেশকে ফোন করতে গিয়ে দেখে ও অার ফোনই ধরছে না।
পরে রাকেশ ওকে বলেছিল, স্যারকে অার কক্ষণও ফোন করবেন না। ছি, ছি, অাপনি ওঁকে টাকা পয়সার কথা বলতে গেছিলেন? জানেন না, সবকিছু টাকা দিয়ে হয় না?
সত্যি এই পৃথিবীর যে কত কিছুই জানার বাকি রয়েছে। নইলে গ্রাসের মত লোক বেইমানি করে?
এখন দেখা যাচ্ছে, এই পিজি লোকটাও ওই মতিলাল ক্যাটিগরির।
একটি হারামীর হাতবাক্স।
কিন্তু দরকারটা তো জ্যাকিরই। অার রাকেশ যা বলল, এই ভূ-ভারতে নাকি এই মানুষটিই এমন কাজ করতে পারে। বয়স্ক মানুষ, খুব বেশি বাড়ি থেকে বেরায় না, চব্বিশ ঘণ্টা কম্পিউটারে পড়ে থাকে। লোকটার পুরো নাম কেউ জানেও না। ফিলিপও দেখা গেল কোনওদিন নাম শোনেনি।
অথচ রাকেশ যতটুকু বলল, এই কম্পিউটার উইজার্ড, জিনিয়াস হ্যাকারের সাহায্য নাকি অামেরিকার এফবিঅাই, এনএসএ-রা পর্যন্ত নেয়। ভারতের পুলিশ, মিলিটারিরা তো লিস্টে বহুদিন ধরেই রয়েছে। ইসরোর পুরো সিকিউরিটি দেখার দায়িত্ব নাকি এই লোকটির ওপর। অথচ প্রকাশ্যে লোকটাকে দেখা যায় না কখনও।
ও কি চলমান অশরীরি?
ফলে গলায় যথেষ্ট বিনয় ঢেলে, যা কিনা জ্যাকিকে খুবই কষ্ট করেই করতে হল, জ্যাকি বলল, এখনই কি আসা সম্ভব নয়? খুব দরকার স্যার। আমি অাপনার জন্য গাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি।
স্যার? অনেক কষ্টে হাসি চাপল পিজি।
জ্যাকির গলার সেই আগ্রাসী ভাবটা উধাও। এখন সে রীতিমতো মিনমিন করে অনুরোধ করছে।
পিজি মনে মনে বলল, ওষুধে কাজ দিয়েছে।
ও কিছুক্ষণ অকারণে খকখক করে কেশে বোঝানর চেষ্টা করল, ওর বয়স হয়েছে যথেষ্টই।
তার অবশ্য দরকার ছিল না।
রাকেশ বলে রেখেছিল জ্যাকিকে।
ফোনের উল্টোদিকে অখণ্ড নীরবতা। জ্যাকি ওয়েট করছে ওর রেসপন্সের জন্য।
পিজি ভাবল, লোকটার বড্ড তাড়া। কী হয়েছে? কেউ কি এই টাকার কুমিরের পেছনে বড়সড় বাঁশ দিয়েছে? আমার মতো কেউ হয়তো… পিজি শান্ত গলায় বলল, রাকেশ তোকে কী বলেছে অামার জানা নেই, খকখক, ওফ, এমন ঠাণ্ডা লেগেছে, যাকগে শোন, আমার কনসালটেশন ফি এক লাখ। মেসিনে হাত দেওয়ার অাগেই আমি আগে পেমেন্ট নিই, তারপর কথা বলি। তাছাড়া এখন যেতে হলে আমাকে একটা কাজ ছেড়ে যেতে হবে, সেখানে আরও চার লাখের মত লস। ওটাও কম্পেনসেট করতে হবে। সব মিলিয়ে পাঁচ লাখ দিবি। এবার ভেবে দ্যাখ।
ফোনের দুই প্রান্তে কয়েক মুহূর্তের নীরবতা। পিজি এই নিস্তব্ধতাটা উপভোগ করল।
নির্ঘাত মালটার পেছনে বড়সড় কিছু ফেটেছে, নইলে জ্যাকি সেনের মতো লোক এই অ্যামাউন্ট শুনে এত সহজে রাজি হবে না।
আর রাজি না হলেও পিজির কিছু হারানোর নেই। ও বরং ওর তৈরি করা আইআরসি চ্যাটরুমে গিয়ে হ্যাকার বন্ধুদের সঙ্গে গুলতানি করবে। অথবা যদি বিক্রম, মতিলাল, রাকেশদের মধ্যে কেউ ফ্রি থাকে, তাহলে ওদের কারও সঙ্গে অাড্ডা দেবে।
আজ কেন একেবারে কাজের মুড নেই? কী হল পিজি তোমার? বৃষ্টিতে কি তোমার মন খারাপ হয়ে গেল কবিদের মত? নিজেই নিজের সঙ্গে মনে মনে কথা বলল পিজি।
কিছুক্ষণ পর জ্যাকি সেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, আমার ড্রাইভার ক্যাশ নিয়ে যাবে। তাহলে পাঁচ লাখই ফাইনাল?
