অনলাইন স্টোর গোয়েন্দা বিক্রম, চিফ ডিটেকটিভ মতিলাল মিস্ত্রী ও জিনিয়াস হ্যাকার পিজির যাবতীয় বড়দের ক্রাইম থ্রিলার এখন পাওয়া যাচ্ছে Notion Book Store -এ। বইগুলো দেখুন →

প্রজেক্ট বিক্রম। একটি বাংলা রিডিং অ্যাপ।
গোয়েন্দা বিক্রমের যাবতীয় অ্যাডাল্ট ক্রাইম থ্রিলার এবার পড়া যাবে মোবাইল অ্যাপে। কিন্তু একে গুগল প্লে স্টোরে পেতে গেলে ১২ জন বিটা-টেস্টারের সাহায্য প্রয়োজন।
যাঁরা ওয়েবসাইটে লেখাগুলো পড়ছেন তাঁদের অনুরোধ অ‍ামার জিমেল sanjibdebsinha@gmail.com অ্যাকাউন্টে অ‍াপনার ফোনে যে জিমেল অ্যাড্রেসটি ব্যবহার করেন, সেটি পাঠান। সেখানে অ‍ামি ইনভিটেশন লিঙ্কটি পাঠাব। সেই লিঙ্ক থেকে অ‍াপনি গুগল প্লে স্টোর থেকে সরাসরি অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন ও ম‍‍োবাইলেই এবার থেকে সব লেখা পড়তে পারবেন।

অফলাইন স্টোর কলেজ স্ট্রিটে সমস্ত বই এখন থেকে পাওয়া যাচ্ছে। বুক ফ্রেন্ড। ৮/১/বি শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট, (মিত্র ঘোষের গলি, কফি হাউসের ঠিক পাশে)। ফোন - ৮৭৭৭৪২১১৪২

চ্যাপ্টার ৮: গন্তব্য মুম্বাই | অ‍াতঙ্কের শেষ প্রহর

ভোপাল পুলিশের হুটার আর সাইরেনের আওয়াজ দুপুরের ওই গুমোট হাওয়াটাকে চিরে ফালাফালা করে দিচ্ছিল। 

একটা কেওটিক সিম্ফনি তৈরি হলেও চিফ ডিটেকটিভ মতিলাল মিস্ত্রী আর বিক্রম ততক্ষণে হাওয়া। 

পুলিশের কাছে স্টেটমেন্ট দেওয়ার জন্য ওঁরা এখানে অ‍াসেননি। এই অপারেশনের কথা সরকারি স্তরে খুব উঁচু মহলের দু-একজন ছাড়া কেউই জানে না। কারণ, এখন অ‍ার এটা নিছক ব্যাংক ডাকাতি নয়। দেশের সুরক্ষা এখন জড়িয়ে গেছে।

অ‍ার মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে পোজ দেওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। 

এইভাবে জাস্ট উবে যেতে না পারলে এই ধরনের গ্যাংকে ধরা সম্ভব নয়। 

কয়েক মাইল দূরে, কিছুক্ষণ পর একটি বরফ-ঠাণ্ডা রেস্তরাঁর মধ্যে বসে নিজের ব্যাকপ্যাক খুলে ইউএসবি ড্রাইভটা লাগিয়ে পিজিকে লাইনটা ধরিয়ে দিল বিক্রম।

পিজি জানাল, সময় লাগবে পুরো ক্র্যাক করতে। তবে অ‍াপাতত তোরা মুম্বইয়ের দিকে রওনা হয়ে যেতে পারিস। 

তারও চল্লিশ মিনিট পর, টুইন-ইঞ্জিন লিয়ারজেটটা মেঘ চিরে সোজা সাউথ-ওয়েস্টের দিকে, আরব সাগরের অভিমুখে উড়ে চলল।

