অনলাইন স্টোর গোয়েন্দা বিক্রম, চিফ ডিটেকটিভ মতিলাল মিস্ত্রী ও জিনিয়াস হ্যাকার পিজির যাবতীয় বড়দের ক্রাইম থ্রিলার এখন পাওয়া যাচ্ছে Notion Book Store -এ। বইগুলো দেখুন →

অফলাইন স্টোর কলেজ স্ট্রিটে সমস্ত বই এখন থেকে পাওয়া যাচ্ছে। বুক ফ্রেন্ড। ৮/১/বি শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট, (মিত্র ঘোষের গলি, কফি হাউসের ঠিক পাশে)। ফোন - ৮৭৭৭৪২১১৪২

চ্যাপ্টার ৪: ঘাটের মড়ার না শোনা কথা | অ‍াতঙ্কের শেষ প্রহর

উত্তরপ্রদেশের আকাশ চিরে কার্গো প্লেনটা একটা খসে পড়া ইটের মতো সোজা নিচে নেমে এল। 

লাল বাহাদুর শাস্ত্রী এয়ারপোর্টের টারম্যাকে একটা ভায়োলেন্ট, হাড়-কাঁপানো আওয়াজ করে ল্যান্ড করার সময় মনে হল কিছু একটা নামল বটে।

ফ্রিজিং, আনপ্রেসারাইজড কার্গো হোল্ডের ভেতর, এক্সপোর্ট-কোয়ালিটির দার্জিলিং চায়ের দুটো বিশাল কাঠের ক্রেটের মাঝখানে একদম সোজা হয়ে বসে ছিলেন চিফ ডিটেকটিভ মতিলাল মিস্ত্রী। তাঁর সাদা শার্ট আর খাকি যোধপুরীতে এক ফোঁটাও ভাঁজ পড়েনি। ভয়ংকর টার্বুলেন্স নিয়েও তিনি একবারও কমপ্লেন করেননি। তাঁর মতে, কমপ্লেন করাটা হলো অক্সিজেনের একটা ইনফিশিয়েন্ট ব্যবহার।

ঠিক উল্টোদিকে বসে নিজের ট্যাকটিকাল হারনেসটা ঠিকঠাক করে নিচ্ছিল বিক্রম। 

এক্স-কমান্ডো দু-ঘণ্টার এই ফ্লাইটে এক মুহূর্তের জন্যও দু চোখের পাতা এক করেনি। সে পুরো রাস্তা হাই-অ্যালটিটিউড ব্রিদিং এক্সারসাইজ করেছে, ওর হার্ট রেট এখন পারফেক্টলি মিনিটে পঞ্চাশ বিটে লকড।

ওয়েলকাম টু বারাণসী, ভায়া, টারম্যাকের ওপর সকালের কড়া রোদে পা রেখে নিজের স্বভাবসিদ্ধ গলায় বললেন মতিলাল, এখানকার বাতাস কিন্তু কলকাতার মতো নয়। হাওয়াটা খুব ভারী, প্রাচীন, আর তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে গাঁদা ফুল, গঙ্গার জল, আর শ্মশানের ঘাট থেকে ভেসে আসা গন্ধ।

মতিলাল চারপাশটা একবার দেখে নিলেন। বললেন, এই শহরটায় যতবার এসেছি, একটা অদ্ভুত ফিলিং হয়েছে। জান ভায়া, মার্ক টোয়েন একবার বারাণসী ঘুরে গিয়ে বলেছিলেন, এই শহরটা নাকি ইতিহাসের চেয়েও পুরনো, ট্র্যাডিশনের চেয়েও প্রাচীন। আক্ষরিক অর্থেই এটা পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন কন্টিনিউয়াসলি ইনহ্যাবিটেড শহর। প্রায় তিন হাজার বছর ধরে এখানে কিছু মানুষ আসে শুধু শান্তিতে মরতে। কাশীতে মৃত্যু কোনও শোক নয়, মৃত্যু এখানে পিওর লজিক, একটা প্রফিটেবল ইন্ডাস্ট্রিও বটে। হয়ত সেই কারণেই ওই শিক্ষিত ইঞ্জিনিয়ার ছেলেটা তার বম্ব টেস্ট করার জন্য ঠিক এই ডেথ-ভ্যালিকেই বেছে নিয়েছে?

