অনলাইন স্টোর গোয়েন্দা বিক্রম, চিফ ডিটেকটিভ মতিলাল মিস্ত্রী ও জিনিয়াস হ্যাকার পিজির যাবতীয় বড়দের ক্রাইম থ্রিলার এখন পাওয়া যাচ্ছে Notion Book Store -এ। বইগুলো দেখুন →

অফলাইন স্টোর কলেজ স্ট্রিটে সমস্ত বই এখন থেকে পাওয়া যাচ্ছে। বুক ফ্রেন্ড। ৮/১/বি শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট, (মিত্র ঘোষের গলি, কফি হাউসের ঠিক পাশে)। ফোন - ৮৭৭৭৪২১১৪২

২. খুনীর চ্যালেঞ্জ | বিষকন্যা রহস্য

সকাল ৬টা

স্পটে যখন ওঁরা পৌঁছলেন, মেয়েটির বডি তখন বস্তা থেকে সবেমাত্র বের করা হয়েছে। মতিলালের চোখে প্রথমেই যেটা ধরা পড়ল, সেটা হল সেই পাটের বস্তাটা। একদম আইডেন্টিক্যাল। 

ঠিক এক মাস আগের মার্ডারের ক্ষেত্রেও ঠিক এই ধরনের বস্তা ব্যবহার করা হয়েছিল না? 

এই এলাকায় স্বাধীনতার পর থেকেই রুলিং পার্টি আর অপজিশনের মধ্যে পলিটিক্যাল রাইভ্যালরি লেগেই অ‍াছে। 

চান্দু হল রুলিং পার্টির গ্যাং লিডার, আর তার মেইন হ্যান্ডম্যান হল ছোনি। 

অন্যদিকে আছে গোরা।

চান্দুর দল ভেঙে বেরিয়ে গিয়ে নিজের দল গড়েছে। প্রতি তিন-চার মাস অন্তর এখানে একটা করে জোয়ান ছেলের লাশ পড়ে। পুলিশ দু-দলেরই কয়েকজনকে তুলে নিয়ে যায়, কিন্তু পলিটিক্যাল ইন্টারভেনশনে ওরা ঠিক বেল পেয়ে বেরিয়ে আসে।

বডিটা একটা চাদরের ওপর শোয়ানো ছিল। 

মেয়েটি সুন্দরী। বেশ শার্প ফিচারস। কিন্তু সেই হ্যান্ডসাম মুখে এখন প্রাণের কোনও স্পন্দন নেই। ভোরের প্রথম আলো তার ফ্যাকাশে মুখে পড়লেও কোনও রিঅ্যাকশন নেই। চোখ দুটো বন্ধ, যেন ঘুমোচ্ছে। মনে হচ্ছে ঘুমের মধ্যেই তাকে মারা হয়েছে। কিন্তু এই বয়সের মেয়ের শরীরে হাত পড়লেই রিঅ্যাকশন প্রত্যাশিত। ফলে ঘুম ভেঙে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ওর ঘুম ভাঙেনি। বিক্রম ঠিকই বলেছে, পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট পেলে জানা যাবে, ড্রাগের ওভারডোজ রয়েছে কি না। সেক্ষেত্রে সম্ভবত ঘুমের মধ্যেই অ্যাসফিক্সিয়েটেড। 

রাঘব বলল, স্যার, ওর হ্যান্ডব্যাগটা পাওয়া গেছে। ভেতরে আইডেন্টিটি কার্ড আছে। কলেজ আইডি। আর একটা ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট রিসেন্ট ফটোগ্রাফ পাওয়া গেছে অন্য একটা মেয়ের সঙ্গে। সম্ভবত ওর বন্ধু। 

ওর কলেজ ব্যাগ? মতিলাল অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন। 

শেখর পাশ থেকে বলল, এটা খুব অড, স্যার। 

অফকোর্স, মতিলাল মাথা নাড়লেন। কিলার এতটা কেয়ারলেস যে আমাদের কাজ সহজ করার জন্য ওর আইডেন্টিটি ফেলে রেখে গেল? নাকি এটা ওর চ্যালেঞ্জ?

রাঘবকে বেশ এজিটেটেড দেখাল। মিস্ট্রিটা তাকে কনফিউজ করে দিচ্ছে। বিক্রম এতক্ষণ চুপচাপ বডিটা স্টাডি করছিল। সে এবার মুখ খুলল, এর একটা কারণই হতে পারে মতিবাবু। কিলার খুব অডাসিয়াস। আমাদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে আইডেন্টিটি ওপেন করে দিয়ে। সে চাইলে এভিডেন্স ডেস্ট্রয় করতে পারত, কিন্তু করল না। কেন?

মতিলাল ফরেনসিক হেড ডঃ শৈলেন্দ্র সেনের দিকে ফিরলেন, স্পেশাল কিছু পেলেন, ডক? 