পিজি কড়া গলায় বলল, না, পুরো পাঁচ ক্যাশে নয়। তোর এই নম্বরে অ্যাকাউন্ট ডিটেল পাঠাচ্ছি, ওখানে দিবি সাড়ে চার লাখ। ড্রাইভারের হাতে পাঠাবি পঞ্চাশ হাজার। এবার অপারেটরকে দে। আমি টাইম আর লোকেশনটা বলে দিচ্ছি।
পিজি ঠিক করল, এইসব হাফ-শুয়োর-হাফ-মানুষ প্রকৃতির লোকেদের সঙ্গে এবার থেকে শুরু থেকেই তুই-তোকারি করবে।
সেই সুরেলা গলার মেয়েটি আবার লাইনে এল, ইয়েস স্যার, বলুন, কোথায় গাড়ি পাঠাব আর কখন?
পিজি ওকে এক মিনিট হোল্ড করতে বলল। পিজির মনে একটা খটকা ছিল যে জ্যাকি হয়তো অন্য এক্সটেনশন থেকে ওদের কথা শুনছে।
তার ওপর পিজি সব সময় যে কোনও লাইন চেক করে নেয়। এটা ওর চিরকালের অভ্যেস।
এর জন্য ও একটা স্পেশাল সফটওয়্যার নিজেই বানিয়েছে।
নিমেষের মধ্যে জ্যাকির লাইনটাকে ও নিজের একটা মেশিনের সঙ্গে কানেক্ট করে দিল। মনিটরে লাল আলোটা দপ করে জ্বলে উঠতেই পিজি সতর্ক হয়ে গেল। শুধু জ্যাকি নয়, আরও একজন কেউ ওদের কথোপকথন শুনছে।
তৃতীয় পক্ষ?
পিজি মুচকি হাসল। তারপর অন্য দুটো লাইন নির্মমভাবে ডিসকানেক্ট করে দিল।
হার্ভার্ডে ম্যাথমেটিক্সের প্রফেসর ছিলেন বাবা। তাঁর সুযোগ্য ছেলে হিসেবে পিজি আমেরিকায় থাকার সময় থেকেই ‘ফোন ফ্রিক’। ওর তৈরি করা ১৪৮ জিবির পেনিট্রেশন টুল আর কাস্টমাইজড সফটওয়্যার দিয়ে যে কোনও সার্ভিস প্রোভাইডারের এনক্রিপশন ও জলভাত করে দিতে পারে সেই ছোটবেলা থেকে।
যে কোনও ফায়ারওয়াল ওর কাছে মাকড়সার জালের মতো ঠুনকো।
আর এখানে? এখানকার সরকারি সার্ভিস প্রোভাইডারগুলোর সিকিউরিটিকে তো হাস্যকর বললে শব্দটার অপমান হবে।
ব্যাকডোর দিয়ে হাতি গলে যাবে, কেউ টেরও পাবে না।
স্যরি, একটু দেরি হলো, পিজি মেয়েটিকে বলল।
নো প্রবলেম স্যার। মেয়েটি খুবই ভদ্র।
পিজি একটু ফ্লার্ট করার মুডে বলল, আসলে আপনিই আমার ঘুমটা ভাঙালেন, তাই ভাবলাম আগে বিছানা থেকে নামি। তাছাড়া অনেক বয়স হল তো, এই গত জানুয়ারিতে সাড়ে চুয়াত্তর পেরোলাম।
খকখক করে খানিকটা কেশে পিজি বোঝানর চেষ্টা করল ওর বয়সটা চল্লিশের কোঠায় নয়, তার থেকে অন্তত তিরিশটা বছর বেশি।
সরি স্যার। আমি জানতাম না আপনি ঘুমোচ্ছিলেন।