প্রেসারাইজড কেবিনের ভেতরকার নিস্তব্ধতাটা একেবারে নিশ্ছিদ্র। মতিলাল একদম স্টিল হয়ে বসে আছেন, তাঁর চোখ ডিজিটাল ফ্লাইট ট্র্যাকারের ওপর ফিক্সড। 

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, চক বাজারের ওই ধুলো আর কাদার নরক থেকে বেরিয়ে আসার পরও তাঁর সাদা শার্টটা ম্যাজিকের মতো পরিষ্কার, কেবিনের স্টেরাইল এলইডি আলো তাতে রিফ্লেক্ট করছে। তিনি তার থার্মোফ্লাস্ক থেকে এক টুকরো লেবু দেওয়া গরম জল খাচ্ছেন। 

আইলের উল্টোদিকের সিটে বিক্রম। তার কোলে অজয়ের সেই ছেঁড়া, ধুলোমাখা কালো ব্যাকপ্যাকটা রাখা। ওকে দেখে একটুও ক্লান্ত মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে ও একটা মেশিন, যে জাস্ট সাময়িকভাবে স্ট্যান্ডবাই মোডে আছে।

বাজারের ওই সিচুয়েশনটা, মতিলালের নিচু, খসখসে গলাটা নিস্তব্ধতা ভাঙল, স্ট্যাম্পিডে ন-জন আহত হয়েছে। নো ফ্যাটালিটিস। লোকাল পুলিশ চক বাজার লকডাউন করে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু অজয় আর ওর ওই মার্সেনারিগুলো বস্তির ভেতর দিয়ে ঠিক গলে বেরিয়ে গেছে।

আমরা কিছুটা বাধ্য হয়েই ওকে যেতে দিলাম, বিক্রম নির্লিপ্ত গলায় বলল, উপায় ছিল না।

আমরা নিরীহ মানুষের প্রাণ বাঁচালাম ভায়া, যাদের কিনা ওরা মারতে চায়, মতিলাল কারেক্ট করে দিলেন, তাঁর লজিক সবসময় রেজার-শার্প।

তারপর যোগ করলেন, একটা বাচ্চার মৃত্যু এই ইকুয়েশনে কোনো অ্যাকসেপ্টেবল ভ্যারিয়েবল হতে পারে না। অজয় একটা সিম্পটম মাত্র। নীরব হলো আসল অসুখের উৎস। আর এখন, ওই সিম্পটমের ডায়াগনস্টিক চার্টটা আমাদের হাতে চলে এসেছে। এখন মনে হচ্ছে এরা অ‍ারও বড় কোনও টেরর মডিউলের সঙ্গে যুক্ত।

বিক্রম ব্যাকপ্যাকের ছেঁড়া চেইনটা টেনে ভেতরের জিনিসগুলো ওদের মাঝখানের পালিশ করা মেহগনি কাঠের টেবিলের ওপর ঢালল।

খুবই প্যাথেটিক একটা কালেকশন। একটা আধখাওয়া ইনহেলার। তিন পাতা সস্তা প্যারাসিটামল। মুড়ে রাখা কয়েকটা নোংরা একশো টাকার নোট। আর একটা দোমড়ানো, ঘামে ভেজা ছবি।

বিক্রম ছবিটা হাতে নিল। ছবিটাতে অজয় একটা হাসপাতালের মরচে ধরা বেডের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। বেডে শুয়ে থাকা বয়স্ক লোকটার মুখটা সিভিয়ার স্ট্রোকে প্যারালাইজড, শূন্য দৃষ্টিতে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছে। লোকটার হাত দিয়ে সাপের মতো পেঁচিয়ে ওঠা স্যালাইনের টিউবগুলোকে আক্ষরিক অর্থেই বাজার থেকে ধার নেওয়া টাকার জালের মতো দেখাচ্ছে।