ডঃ সেন তাঁর টাক মাথায় হাত বুলিয়ে মাথা নাড়লেন, নোপ, নাথিং স্পেশাল, চিফ। সিম্পল স্ট্র্যাঙ্গুলেশন কেস। আমার মনে হয় ওকে প্রথমে ড্রাগ করা হয়েছিল, তারপর বালিশ চাপা দিয়ে অ্যাসফিক্সিয়েট করা হয়েছে। ধস্তাধস্তির কোনও চিহ্ন নেই। কিলার বডি টাচও করেনি সম্ভবত, সো নো সেক্সুয়াল মোটিভ।

মতিলাল বডিটার দিকে তাকিয়ে বললেন, কিলার খুব তাড়াহুড়ো করছিল। নিঃশব্দে কাজটা সেরেছে। মেয়েটাকে সম্ভবত ওর নিজের ঘরেই ঘুমের মধ্যে মারা হয়েছে, তারপর বডিটা এখানে ডাম্প করা হয়েছে। এখানে একের বেশি লোক ইনভলভড। কোয়েশ্চেন হল, ঠিক কতজন? 

ভোরের ঠাণ্ডা বাতাসটা একবার বুক ভরে টেনে নিয়ে মতিলাল বিড়বিড় করলেন, ওকে, লেটস ওয়েট ফর দ্য পোস্টমর্টেম রিপোর্ট। কোনও পায়ের ছাপ বা গাড়ির টায়ারের দাগ?

কামেশ্বর পাশ থেকে বলল, পাওয়া গেছে স্যার। ছবি তোলা হয়েছে। 

শেখর জিজ্ঞেস করল, ফোরেনসিক কি হয়ে গেছে স্যার। বডি কি পোস্টমর্টেমে পাঠাব? 

মতিলাল বললেন, ফটোগ্রাফ নেওয়া হয়েছে? 

হ্যাঁ স্যার। 

তাহলে বডি পাঠিয়ে দাও। আর ওর মায়ের সাথে কন্টাক্ট করো। মতিলাল একটু থেমে যোগ করলেন, কিলার হয় আমাদের সাহায্য করছে, সেক্ষেত্রে অন্য মনস্তত্ব কাজ করছে। নয়তো ওদের খুব হারি ছিল। অদ্ভুত ব্যাপার, ওরা কেন চায় আমরা সহজেই ভিকটিমকে চিনে ফেলি? এভিডেন্স ডেস্ট্রয় করার অনেক রাস্তা ছিল। পুড়িয়ে দিতে পারত, জলে ফেলে দিতে পারত। কিন্তু তা না করে আইডেন্টিটি ফেলে রেখে গেল। এর মানে একটাই, হয় ওরা খুব তাড়াহুড়োয় ছিল, অথবা ওরা চায় এটাই প্রমাণ করতে যে বাড়ির লোকের যোগ রয়েছে, অ‍ামাদের স্রেফ হায়ার করা হয়েছে ফর মার্ডার।

রাঘব বলল, আপনার কী মনে হয় স্যার, কিলার কি এই মেয়েটিকে বা এই ফ্যামিলিকে চিনত? 

মতিলাল বডিটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন, জানি না। পরিবেশটা কিছুক্ষণের জন্য সাইলেন্ট হয়ে গেল। 

মতিলাল আবার শুরু করলেন, যাই হোক, বডিটা পোস্টমর্টেমে পাঠাও। কামেশ্বরকে বলো বিকেলের মধ্যে সুরতহাল রিপোর্টটা তৈরি করে আমার অফিসে পাঠাতে। আর শেখর,,,

শেখর এগিয়ে এল, ইয়েস স্যার। তুমি অ্যাড্রেসটা জানো, ওর মাকে গিয়ে ইনফর্ম করো। আমি চাই না উনি এখন পুলিশ স্টেশনে আসুন। আমি নিজেই সন্ধ্যায় ওঁর সঙ্গে দেখা করতে যাব। কথা আছে। কিন্তু তার আগে আমি সুরতহাল রিপোর্টটা দেখতে চাই। সো গেট ইন টাচ উইথ কামেশ্বর। ওকে?

সাধারণত কোনও আনন্যাচারাল ডেথ বা সাসপিশাস সারকামস্ট্যান্সে বডি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একজন পুলিশ অফিসারকে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করতে হয়। অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর কামেশ্বর এই কাজে এক্সপার্ট। ইলেকট্রিক লাইটের আলোয় মাঝরাতেও সে নিখুঁত রিপোর্ট বানাতে পারে। আজও পর্যাপ্ত আর্টিফিশিয়াল লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল কারণ ভোরের আলো ঠিকমতো ফোটেনি, তার ওপর ঘন কুয়াশা সানলাইটকে আটকে দিচ্ছিল।

স্পট ছাড়ার আগে মতিলাল বললেন, তিলজলা থানাকে বলো পুরো এরিয়াটা কর্ডন অফ করে দিতে। প্রেস ইস নট অ্যালাউড।

বলার পর বিক্রমের দিকে তাকিয়ে নিজের স্পেশাল খুকখুক করে হাসিটা দিলেন মতিলাল।

Leave a Comment