অনলাইন স্টোর গোয়েন্দা বিক্রম, চিফ ডিটেকটিভ মতিলাল মিস্ত্রী ও জিনিয়াস হ্যাকার পিজির যাবতীয় বড়দের ক্রাইম থ্রিলার এখন পাওয়া যাচ্ছে Notion Book Store -এ। বইগুলো দেখুন →

অফলাইন স্টোর কলেজ স্ট্রিটে সমস্ত বই এখন থেকে পাওয়া যাচ্ছে। বুক ফ্রেন্ড। ৮/১/বি শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট, (মিত্র ঘোষের গলি, কফি হাউসের ঠিক পাশে)। ফোন - ৮৭৭৭৪২১১৪২

চ্যাপ্টার ৭: দ্য ভোপাল চেজ | অ‍াতঙ্কের শেষ প্রহর

দুপুর এখনও হয়নি, কিন্তু রোদটা আক্ষরিক অর্থেই জানান দিচ্ছে। গরম তো রয়েছেই, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে মারাত্মক হিউমিডিটি।

চারপাশের গোলকধাঁধার মতো গলিগুলোর ওপর একটা রোদ অ‍াছড়ে পড়লেও চারপাশের বড় বড় বাড়িগুলো ছায়া দিচ্ছে, ফলে মানুষের ভিড় এখন ছায়াময়। সবাই ছায়া দিয়েই হাঁটতে চায়।

ভোপালের গরম হাওয়ার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে একদিকে ভাজা জিরের গন্ধ, তো অন্যদিক থেকে ভেসে আসছে খোলা নর্দমার গন্ধ। তার সাথে মিশে যাচ্ছে টাটকা ভাজা পোহা-জিলিপি আর টু-স্ট্রোক অটো-রিকশার নীল, ঝাঁঝালো ধোঁয়া। 

একটা টগবগে মানুষের সমুদ্র যেন নানা শব্দে, গন্ধে গমগম করছে। এই ভিড়টাকে ঠিক বিশ্বাস করা যায় না। অ‍ার ঠিক এই কারণেই অজয় এই ভিড়ে ঠাসা শহরটাকে বেছেছে।

চিফ ডিটেকটিভ মতিলাল মিস্ত্রী এরকম অনিশ্চয়তা পছন্দ করেন না। কিন্তু সুখাদ্যের ব্যাপারে তাঁর ঘ্রাণশক্তি একটি প্রশিক্ষিত স্নিফার জার্মান শেফার্ডকেও হার মানাবে।

তিনি সামান্য গলা তুলে বিক্রমকে ফের বললেন, ভায়া একটু পোহা-জিলিপি চলবে নাকি? তোমার শক্তি কিন্তু বাড়ত।

বিক্রম মুচকি হেসে বলল, অ‍াপনার চললেই অ‍ামার চলা হবে।

মতিলাল দ্রুত এক ঠোঙা পোহা-জিলিপ গলাধঃকরণ করে রুমাল দিয়ে মুখ মুছে নিতে নিতে বললেন, ভায়া, খেয়ে দেখতে পারতে। সাক্ষাৎ অমৃত। এভাবে সব ইন্দ্রিয় দমন করে বড় ভুল করছ হে। এ জীবন তো অ‍ার ফিরে পাবে না। একটাই জীবন।

পোহা-জিলিপি খেয়ে একটা সরু গলির মুখে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি, এই মারাত্মক গুমোট গরমেও তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। তার সাদা শার্টটা ম্যাজিকের মতো পরিস্কার ও টানটান, শুধু নিজের মনের জোরে শহরের ধুলোবালিকে তিনি যেন তাচ্ছিল্য করে চলেছেন। 

একটা গলি থেকে ভোপালি কষা মাংসের তীব্র গন্ধ ভেসে আসছে। পাশ দিয়ে একটা রাস্তা-চলতি গরু হেলেদুলে হেঁটে গিয়ে পচা সবজির একটা স্তূপে মুখ গোঁজাল। মতিলাল এক চুলও নড়লেন না। তিনি জাস্ট নিজের পেরিমিটারটা রিক্যালকুলেট করে নিলেন। নেহাত এখন কষা মাংসের দিকে যাওয়া যাবে না, নইলে পরোটা দিয়ে লাঞ্চটা এখানেই সেরে নিলে মন্দ হত না।

কয়েক ফুট দূরে, একটা বন্ধ চায়ের দোকানের ছেঁড়া শামিয়ানার নিচে, ভাঙাচোরা ইটের দেওয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিক্রম। ওর পরনের ব্ল্যাক ট্যাকটিকাল জ্যাকেটের জিপ একেবারে কলার অব্দি টানা। ও নড়ছে না। 