এও একধরনের কোল্যাটারাল ড্যামেজ, বিক্রম ফিসফিস করে বলল, ওর পাথরের মতো শক্ত চোখদুটো এক মাইক্রোসেকেন্ডের জন্য একটু সফট হলো, সিস্টেম ওর বাবাকে ফেল করেছে। মেডিক্যাল বিলের ধাক্কায় ওরা ডুবে গেছিল। নীরবকে ওকে ব্রেনওয়াশ করতে হয়নি। নীরব জাস্ট ওকে ফিনান্সিয়াল টার্গেটগুলোর দিকে পয়েন্ট করে দিয়েছিল। ফলে অজয়ের রাগ অ‍ার হতাশা ওকে এই দলে ভিড়িয়ে দেয়।

থার্টি থাউজেন্ড ফিট ওপরে এমপ্যাথি কিন্তু একটা বিশাল লাক্সারি, মতিলাল বললেন, যদিও তাঁর চোখ ছবিটার ওপর কয়েক সেকেন্ড আটকে ছিল, শেষে যোগ করলেন, এরা অ‍ামাদের সারা ভারত ঘোরাচ্ছে। সপ্তপদী সিনেমার সেই গানটার মত অ‍‍ামার গাইতে ইচ্ছে করছে, এই পথ যদি না শেষ হয়।

মতিলাল সত্যিই কিছুক্ষণ গুণগুণ করে গানটা গাইলেন, তারপর বললেন, দেখো অ‍ার কী বলছে ওই ইউএসবি ড্রাইভ।

ফিজিক্যাল আবর্জনাগুলো সরিয়ে বিক্রম সেই ভারী, টাইটানিয়াম-কেসড ইউএসবি ড্রাইভটা হাতে নিল। জেটের সিকিওর কমিউনিকেশন টার্মিনালে ড্রাইভটা প্লাগ-ইন করল সে।

পিজি, ইন্টারকমে ট্যাপ করে মতিলাল কমান্ড দিলেন। ড্রাইভ ইজ লাইভ। এবার তুই সময় নিয়ে এটাকে ক্র্যাক কর।

মাইল খানেক দূরে, কলকাতার বুকে নিজের ক্লাইমেট-কন্ট্রোলড, অন্ধকার স্যাংচুয়ারিতে বসে পিজি আঙুল মটকাল, আই সি ইট, চিফ, পারফেক্ট জেন্টলম্যানের গলা ওদের ইয়ারপিসে বাজল, এটা কিন্তু কোনো স্ট্যান্ডার্ড কমার্শিয়াল এনক্রিপশন নয়। অজয় এটা কোনো রেগুলার সার্ভার থেকে ডাউনলোড করেনি। দিস ইজ এইইএস-ফাইভ ওয়ান টু মিলিটারি-গ্রেড সাইফারিং। আমি যদি ভুল পাসওয়ার্ড দিই, বা কোনো স্ট্যান্ডার্ড ডিকশনারি ব্রুট-ফোর্স অ্যাটাক ট্রাই করি, ড্রাইভটা ফিজিক্যালি নিজের ফ্ল্যাশ মেমরিটা গলিয়ে প্লাস্টিক করে দেবে।

বাইপাস করতে পারবি? বিক্রম জিজ্ঞেস করল পিজিকে।

মাছ কি সাঁতার কাটতে পারে? ডাজ লিনাক্স রেইন সুপ্রিম? পিজির হাসির  অ‍াওয়াজ পাওয়া গেল, লাইনের ওপারে ওর মেকানিক্যাল কি-বোর্ডের মেশিনগানের মতো খটখট আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।

একইসঙ্গে পিজি জানাতে লাগল, ওরা ডেটা প্রটেক্ট করার জন্য একটা লজিক বোম্ব ইউজ করছে। সো, আমি দরজা ভাঙব না। আমি দরজাটাকে কনভিন্স করাব যে ওটা কোনোদিন লকড ছিলই না।