বিক্রম পকেট থেকে একটা ম্যাট-ব্ল্যাক সানগ্লাস বের করে চোখে পরল। বলল, মতিবাবু, একমাত্র দুর্বল মানুষেরাই মৃত্যুর কথা ভেবে বিচলিত হয়ে পড়ে। স্বর্গ বা নরক খুঁজতে ওপরে যাওয়ার কী দরকার? নীচেই তো তা মজুত রয়েছে। এদের দেখলেই তো তা বোঝা যায়। লেটস ফাইন্ড দ্য লকার ফার্স্ট। পিজি, আর ইউ অনলাইন?

আমি কোনোদিন অফলাইনে যাই না, অ্যানালগ বয়েজ, ইয়ারপিসে পিজির গলা বেজে উঠল, তোমরা যখন কার্গো হোল্ডে বাঁদরের মতো ঝুলছিলে, আমি তখন আমার সার্ভারে একটা কাস্টম রুটকিট কম্পাইল করছিলাম। বারাণসী ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনের সিকিউরিটি গ্রিড আমি অলরেডি ব্রিচ করে দিয়েছি। এয়ারপোর্ট থেকে তোমাদের বেরোতে দেখছি আমি সিসিটিভি দিয়ে। নাও গেট আ ক্যাব। আ ফাস্ট ওয়ান।

আধ ঘণ্টা পর, একটা ধ্যাড়ধ্যাড়ে হলুদ ট্যাক্সি এসে সশব্দে ব্রেক কষল সেই বিশাল, কেওটিক রেলওয়ে স্টেশনের ঠিক বাইরে। 

জাস্ট মানুষের সমুদ্র। পুণ্যার্থী, গেরুয়া পরা সাধু, অ্যাগ্রেসিভ হকার, আর পকেটমারদের একটা ঘন, ঘর্মাক্ত ঘূর্ণির মতো জায়গাটা।

ভিড়ের মধ্যে একজন মানুষের গায়েও স্পর্শ না করে নিজের রাস্তা করে নিল বিক্রম। বিক্রমের ঠিক পেছনে যেতে যেতে মতিলাল খেয়াল করেছেন, ওর হাঁটার একটি নিজস্ব ভঙ্গি রয়েছে।

বিক্রম মুভ করছে একটা লিকুইড গ্রেস নিয়ে, চলমান শরীরগুলোর মাঝের মাইক্রো-গ্যাপগুলো নিখুঁতভাবে খুঁজে নিচ্ছে। মতিলাল ঠিক ওর পেছনে, তাঁর তীক্ষ্ণ চোখ কুড়ি ফুট রেডিয়াসের মধ্যে থাকা প্রতিটা মানুষের ট্র্যাজেক্টরি ক্যালকুলেট করছে।

প্ল্যাটফর্ম ওয়ান, পিজি ডিরেকশন দিল, লকার বি, সেক্টর সি। এটা একটা মডার্নাইজড বায়োমেট্রিক লকার, হেভিলি এনক্রিপ্টেড। সাপোজড টু বি আনহ্যাক্যাবল।

সাপোজড টু বি বলছ কেন ভায়া? বলো না, অ‍ামি চাইলে হ্যাক করতে পারি, মতিলাল খুকখুক করে হেসে বললেন।

ও মতিবাবু, এত সকালে গ্যাস দেবেন না, প্লিজ। অ‍াপনারা দু ঘণ্টা উড়েছেন বলে কি অ‍ামাকেও ওড়াতে চাইছেন। সকালের কফি খাওয়ার আগেই আমি ওদের ফায়ারওয়াল বাইপাস করে দিয়েছি, পিজি মজার গলায় বলল, নন্দিনীর টিকিটে যে লকার নাম্বারটা এনকোড করা ছিল, সেটা হলো সি ফোর জিরো ফোর। আইরনিক, তাই না? কোনও ওয়েব পেজ না পাওয়া গেলে – এরর ফোর জিরো ফোর, পেজ নট ফাউন্ড – দেখায়। এদের লিডার নীরবের সেন্স অফ হিউমারটা বেশ টুইস্টেড।