বিক্রমের ভাবভঙ্গি দেখে মনে হতে পারে যে ও দিনের আলোয় বিশ্রাম নেওয়া একটা গাছের ছায়ার মত নির্লিপ্ত। বিক্রমের নির্লিপ্ততা অবাক করে দেয় মতিলালকে, বারবার। কীভাবে চূড়ান্ত বিপদের মধ্যেও ওর একটিও মুখের রেখাও কাঁপে না। 

মতিলাল খেয়াল করেছেন, বিক্রমের চোখ সমানে স্ক্যান করছে চারপাশের ছাদ, জানলা, আর পাস করে যাওয়া প্রতিটা মুখের মাইক্রো-এক্সপ্রেশন। এখানকার মানুষদের পোশাকের ধরন একটু আলাদা। 

পুরুষদের পরনে পাজামা আর চিকনের কাজ করা ফতুয়া, বয়স্কদের মাথায় কিস্তি টুপি। মহিলাদের বেশিরভাগই বোরখা বা কালো চাদরে ঢাকা।

পিজি ভায়া, স্ট্যাটাস বলো, মতিলাল গলা নামিয়ে বললেন। তাঁর গলা প্রায় ফিসফিসানির মতো, কিন্তু বাজারের ওই মারাত্মক আওয়াজ চিরে ঠিকই পৌঁছে গেল সুদূর কলকাতায়।

ডাউনলোড এখন এইটি-টু পার্সেন্ট, ইয়ারপিসে পিজির গলা ভেসে এল।

অ্যাকাডেমিক ওয়ার্ল্ড পিজিকে চেনে প্রকাশ গুপ্তা নামে। প্রকৃত বাস্তবে অ‍াসলে সে ছদ্মবেশী বৃদ্ধ, এমন একটা সারকাস্টিক প্রডিজি যে বেঁচে আছে কেল জুস আর ওপেন-সোর্স সফটওয়্যারের ভরসায়। 

কিন্তু ডার্ক ওয়েবের আন্ডারগ্রাউন্ড ফোরামগুলোতে, সে হলো একটা চলমান অশরীরি, যাকে সবাই চেনে পারফেক্ট জেন্টলম্যান নামে। 

শুধু তার ভদ্র ব্যবহারের জন্য তাকে এই নামে ডাকা হয় না। ডাকা হয় কারণ তার কোডে কোনও ভুল থাকে না। সে কোনোদিন গায়ের জোরে কোনো লক ভাঙে না। সে খুব ভদ্রভাবে ভেতর থেকে সিস্টেমটাকে ডিসম্যান্টল করে দেয়, আর সিস্টেম টেরও পায় না যে তাকে লুট করা হয়েছে।

আর ঠিক এই মুহূর্তে, পারফেক্ট জেন্টলম্যান খুব ভদ্রভাবে সেন্ট্রাল ভোপালের পাওয়ার গ্রিডটা ডিসম্যান্টল করছে।

কাজ করতে করতেই পিজি বলল, অজয় বারাণসীর রিপোর্ট পেয়ে গেছে। ফলে নার্ভাস হয়ে ঘামছে। ইয়ারপিসের ওপার থেকে ওর মেকানিক্যাল কি-বোর্ডের খটখট আওয়াজটা একটা স্ট্যাকাটো রিদম তৈরি করছে। 

পিজি যোগ করল, অজয় টার্মিনাল ফোর-এ বসে আছে। বারবার ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনের দিকে তাকাচ্ছে। ও জানে ও এক্সপোজড হয়ে যেতে পারে যখন তখন।

আর ওয়েলকামিং কমিটি? পাহারাদারদের কী খবর? একটা অন্ধকার সিঁড়ির দিকে চোখ লক করে বিক্রম জিজ্ঞেস করল। সিঁড়িটা একটা নিয়ন সাইনের নিচ দিয়ে সোজা বেসমেন্টে নেমে গেছে। সাইন-বোর্ডে লেখা: দ্য ডিজিটাল ম্যাট্রিক্স – হাই স্পিড গেমিং

ওকে পাহারা দিচ্ছে চারজন লোকাল সিন্ডিকেট এনফোর্সার, পিজি কনফার্ম করল, মেইন এক্সিটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ওদের কাছে কনসিলড সাবমেশিন গান আছে। হেভি ক্যালিবার। তোমরা যদি পুলিশের ইউনিফর্ম পরে ওই সিঁড়ি দিয়ে নামো, ওরা ওই বেসমেন্টটাকে একটা স্লটারহাউস বানিয়ে ছাড়বে।