মতিলাল গরম জলে চুমুক দিলেন। খুকখুক করে হেসে বললেন, ওকে পিজি, টেক ইট ইজি।

পিজি বলল, গিভ মি এক্স্যাক্টলি এইটি সেকেন্ডস। আমি ডিক্রিপশন সিকোয়েন্সটা একটা বটনেট দিয়ে রাউট করছি, যেটা আমি একটা রাশিয়ান সার্ভার ফার্ম থেকে ধার করেছি। যদি লজিক বম্বটা ট্রিগার করে, তবে ওটা ওদের সার্ভার ওড়াবে, আমার বিউটিফুল সেটআপ নয়।

লিয়ারজেটের মেইন মনিটরটা ফ্লিকার করে উঠল। ড্রাইভের অ্যাগ্রেসিভ লাল কোডগুলোর সাথে পিজির এলিগ্যান্ট, সুইপিং সবুজ কমান্ডগুলোর একটা ভায়োলেন্ট ডিজিটাল নাইফ-ফাইট শুরু হয়ে গেল লাইট-স্পিডে।

কাম অন, ইউ পিস অফ সিলিকন ট্র্যাশ, ওরা দুজন ওদের ইয়ারপিসে পিজির বিড়বিড়ানি শুনতে পেল।

বিক্রম স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে, ওর ব্রিদিং সেই পারফেক্ট চার সেকেন্ডের রিদমে লক করা।

চল্লিশ সেকেন্ড।

লাল কোডগুলো হঠাৎ মাল্টিপ্লাই করতে শুরু করল। লজিক বম্বটা জেটের ফিজিক্যাল ড্রাইভটার থার্মাল ওভারলোড ইনিশিয়েট করছে। ইউএসবি-র টাইটানিয়াম কেসিংটা চোখে পড়ার মতো গরম হয়ে উঠল।

পিজি, ইটস হিটিং আপ, বিক্রম সাবধান করল।

আই নো! হারামজাদাটা ফার্স্ট সাইফারের নিচে একটা সেকেন্ডারি বায়োমেট্রিক লক লেয়ার করে রেখেছে। নীরব সত্যিই চায়নি কেউ এটা পড়ুক। পিজির গলায় রাগের সুর, যা কিনা বিরল।

কুড়ি সেকেন্ড। ড্রাইভটা এখন লিটারেলি ফুটছে। জেটের টার্মিনাল পোর্ট থেকে একটা সাদা, উৎকট গন্ধওয়ালা ধোঁয়া বেরোতে শুরু করল।

পুল ইট আউট, বিক্রম, মতিলাল ঠাণ্ডা গলায় অর্ডার দিলেন, পোর্টে মেল্ট করলে জেটের নেভিগেশন অ্যাভিওনিক্স ফ্রাই হয়ে যাবে।

বিক্রমের হাত ড্রাইভটার দিকে এগতেই পিজি গর্জে উঠল, ডোন্ট টাচ ইট! আই হ্যাভ ইট বাই দ্য থ্রোট! গিভ মি ফাইভ সেকেন্ডস!

স্ক্রিনটা একটা ব্লাইন্ডিং হোয়াইট ফ্ল্যাশ দিল।

তারপর… অ্যাবসলিউট স্টিলনেস। ধোঁয়া ওঠা বন্ধ হয়ে গেল। ড্রাইভটা কুল ডাউন করছে।

চেকমেট মতিবাবু, পিজি একটা লম্বা নিশ্বাস ছাড়ল, ওর গলায় উত্তেজনা, বিক্রমকে বলল, ডিক্রিপ্টেড ফাইলগুলো তোদের মনিটরে পাঠাচ্ছি। দেখে নে।

লিয়ারজেটের স্ক্রিনে বিশাল একটা আর্কিটেকচারাল ব্লু-প্রিন্ট চেহারা পেতে শুরু করল।

মতিলাল সামনের দিকে ঝুঁকলেন। ছবিতে যা দেখা যাচ্ছে তাতে এটা শুধু একটা বিল্ডিং নয়; এটা একটা পাতালে বানানো দূর্গ।