ওরা সেক্টর সি-তে পৌঁছল। একটা শুনশান করিডোর, সস্তা ফিনাইলের গন্ধে ম-ম করছে। লকার সি ফোর জিরো ফোর হলো কংক্রিটের দেওয়ালে বসানো একটা স্লিক, স্টেইনলেস স্টিলের স্কোয়ার। তাতে একটা ডিজিটাল কিপ্যাড আর একটা সবুজ রঙের গ্লোয়িং ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার রয়েছে।

টিকিটে কিউআর কোড আছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের কাছে তো নন্দিনীর থাম্বপ্রিন্ট নেই, প্লাস্টিকের এভিডেন্স ব্যাগের ভেতর রাখা রক্তমাখা কার্ডবোর্ডের স্টাবটা তুলে ধরে বিক্রম পিজিকে বলল।

বিক্রম, ফের তুই অ‍ামাকে ইনসাল্ট করছিস, পিজি ড্রামাটিকভাবে দীর্ঘশ্বাস ফেলল, তোর কি মনে হয় আমি এটা প্ল্যান করিনি? কিউআর কোডের ওপর রক্তের দাগটা ভালো করে দ্যাখ। রক্তক্ষরণ হওয়ার সময় ও নিজের বুড়ো আঙুলটা ওখানে চেপে ধরেছিল। টিকিটটা স্ক্যানারের ওপর ফ্ল্যাশ কর। আমি লকারের অপটিকাল সেন্সরটাকে ম্যানিপুলেট করেছি, যাতে ওটা ওই শুকনো রক্তের খাঁজগুলোকেই একটা লাইভ বায়োমেট্রিক পালস হিসেবে রিড করে।

বিক্রম এভিডেন্স ব্যাগটা কাঁচের স্ক্যানারের ওপর চেপে ধরল।

টিকিটের ওপর একটা লাল লেজার সুইপ করল। মেশিনটা একটু হাম করে উঠল। 

বিপ করে একটা শব্দ হল

আলোটা সবুজ হয়ে গেল। খালি করিডোরে একটা ভারী হাইড্রোলিক ক্লিক প্রতিধ্বনিত হল। ভারী স্টিলের দরজাটা এক ইঞ্চি খুলে গেল।

মতিলাল সাথে সাথে হাত ঢোকালেন না। বললেন, ক্লিয়ার ইট ফার্স্ট।

বিক্রম ঝুঁকে লকারের অন্ধকার গর্তটা ইন্সপেক্ট করল, নো ওয়্যারস। নো এক্সপ্লোসিভ রেসিডিউ। জাস্ট আ ব্ল্যাক, ওয়াটারপ্রুফ পেলিকান কেস।

সে কেসটা বের করে পাশের একটা বেঞ্চের ওপর রাখল। চটপট শব্দ করে ল্যাচগুলো খুলে গেল। ভেতরে, হাই-ডেনসিটি ফোমের ওপর রাখা আছে একটা মডিফায়েড জিপিএস ট্র্যাকিং ট্যাবলেট আর একটা ভারী পিতলের চাবি।

শেষে কিনা একটা ফিজিক্যাল চাবি, মতিলালের গলায় বিষ্ময়, তাঁর ঠোঁটের কোণে একটা বিরল হাসির আভাস। 

বিক্রমের দিকে তাকিয়ে বললেন, এত ডিজিটাল ব্রিলিয়ান্স থাকার পরও, দরজা লক করার জন্য ওরা সেই আঠারো শতকের টেকনোলজির ওপরই ভরসা করে?

