খুন করে মাটিতে লাশ পুঁতে রাখলে তার সন্ধান সবার অাগে পায় শকুন।
অাগেকার দিনে অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসারেররা অাকাশে শকুনের চক্কর দেখেই বুঝে যেতেন কাছেপিঠে কোথাও লাশ পোঁতা রয়েছে।
এখন সেই শকুনেরা চক্কর কাটে ডার্ক ওয়েবে।
অন্ধকারের কালো জাল ভেদ করে সেই শকুনদের দেখা পাওয়াটা সত্যি কঠিন কাজ।
সাধারণ চোখে তা দেখা যায় না।
দেখা সম্ভবও নয়, কারণ – ক্যাশ টাকা তো এখানে হাত বদল হয় না।
পেমেন্ট হয় অদৃশ্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতে।
খুনী এখানে ভাড়া পাওয়া যায়। যে সুপারি দেবে, যাকে সুপারি দেবে, সবাই অদৃশ্য।
অার যাকে মারবে? সে তো জানতেই পারবে না, তার মাথার ওপর টিকিট লেগে গেল।
ঠিক যেভাবে জানতে পারেনি রোজি।
একটু অাগেই কাচের চুড়ি ভাঙার মত, একগুচ্ছ সুসজ্জিত অল্পবয়সী মেয়ের হাসিতে, ফেটে পড়েছে বান্দ্রার একটি অভিজাত টাওয়ারের তেত্রিশতম ফ্লোর। একটা দারুন মজার কথা বলেছে রিনি।
অাজ শুধু মেয়েদের পার্টি। ছেলেদের এখানে প্রবেশ নিষেধ।
প্রায় মাঝরাত।
পার্টি জমে উঠেছে। সুহাসিনীর প্রথম বিবাহ-বার্ষিকী। সব বন্ধুরাই এসেছে। বেশির ভাগই সিঙ্গল।
এখন অার কেউ চট করে ডাবল হতে চায় না। তাছাড়া বিয়ে টিকছেই বা কই।
রোজির যে কটা বন্ধু বিয়ে করল, তাদের বেশিরভাগই তো দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে অালাদা হয়ে গেল।
রোজিও বেশ খানিকটা জড়িয়ে পড়েছিল নীতিশের সঙ্গে। খুব জোর সামলে নিয়েছে। কিছুদূর মেশার পরেই জানা যায় নীতিশ বিবাহিত। অথচ নীতিশ কিনা পুরোটাই চেপে গেছিল। কেন মানুষ এমন করে?
কবজি উলটে ঘড়ি দেখল রোজি। প্রায় দেড়টা।
হলের ওপ্রান্তে সুহাসিনীর কাছে গিয়ে বলল, এই, যাই রে। মাকে একা রেখে এসেছি।
সুহাসিনী ওর বড়বড় করে অাঁকা চোখদুটো অারও বড় করে বলল, ইস, এত তাড়াতাড়ি চলে যাবি? হ্যাঁরে, মাসীমার শরীর ঠিক অাছে তো?
এখন তো ঠিকই অাছে। তিনটে কেমো তো নিতে পেরেছে, এবার বাকিটা দেখা যাক, দীর্ঘশ্বাস ফেলে রোজি বলল, যাই রে। পরে কথা হবে।
সুহাসিনী পেছন থেকে চেঁচিয়ে বলল, পৌঁছে একটা ফোন করিস কিন্তু।
সিওর। বাই এভরিওয়ান।
হাত নেড়ে রোজি বেরিয়ে এল ফ্ল্যাট থেকে।
ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে রোজি এগল লিফটের দিকে। কেমন যেন একটা অস্বস্তি হচ্ছে।
মনে হচ্ছে কেউ যেন ঠিক পেছনেই রয়েছে ওর। ওকে দেখছে।
রোজি একবার ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল।
কেউ নেই। ফাঁকা করিডর।
কাঁধ ঝাঁকিয়ে, মাথা নাড়িয়ে, ও ঢুকে গেল লিফটের ভেতর।