ভায়া, জায়গাটা আইডেন্টিফাই করো, মতিলাল অর্ডার দিলেন।

দ্য জাবেরী ভল্ট, পিজি মেটাডেটা হেডারগুলো পড়ে শোনাল, ওর গলা থেকে মজাটা এখন পুরোপুরি উধাও। 

পিজি বলে চলল, মুম্বাইয়ের বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সে ডায়মন্ড বোর্সের পঞ্চাশ ফুট নিচে। চিফ, এটা সাদার্ন হেমিস্ফিয়ারের সবচেয়ে বড় প্রাইভেট গোল্ড আর ডায়মন্ড ডিপোজিটরি। আল্ট্রা-রিচ লোকেরা ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার জন্য নিজেদের যে সম্পদ লুকোয়, এটা তার আড়ত।

বিক্রম ব্লু-প্রিন্টটা স্টাডি করল। ওর ট্যাকটিকাল মাইন্ড ইনস্ট্যান্টলি ডিফেন্সিভ পেরিমিটারগুলো আইডেন্টিফাই করে নিল। 

পিজি বিক্রমকে বলল, বুঝতে পারছিস তো, ইট ইজ ইমপ্রেগনেবল। চোক পয়েন্টগুলো দ্যাখ। কেউ সুড়ঙ্গ খুঁড়ছে কি না সেটা ডিটেক্ট করার জন্য কংক্রিটের ভেতর সিসমিক সেন্সর গাঁথা আছে। প্রতিটা ব্লাস্ট ডোরে বায়োমেট্রিক রেটিনাল স্ক্যানার। আর ভেন্টিলেশন শ্যাফটের ভেতর অটোমেটেড, নন-লিথাল গ্যাস ডেপ্লয়মেন্ট সিস্টেম।

অ্যান্ড দ্যাটস জাস্ট দ্য প্যাসিভ সিকিউরিটি, পিজি যোগ করল, ব্লু-প্রিন্ট বলছে ওখানে টুয়েন্টি-ফোর সেভেন একটা প্রাইভেট, হেভিলি আর্মড প্যারামিলিটারি স্কোয়াড অন-সাইট থাকে। কেউ ভেতরে ঢুকলে ওরা পুলিশ ডাকে না। ওরা জাস্ট বডিগুলো গায়েব করে দেয়।

বিভু দ্য ইঞ্জিনিয়ার, ফাইলে ডিটেইল করা স্ট্রাকচারাল লোড-বিয়ারিং পিলারগুলো স্ক্যান করতে করতে মতিলাল খসখসে গলায় বললেন, ফ্রন্ট ডোর দিয়ে ঢোকার জন্য ওর কোনো ম্যাপ লাগত না। ওর ম্যাপ লেগেছিল স্ট্রাকচারাল উইকনেসগুলো খোঁজার জন্য।

মতিলাল স্ক্রিনের একটা স্পেসিফিক সেকশনে ট্যাপ করলেন, লুক হিয়ার। ভল্টের ওয়েস্টার্ন ওয়ালের কোল ঘেঁষে রান করা তিনটে আন্ডারগ্রাউন্ড স্টর্ম ড্রেন ইন্টারসেকশন অজয় হাইলাইট করে রেখেছে। ওরা বায়োমেট্রিক ডোরগুলো পুরোপুরি বাইপাস করার প্ল্যান করছে। বিভু ভেবেছিল ওর বেঁচে থাকা সি-ফোর দিয়ে ফাইভ ফিট রেইনফোর্সড কংক্রিট ব্লো করে সোজা ভেতরে ঢুকবে।

ইটস আ স্ম্যাশ অ্যান্ড গ্র্যাব, টাইমলাইন ক্যালকুলেট করতে করতে বিক্রম বলল। ভায়োলেন্ট, লাউড, অ্যান্ড ইনক্রেডিবলি ফাস্ট। ওরা দেওয়াল ওড়াবে, ভল্ট ফ্লাড করবে, আনট্রেসেবল হিরেগুলো নেবে, আর প্রাইভেট সিকিউরিটি তাদের উইপন আনহোলস্টার করার আগেই ওই ফ্লাডেড স্টর্ম ড্রেন দিয়ে উধাও হয়ে যাবে।