ট্যাবলেটটা তোর ফোনের সাথে প্লাগ কর ভিকি, পিজি বলল, লেট মি সি হোয়াট বিভু দ্য ইঞ্জিনিয়ার ওয়াজ ট্রাইং টু বিল্ড।

বিক্রম একটা ছোট কেবল কানেক্ট করল। সাথে সাথে কলকাতায় বসে থাকা পিজির মনিটরে লাইনের পর লাইন কোড বন্যার জলের মত ঢেউ তুলল।

গট ইট, নিজের মেকানিক্যাল কি-বোর্ডে ঝড় তুলে পিজি বলল, এটা একটা অফলাইন, ক্লোজড-লুপ নেভিগেশন ম্যাপ। এটা তোমাদের বর্তমান লোকেশন থেকে ঠিক দেড় কিলোমিটার দূরের একটা জিপিএস কোঅর্ডিনেট দেখাচ্ছে। পুরনো শহরের একদম গভীরে। মণিকর্ণিকা ঘাটের কাছে। দ্য বার্নিং ঘাট।

মতিলাল খুকখুক করে হেসে বললেন, শেষে কিনা অ‍ামাদের ঘাটের মড়ার কাছে পাঠাচ্ছ ভায়া?

পিজি হেসে বলল, ঘাটের মড়াদের অনেক না বলা কথা থাকে মতিবাবু।

ঠিক, বিক্রম বলল, মনে অ‍াছে শ্যামল কী বলেছিল? ওটা একটা অস্ত্রাগার। আ স্টেজিং গ্রাউন্ড।

আমার কথাটা মন দিয়ে শোন ভিকি, পিজির গলাটা হঠাৎ এক অকটেভ নেমে গেল, রেগুলার হিউমারটা হারিয়ে ফিরে এল সিরিয়াসনেস, আমি ওই কোঅর্ডিনেটের আর্কিটেকচারাল ব্লু-প্রিন্ট রিড করছি। ওটা একটা মাল্টি-স্টোরিড। বাতিল সিল্কের গোডাউন। কিন্তু আমি জাস্ট একটা স্যাটেলাইট পাস হাইজ্যাক করে দেখলাম, ওর বেসমেন্টে ম্যাসিভ থার্মাল সিগনেচার শো করছে। ওখানে এত কেমিক্যাল প্রিকার্সর জমানো আছে কেন? ওটা দিয়ে তো পুরো একটা সিটি ব্লক উড়িয়ে দেওয়া যায়। যদি বিভু ওখানে থাকে, ডু নট এনগেজ ইন আ ফায়ারফাইট। একটা স্ট্রে বুলেটেই তোমরা দুজনেই উড়ে গিয়ে পিঙ্ক মিস্ট হয়ে যাবে।

নোটেড, নিজের শার্টের কাফ ঠিক করতে করতে মতিলাল বললেন, চলো, এই টেররিস্ট ইঞ্জিনিয়ারকে একবার দর্শন দিয়ে আসা যাক।

মণিকর্ণিকা ঘাটের দিকে যাওয়া গোলকধাঁধার মতো গলিগুলো এতই সরু যে দুজন মানুষ পাশাপাশি ঠিকমতো হাঁটতে পারে না। মাথার ওপর ঝুলন্ত বারান্দা আর জট পাকানো ইলেকট্রিক তারের চাঁদোয়া ভেদ করে সূর্যের আলো প্রায় ঢোকেই না। 

চন্দনকাঠ আর পোড়া মাংসের গন্ধটা অন্তত একবারের জন্য হলেও নাকে এসে ধাক্কা মারবে।

বাঁ দিকের থার্ড গলি, ওদের ফোনের জিপিএস ট্র্যাক করতে করতে পিজি বিক্রমকে গাইড করতে লাগল, ডেড এন্ডে গিয়ে দাঁড়া।

ওরা একটা বাঁক ঘুরল। 

গলিটা একটা প্রাচীন, ধসে পড়া জানলাহীন লাল ইটের বিশাল দেওয়ালের সামনে গিয়ে হঠাৎ শেষ হয়ে গেছে। দেওয়ালের ঠিক মাঝখানে একটা বিরাট, ক্ষয়ে যাওয়া সেগুন কাঠের দরজা। মরচে ধরা লোহার পাত দিয়ে সেটাকে নতুনভাবে মজবুত করা হয়েছে। 