দ্যাটস নো ইস্যু, সিস্টার। বাই দ্য ওয়ে, আপনার নামটা জানতে পারি? কারও নাম না জানলে কথা বলতে ভারি অসুবিধা হয়।
আমি তনুজা।
ওয়েল তনুজা, প্লিজ অ্যাড্রেস আর টাইমটা নোট করে নিন।
ইয়েস স্যার।
বরাবরের মতো পিজি একটা সম্পূর্ণ ভুলভাল ঠিকানা দিল।
ওর আসল লোকেশন থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরের একটি ঠিকানা। মেট্রো করে ওখানে পৌঁছতে কতক্ষণ লাগবে, মনে মনে সেই হিসেবটাও কষে নিল একইসঙ্গে।
তনুজার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই ও ঝড়ের বেগে টাইপ করছিল।
জ্যাকির অফিসে কে আড়ি পেতেছে সেটা বের করা দরকার। ট্রেস-রুট ধরে কানেক্টেড পোর্টগুলো চেক করতেই পিজি অবাক হয়ে গেল। লাইনটা সোজা গিয়ে শেষ হয়েছে পুলিশের হেডকোয়ার্টারে।
ভারি অদ্ভুত তো?
এ তো দেখছি বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা।
কিন্তু জ্যাকির ফোন যদি ট্যাপ করার নির্দেশ মতিলাল বা রাকেশ দিয়ে থাকে, তাহলে সেটা পিজি জানতে পারবে না, এমন হতেই পারে না।
পিজির অাঙুল এত জোরে কিবোর্ডের ওপর ছুটল যে কিছুক্ষণের মধ্যেই কিবোর্ডের একটা কি উড়ে গেল।
কিবোর্ড খুলে ঘরের এককোণে ছুঁড়ে ফেলল পিজি। একপাশ থেকে টেনে নিল অানকোরা নতুন একটি কিবোর্ড। সেখানে ডাঁই করে রাখা রয়েছে অন্তত কুড়ি-বাইশটি নতুন কিবোর্ড।
পিজি হিসেব করে দেখেছে, ওর একটা কিবোর্ড চলে, দু থেকে তিন দিন।
সমস্যা হয় অাঙুলের নখ নিয়ে। কত ছোট করে অার নখ কাটা যায়। প্রতিদিন নখ কাটলেও নখ ভেঙে যায়।
অাঙুলের জোর বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন স্রেফ অাঙুলের ওপর ভর দিয়ে পুশ অাপ করতে হয় একশো বার।
কতবার পিজি ভেবেছে কাজের ভল্যুম কমিয়ে অানবে। কিন্তু এত ধরনের রিকোয়েস্ট অাসে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে, মানুষ বিপদে পড়লে কি অার মুখ ফিরিয়ে থাকা যায়?
নাঃ, শরীর থেকে ম্যাজম্যাজে ভাবটা চলে গেছে। জ্যাকি সেন তো জানে না, কী বাঁশ ও যেচে নিচ্ছে। এবার থেকে জ্যাকির সমস্ত ডিজিটাল অ্যাক্টিভিটি রেকর্ড হবে পিজির তৈরি করা নিজস্ব ক্লাউড সার্ভারে।
কফির জল চড়াতে চড়াতে জানলা দিয়ে বাইরে তাকাল পিজি। বৃষ্টিটা একটু ধরছে মনে হচ্ছে।