দেয়ার ইজ সামথিং এলস মতিবাবু, পিজি বলল, একটু দাঁড়িয়ে যান। গল্প এখানেই শেষ নয়।

ফের টাইপিংয়ের শব্দ শুরু হলো ইয়ারপিসে। 

পিজি বলল, আমি অজয়ের ডাউনলোড করা এমবেডেড অপারেশনাল টাইমলাইনটার দিকে তাকিয়ে আছি। ওরা জাস্ট একটা ম্যাপ চুরি করেনি। এরা চুরি করেছে একটা অ‍াস্ত শিডিউল।

হোয়াট শিডিউল? জিজ্ঞেস করল বিক্রম।

জাবেরী ভল্টের অটোমেটেড সিকিউরিটি মেইনফ্রেম প্রতি ছ-মাসে একবার একটা রুটিন, ম্যান্ডেটরি ফার্মওয়্যার আপডেট নেয়, পিজি পড়ে শোনাল, ওর গলাটা ক্রমশ টেনশনে কাঁপতে লাগল, ওই আপডেটের সময়, সিসমিক সেন্সর আর অটোমেটেড গ্যাস টারেটগুলো রিবুট হওয়ার জন্য এক্স্যাক্টলি বারো মিনিটের জন্য অফলাইন হয়ে যায়।

মতিলাল কেবিনের দেওয়ালের ডিজিটাল ঘড়িটার দিকে তাকালেন, নেক্সট শিডিউলড আপডেট কখন?

আজ রাতে, পিজি ফিসফিস করে বলল, অ্যাট এক্স্যাক্টলি ১১:৪৫ পিএম। চিফ… দ্যাটস ইন থ্রি অ্যান্ড আ হাফ আওয়ার্স। আজ রাতেই হিট হচ্ছে। পাক্কা।

উপস, মতিলাল ফিসফিস করে বললেন, এতক্ষণে ওদের ছকটা বোঝা গেল। এদের পেছনে নির্ঘাত কোনও পাকা মাথা অ‍াছে। বড় কোনও টেরর মডিউল। বিদেশের টাকা থাকলেও অবাক হব না।

বরফ-ঠাণ্ডা কেবিনের ভেতর আছড়ে পড়ল এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতির গরম হাওয়া।

পিজি বিক্রমকে বলল, দ্যাখ, অ‍ামি শুরু থেকেই অ‍ান্দাজ করছিলাম যে এটা কোনো পাতি ব্যাঙ্ক রবারি নয়। দিস ইজ আ সিজ। নীরব, বিভু আর অজয় হেভিলি আর্মড, ডেসপারেট, এবং ওদের হারানোর আর কিচ্ছু নেই। ওরা যদি বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সের নিচে হাই এক্সপ্লোসিভ ডেটোনেট করে, তবে কোল্যাটারাল ড্যামেজ ক্যাস্টাস্ট্রোফিক হবে। ফাউন্ডেশন কম্প্রোমাইজড হলে ওপরের স্কাইস্ক্র্যাপারে থাকা কয়েকশো লেট-নাইট অফিস ওয়ার্কার মারা যেতে পারে।

পাইলট, মতিলাল ইন্টারকম বাটন প্রেস করলেন। তাঁর গলাটা কেবিনের থেকেও ঠাণ্ডা, ইঞ্জিনে ম্যাক্সিমাম থ্রাস্ট দাও। নব্বই মিনিটের মধ্যে আমার মুম্বাইয়ের মাটি চাই।

কপি দ্যাট, স্যার, পাইলটের গলাটা রীতিমতো আতঙ্কিত শোনাল।

মতিলাল আবার স্ক্রিনের দিকে ঘুরে পিজিকে বললেন, ভায়া, জাবেরী ভল্টের নেটওয়ার্কের ভেতর তোমাকে চাই। আই ওয়ান্ট আইজ অন এভরি ক্যামেরা। ওই ব্লাস্ট ডোরগুলোর কন্ট্রোল আমাদের চাই।