ল্যাচের গায়ে ঝোলা ভারী পিতলের প্যাডলকটা খোলা, কোনো বোল্ট কাটার দিয়ে সেটাকে আড়াআড়িভাবে ভয়ংকর ফোর্সে কেটে দু-টুকরো করে দেওয়া হয়েছে।

আমাদের আগে এখানে কেউ ঢুকেছে ভায়া, মতিলালের চোখদুটো সরু হয়ে গেল, আমরা যে চাবিটা পেয়েছি, সেটা দিয়ে এই লকটা খোলা হয়নি। এটাকে ডেস্ট্রয় করা হয়েছে।

বারাণসী… সেফহাউস… ডোন্ট… ডোন্ট কিক দ্য ডোর… বিক্রমের মাথায় ঘুরতে লাগল শ্যামলের শেষ কথাগুলো।

বিক্রম হাঁটু গেড়ে বসল। পাথরের চৌকাঠের মাত্র কয়েক মিলিমিটার ওপরে, ভারী কাঠের দরজার একদম নিচের ধার বরাবর গ্লাভস পরা আঙুলটা হালকা করে বোলাল সে।

বিভু ইজ আ জিনিয়াস, বিক্রম ফিসফিস করল।

কী দেখছ ভায়া? সেফ পেরিমিটার মেনটেইন করে মতিলাল জিজ্ঞেস করলেন, তাঁর চোখ ওপরের ছাদগুলো স্ক্যান করছে।

একটা মাইক্রো-ফিলামেন্ট ওয়্যার রয়েছে, বিক্রম প্রায় অদৃশ্য একটা সুতোর দিকে পয়েন্ট করল, মানুষের চুলের চেয়েও সরু, যেটা ডোরফ্রেমের নিচে টানটান করে বাঁধা। 

আশেপাশের ধুলোর এক্স্যাক্ট শেডে ওটাকে রং করা হয়েছে। এটা একটা টেনশন-রিলিজ ট্রিগার। বেশিরভাগ অ্যামেচাররা দরজা খুললে বম্ব ফাটবে, সেভাবে ওয়্যারিং করে। বিভু এটাকে এমনভাবে ওয়্যার করেছে যে টেনশনটা রিলিজ হলেই ফাটবে। আমরা দরজায় লাথি মারলেও তারটা ছিঁড়বে। আমরা যদি নরমালি দরজাটা খুলি, তাহলেও তারটা ছিঁড়বে আর বোমাটা ফাটবে।

ডোর ফ্রেমের ওপর একটা ডেড-ম্যান্স সুইচ, ইয়ারপিসে পিজির গলা ভেসে এল, ওকে জেনুইনলি ইমপ্রেসড শোনাচ্ছে। দ্যাটস বিউটিফুল। সাইকোটিক, বাট বিউটিফুল। হোয়াট ইজ দ্য পেলোড?

বিক্রম কাঠ আর পাথরের মাঝের এক মিলিমিটার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারল।

সি-ফোর, বিক্রমের গলা ফ্ল্যাট শোনাল, তিনটে ব্রিক, বল বিয়ারিং আর মরচে ধরা পেরেক দিয়ে প্যাক করা। ফ্রেমের ভেতরের দিকে টেপ দিয়ে আটকানো আছে। পুরো গলিটাকে উড়িয়ে গঙ্গায় ফেলে দেওয়ার জন্য এনাফ।

ডিজার্ম করতে পারবে ভায়া? মতিলাল জিজ্ঞেস করলেন। তাঁকে একটুও চিন্তিত শোনাল না। তিনি জাস্ট প্রোবাবিলিটির ক্যালকুলেশনটা চাইছেন।

বিক্রম বিড়বিড় করে বলল, একটু হালকা ঝুঁকি রয়েছে। আমাকে আমার ছুরির ব্লেডটা দরজা আর ফ্রেমের মাঝখান দিয়ে স্লাইড করাতে হবে, স্প্রিং-লোডেড ডেটোনেটর পিনটার ওপর ব্লেডটা চেপে ধরে টেনশনটা মেনটেইন করতে হবে, আর ঠিক সেই মাইক্রোসেকেন্ডেই তারটা কেটে দরজাটা ঠেলে খুলতে হবে। 