গুড থিং উই আর নট ওয়েয়ারিং ইউনিফর্মস। কিছু না পরে এলেই বোধহয় ভাল হত, কী বলো ভায়া? মতিলাল খুকখুক করে হাসলেন।

পিজি বলল, তাহলে এখানকার বেগমরা অ‍াপনাকে তুলে নিয়ে চলে যেত মতিবাবু।

এই পঞ্চাশে কেন ফের চাষ বাসের লোভ দেখাচ্ছ ভায়া? মতিলালের গলা করুণ শোনাল। জানই তো, কথায় বলে, যেখানে বাস, সেখানে চাষ নয়। 

ইয়ার্কি ছাড়। ডাউনলোড নাইন্টি-ফাইভ পার্সেন্টে হিট করা পর্যন্ত ওয়েট কর, দেওয়াল থেকে পিঠ সরিয়ে বিক্রম বলল পিজিকে। তারপর ফিসফিস করে যোগ করল, অজয় তখন প্রগ্রেস বারের দিকে হাইপার-ফোকাসড থাকবে। টানেল ভিশন। দ্যাটস হোয়েন আই গো ইন।

নাইনটি পার্সেন্ট, পিজি কাউন্টডাউন শুরু করল, আমি মিউনিসিপ্যাল সাবস্টেশন বাইপাস করে দিয়েছি। কিল সুইচের ওপর আমার আঙুল আছে। জাস্ট সে দ্য ওয়ার্ড, আর আমি ওদের সোজা স্টোন এজে পাঠিয়ে দেব।

বিক্রম হাঁটতে শুরু করল। ও ভিড় ঠেলে এগোচ্ছে না; ও ভিড়ের মধ্যে দিয়ে নদীর স্রোতের মত বয়ে চলেছে। একটা সবজির ঠেলাগাড়ি আর একজন ছুটে চলা কুলি—দুজনের মাঝখান দিয়ে এমনভাবে গলে গেল ও, যেন আশেপাশ দিয়ে বয়ে চলা অদৃশ্য মোবাইলের তরঙ্গও ডিস্টার্বড হলো না, অ‍ার ঠিক এইভাবেই ও ওই অন্ধকার সিঁড়ির মুখে পৌঁছে গেল।

বেসমেন্ট থেকে বাসি ঘাম, সস্তা এনার্জি ড্রিঙ্ক, আর ওভারহিটেড প্রসেসরের ভ্যাপসা গন্ধ ভেসে আসছে।

নাইন্টি-থ্রি পার্সেন্ট, পিজি ফিসফিস করে বলল, অজয় টার্মিনালে একটা হাই-ক্যাপাসিটি এনক্রিপ্টেড ইউএসবি ড্রাইভ প্লাগ-ইন করছে। ও ডেটা পুল করে পালানোর জন্য রেডি হচ্ছে। বি কেয়ারফুল।

বিক্রম সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করল। কংক্রিটের ফ্লোরের ওপর ওর পায়ের কোনো শব্দই হলো না।

সাইবার ক্যাফেটা একটা টিমটিমে আলোর গুহার মতো। সারি সারি সস্তা, গ্লোয়িং মনিটরের আলোয় আলোকিত হয়ে আছে কয়েক ডজন লোকাল টিনএজারের মুখ। তারা ভায়োলেন্টভাবে মাউস ক্লিক করছে, মাল্টিপ্লেয়ার ওয়ার গেমে এখন ওরা হারিয়ে গেছে। এয়ার কন্ডিশনিংটা খারাপ। ঘরের ভেতরের হাইপার-টেনশনটা এতটাই ঘন যে চাইলে যেন চিবিয়ে খেয়ে নেওয়া যায়।

বিক্রমের চোখ ইনস্ট্যান্টলি ঘরটাকে ম্যাপ করে নিল।

টার্মিনাল ফোর। 

পেছনের কোণায় বসে অ‍াছে অজয়। 

কলেজ ড্রপআউট ছেলেটা অ‍াপাতত ফ্যাকাসে হয়ে আছে, ডেসকের নিচে ওর পা-টা পাগলের মতো ঠকঠক করে কাঁপছে। ওর পায়ের কাছে একটা কালো ব্যাকপ্যাক রাখা।