আমি অলরেডি ওদের ফায়ারওয়াল নক করছি, চিফ, পিজি বলল, কিন্তু এরা সাংঘাতিক প্যারানয়েড। এদের ইন্টারনাল নেটওয়ার্কটা এয়ার-গ্যাপড। এর অর্থ, এক্সটার্নাল ইন্টারনেটের সাথে এর কোনো কানেকশন নেই। কলকাতা থেকে বসে এটা হ্যাক করা ইমপসিবল। আমার একটা ফিজিক্যাল ব্রিজ লাগবেই।

এক্সপ্লেইন, বিক্রম জানতে চাইল।

তোদের দু-জনের মধ্যে একজনকে ডায়মন্ড বোর্সের ভেতরে হেঁটে ঢুকতে হবে, ওদের ইন্টারনাল সিকিউরিটি সাবনেটের সাথে কানেক্টেড কোনো হার্ডওয়্যার্ড ইথারনেট পোর্ট খুঁজে বের করতে হবে, আর সেখানে নিজেদের ফোনটা প্লাগ-ইন করতে হবে, পিজি ইনস্ট্রাকশন দিল বিক্রমকে, একবার সেটা হয়ে গেলে, আমি সিগন্যাল রাইড করে পুরো বিল্ডিং টেকওভার করে নেব। আনটিল দেন, ইউ আর ফ্লাইং ব্লাইন্ড ইনটু আ ফোর্ট্রেস।

মতিলাল নিজের কাফ অ্যাডজাস্ট করতে করতে উঠে দাঁড়ালেন। পাইলট থ্রটলটা রেডলাইন পার করে পুশ করায় লিয়ারজেটটা ভায়োলেন্টভাবে ভাইব্রেট করতে শুরু করেছে।

উই আর নট ফ্লাইং ব্লাইন্ড, মতিলাল নরম গলায় বললেন, জানলা দিয়ে মুম্বাইয়ের উপকূলরেখার দিকে তাঁর কালো চোখদুটো ফিক্সড। 

পিজি অ‍ার বিক্রম, দুজনকেই তিনি বললেন, আমরা জানি ওরা এক্স্যাক্টলি কোথায় আসতে চলেছে। অ্যান্ড উই হ্যাভ অ্যান অ্যাপয়েন্টমেন্ট।

বিক্রম ওর ট্র্যাংকুইলাইজার পিস্তলের কম্প্রেসড-এয়ার সিলিন্ডারটা চেক করে নিল। খুব স্মুদলি গ্রিপের ভেতর একটা ফ্রেশ ম্যাগাজিন স্লাইড করে দিল ও। বলল, প্রাইভেট সিকিউরিটির একটা গোটা আর্মির বিরুদ্ধে তিনটে ডেসপারেট ক্রিমিনাল। ইটস গোয়িং টু বি আ ব্লাডবাথ। রক্তের বন্যা বয়ে যাবে মতিবাবু।

কিন্তু সেটা হবে ওনলি ইফ উই আর লেট, মতিলাল রিপ্লাই দিলেন, অ‍ামরা চেষ্টা করব সেটা অ‍াটকাতে। এই গ্যাংটাকে অ‍ামরা এতটা অ‍ান্ডারএস্টিমেট করেছিলাম কেন বলো তো?

মুম্বাইয়ের স্কাইলাইন দূরে দেখা যাচ্ছে, আলোর একটা ঝিকমিক করা সমুদ্র, যার নিচে লুকিয়ে আছে বিলিয়ন বিলিয়ন টাকার অন্ধকার রহস্য। শেষ খেলাটা কি এখানেই খেলা হবে?

কী অপেক্ষা করে রয়েছে মতিলাল ও বিক্রমের জন্য?

Leave a Comment