কিন্তু একটু ওদিক এদিক হয়ে গেলে তো ভায়া অ‍ামরাও ঘাটের মড়া হয়ে যাব, তাই না? মতিলাল তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে খুকখুক করে হাসলেন।

বিক্রম নিজের বুট থেকে ছ-ইঞ্চির একটা ট্যাকটিকাল কমব্যাট নাইফ বের করল। 

ম্যাট-ব্ল্যাক স্টিলটা আশেপাশের আলোটুকুও যেন শুষে নিচ্ছে। ইট রিকোয়ার্স এক্স্যাক্ট, সাইমালটেনিয়াস প্রেশার।

টেক কেয়ার ভায়া, মতিলাল বললেন।

বিক্রম একটুও হেজিটেট করল না। কোনও লম্বা নিশ্বাস নিল না। 

ওর বাঁ হাত ব্লেডটাকে ওই মাইক্রোস্কোপিক গ্যাপের ভেতর স্লাইড করিয়ে দিল, ডেটোনেটর পিনের মেটালিক রেজিস্ট্যান্সটা ফিল করল। এক্স্যাক্টলি তিন পাউন্ড প্রেশার অ্যাপ্লাই করল ও। ডান হাত দিয়ে বের করল একজোড়া টাইটানিয়াম স্নিপস।

স্ন্যাপ

তারটা কেটে গেল। ব্লেডটা পিনটাকে ধরে রাখল। সি-ফোর ডরম্যান্ট শুধু থেকে গেল।

নিজের পা ব্যবহার করে বিক্রম খুব সন্তর্পণে ভারী সেগুন কাঠের দরজাটা ঠেলে খুলল। একটা বিশ্রী ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ করে দরজাটা খুলে গেল। ব্লেডটা ফ্রেমের সাথে পিন করে রেখেই ভেতরে স্লাইড করে ঢুকল ও, তারপর নিজের পকেট থেকে একটা কাঠের পাত বের করে ডান হাত দিয়ে ডেটোনেটরটাকে জ্যাম করে দিল।

ক্লিয়ার, নিজের ছুরিটা বের করে নিয়ে বিক্রম বলল, বম্ব নিউট্রালাইজড।

তুমিও তো ভায়া কম জিনিয়াস নও। তোমাদের যত দেখছি, মুগ্ধ হচ্ছি, বলতে বলতে চৌকাঠ পেরিয়ে গোডাউনের অন্ধকারের ভেতর পা রাখলেন মতিলাল। 

ভেতরের হাওয়াটা গুমোট, কর্ডাইট, মেসিনের গ্রিজ, আর তার সাথে একটা মিষ্টি মেটালিক গন্ধ।

ওরা নিজেদের ফ্ল্যাশলাইট অন করল, ধুলোভরা অন্ধকারের বুক চিরে সাদা আলোর দুটো তীক্ষ্ণ বিম ছিটকে বেরোতে বোঝা গেল গোডাউনটা বিরাট, বাইরে থেকে অবশ্য বোঝার উপায় নেই। 

দেওয়াল ঘেঁষে ওয়ার্কবেঞ্চ পাতা, তার ওপর সোল্ডারিং আয়রন, সার্কিট বোর্ড আর ব্লু-প্রিন্ট ছড়ানো। ঘরের মাঝখানে কাঠের ক্রেট স্তূপ করে রাখা।

কিন্তু জায়গাটা খালি নয়।

মাঝখানের ক্রেটের সবথেকে বড় স্তূপটার গায়ে হেলান দিয়ে একজন লোক বসে আছে।

বিক্রম বলল, হি ওয়াজ ডেড। ভেরি রিসেন্টলি।

মতিলাল ডেডবডিটার দিকে এগিয়ে গেলেন, তার ফ্ল্যাশলাইটে দেখে মনে হল লোকটা একজন লোকাল গুন্ডা, পরনে একটা দামী সিল্কের কুর্তা, যেটা এখন কালচে, আর্টারিয়াল ব্লাডে ভেজা। পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে মারা শটগানের গুলিতে ওর বুকটা আক্ষরিক অর্থেই ঝাঁঝরা হয়ে গেছে।

