কলকাতার বুকে শেষ কবে এমন কুয়াশা পড়তে দেখেছে, মনে করতে পারছে না বিক্রম। এক হাত দূরেও কিছু দেখা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে, তিনশো বছরের পুরনো তিলোত্তমার মন খুব খারাপ। সে কাউকে দেখা দিতে চায় না।
গ্যারেজ থেকে কাওয়াসাকি বের করতে গিয়েও ওর মনে হল, এমন ঘন, চোখ-না-চলা-কুয়াশা ঠেলে যাওয়ার জন্য বুলেটটাই অাদর্শ। ফলে একেবারে শেষ মুহূর্তে মত বদলাল বিক্রম।
বছর কুড়ির পুরোন এই রয়্যাল এনফিল্ডের একটা নিজস্ব গম্ভীর অাওয়াজ অাছে, যা অাগে থাকতেই মানুষকে সতর্ক করে দেয়। এই লো-ভিজিবিলিটির জন্য যা অাদর্শ।
ঠিক অাধ ঘণ্টা অাগে পুলিশের চিফ ডিটেকটিভ মতিলাল মিস্ত্রী ফোন করেছিলেন, তাঁর গলা ছিল, এই কুয়াশার থেকেও ভারি, ভায়া, খুব খারাপ খবর অাছে।
কেন মতিবাবু, কী হয়েছে?
ফের শহরে লাশ পাওয়া গেছে। এবারেও ভিকটিম কিশোরী। কলেজ স্টুডেন্ট। অামি স্পটে যাচ্ছি। অাসবে নাকি?
বিক্রম বলেছিল, অবশ্যই।
মতিলাল বলেছিলেন, তাহলে তোমাকে যাওয়ার পথে তুলে নিচ্ছি।
বিক্রম বলেছিল, তার দরকার নেই মতিবাবু, অাপনাকে অনেকটা ফালতু ঘুরতে হবে। অামি পৌঁছে যাচ্ছি। লোকেশনটা বলুন।
এবার একইসঙ্গে জাঁকিয়ে ঠাণ্ডাটাও পড়েছে। তবে এক সময় কম্যান্ডো সেন্টারের ট্রেনার, এক্স-কম্যান্ডো বিক্রমের কাছে এই ঠাণ্ডা অাসলে কোনও ঠাণ্ডাই নয়। এমন জায়গায় গিয়ে ওকে শত্রু নিকেশ করতে হয়েছে, যেখানে টেম্পারেচার ছিল মাইনাস ৩০।
বেরনোর অাগে বিক্রম অাড়চোখে ঘড়িটা দেখল, ঠিক সাড়ে পাঁচটা।
বাইরে যখন বেরিয়ে এল, শহর শুনশান। সকালের অালো ফোটেনি। কুয়াশার ভেতরে ফগ লাইট জ্বালিয়ে খুব অাস্তে অাস্তে একটি, দুটি গাড়ি যাচ্ছে। গোটা শহরটাই যেন শীতে কুঁকড়ে ছোট হয়ে গেছে।
বুলেটে স্টার্ট দিল বিক্রম।