কিন্তু এর পরের অংশটা অনেক ভয়ঙ্কর।

লোকটার মুখটা পাশবিকভাবে টেনে ফাঁক করা হয়েছে। আর গলা দিয়ে প্রায় ঠেসে ঢোকানো আছে একটা শক্ত পার্চমেন্ট কাগজ, নিজের রক্তে চোক করে মারা গেছে লোকটা।

বিক্রম রক্তে ভেজা কাগজটার একটা প্রান্ত ধরে একটা ভেজা, চড়চড় শব্দ করে সেটাকে টেনে বের করল। সাবধানে সেটা খুলে ধরে তার ওপর ফ্ল্যাশলাইটের আলো ফেলল ও।

ওটা কোনো ওয়ার্নিং নোট নয়। কোনো ম্যাপও নয়।

ওটা ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি-র একটা পারফেক্ট, অফিশিয়ালি স্ট্যাম্প মারা বি-টেক ডিগ্রি সার্টিফিকেট। মোটা, গথিক অক্ষরে নামটা প্রিন্ট করা আছে: বিভু মুখার্জী

লোকাল আর্মস ডিলার, মতিলাল ইনস্ট্যান্টলি ডিডিউস করলেন, যে কার্গো হোল্ডে করে তারা উড়ে এসেছেন, তাঁর গলা এখন তার চেয়েও ঠাণ্ডা, এই লোকটাই সি-ফোর সাপ্লাই করেছিল। বিভু এক্সপ্লোসিভ কিনেছে, তারপর নিজের ট্র্যাক কভার করার জন্য সাপ্লায়ারকে মেরে ফেলেছে।

ও নিজের ডিগ্রি সার্টিফিকেটটা এখানে রেখে গেল, রক্তমাখা কাগজটার দিকে তাকিয়ে বিক্রম প্রশ্নটা করল পিজিকে, কিন্তু কেন? নিজের পরিচয় এভাবে জানিয়ে কী লাভ ওর?

কারণ ওটা ওর কলিং কার্ড, পিজির গলা বেজে উঠল, সে অলরেডি ওদের ফোনের ক্যামেরা হ্যাক করে সিনটা দেখছে। যে সিস্টেম ওকে রিজেক্ট করেছিল, ও তাদের জন্য একটা মেসেজ রেখে যাচ্ছে। ও বলছে, দ্যাখো তোমাদের বেকার ইঞ্জিনিয়ার কী বানাতে পারে। হি ইজ অ্যারোগেন্ট। ও চায় তোমরা এক্স্যাক্টলি জানতে পারো যে ও ঠিক কতটা স্মার্ট।

হঠাৎ বিক্রমের মাথাটা ডার্ক গোডাউনের পেছনের দিকের একটা কোণায় ঘুরে গেল। লজিকটা ব্রেনে পৌঁছনোর এক ফ্র্যাকশন অফ আ সেকেন্ড আগেই ওর কমান্ডো ইন্সটিংক্ট ফায়ার করেছে।

ক্রেটের পেছনে একটা ছায়া নড়েছে।

মতিবাবু টেক কভার, বিক্রম গর্জে উঠল।

মতিলাল ভারি শরীরটা নিয়ে মাটিতে ঝাঁপ দেওয়ার সময় নিজের সার্ভিস রিভলবারটা বের করার আগেই, অন্ধকারের বুক চিরে মাজল ফায়ারের একটা ব্লাইন্ডিং ফ্ল্যাশ ফেটে পড়ল। 

একটা অটোমেটিক অ্যাসাল্ট রাইফেলের হেভি, কানে তালা লাগানো গর্জন অস্ত্রাগারের নিস্তব্ধতা ভেঙে চুরমার করে দিল, বাতাসটাকে যেন আক্ষরিক অর্থেই ছিঁড়ে ফেলল।

বিভু চলে যায়নি। সে থেকে গিয়েছে একটাই কারণে।

লেটেস্ট ইনভেনশনটা টেস্ট করার জন্য বিভু এখন পুরোপুরি রেডি।

কিন্তু কতটা রেডি বিক্রম অ‍ার মতিলাল?