এক্সিটে চারজন লোক। 

এই মারাত্মক গরমেও গায়ে লোকগুলোর গায়ে ভারী লেদার জ্যাকেট। কোমরের কাছটা ফোলা। ওদের কঠিন চোখের দৃষ্টি সমানে ঘরটাকে স্ক্যান করছে। 

ওরা গেমার নয়। ওরা প্রিডেটর। অজয়ের পাহারাদার।

কিন্তু ওরা কোনোদিন অ‍াসল অ্যাপেক্স প্রিডেটরের সাথে মিট করেনি।

নাইন্টি-ফাইভ পার্সেন্ট, পিজি ফিসফিস করে বলল বিক্রমকে।

বিক্রম সিঁড়ির নিচে পৌঁছে গেল। ও ঘরের একদম মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে, কমপ্লিটলি এক্সপোজড।

পিজি, বিক্রম সফটলি বলল। টার্ন অফ দ্য সান।

ক্লিক। কয়েকশো মাইল দূরে কলকাতায় বসে পারফেক্ট জেন্টলম্যান তার এন্টার কি-টা হিট করল।

পুরো সিটি ব্লকটার পাওয়ার গ্রিড ইনস্ট্যান্টলি ডেড হয়ে গেল।

নিয়ন সাইন। মনিটর। মাথার ওপরের ফ্লুরোসেন্ট টিউব। সব ভ্যানিশ। সাইবার ক্যাফেটা নিমেষে একটা অ্যাবসলিউট, পিচ-ব্ল্যাক অন্ধকারে ডুবে গেল।

একজন নরমাল মানুষের ক্ষেত্রে, অ‍াচমকা অন্ধকার প্যানিক ট্রিগার করে। ক্যাফের ভেতরের টিনএজাররা চিৎকার করতে শুরু করল, কনফিউশনের চোটে চেয়ার উল্টে গিয়ে ফ্লোরের ওপর বিশ্রী আওয়াজ হতে লাগল।

বিক্রমের কাছে, অন্ধকার মানে ট্যাকটিকাল অ্যাডভান্টেজ। ওর দেখার দরকার নেই। লাইট অফ হওয়ার ঠিক এক মাইক্রোসেকেন্ড আগে ও চারজন মার্সেনারির এক্স্যাক্ট স্পেশাল কোঅর্ডিনেটস মেমরাইজ করে নিয়েছে।

বিক্রম মাইক্রোসেকেন্ডে মুভ করল।

এক – বিক্রম সামনের দিকে এগল, এক হার্টবিটে দশ ফুট কভার করে ফেলল। সস্তা তামাক আর চুলের তেলের গন্ধ শুঁকে ও প্রথম মার্সেনারিকে লোকেট করল। অন্ধকারে বিক্রমের ডান হাতটা ছিটকে বেরিয়ে গেল, ওর আঙুলগুলো একটা রিজিড স্পিয়ারের মতো ফর্ম করেছে। পারফেক্টলি ক্যালিব্রেটেড ফোর্সের সাথে ও লোকটার ল্যারিংক্স-এ স্ট্রাইক করল। মারার জন্য নয়। শুধু উইন্ডপাইপটা বন্ধ করার জন্য এটাই যথেষ্ট। লোকটা টুঁ শব্দ না করে মাটিতে গড়িয়ে পড়ল।

দুই – জামাকাপড়ের ঘষা লাগার শব্দে সেকেন্ড মার্সেনারি রিঅ্যাক্ট করল। সে তার ওয়েস্টব্যান্ডে গোঁজা সাবমেশিন গানটা বের করার জন্য হাত বাড়াল। কিন্তু তার অ‍াগেই বিক্রম বাঁ পা-টা সুইপ করে লোকটার নি জয়েন্ট শ্যাটার করে দিল। মার্সেনারিটা চিৎকার করে সামনের দিকে পড়ে যাওয়ার সময়, বিক্রম ওর স্কাল-এর ঠিক বেস-এ একটা ডেভাস্টেটিং এলবো ড্রপ করল। লাইটস আউট।

তিন – থার্ড মার্সেনারি প্যানিক করল। ওই ঘুটঘুটে অন্ধকারে, সে তার উইপন আনহোলস্টার করে ব্লাইন্ডলি চার্জিং হ্যান্ডেলটা কক করল। মেটালিক ক্ল্যাক-ক্ল্যাক শব্দটাই ওর এক্স্যাক্ট পজিশন বলে দিল। ইনভিজিবল লাইন অফ ফায়ারের নিচ দিয়ে ডাক করে বিক্রম লোকটার উইপন ধরা হাতটা খপ করে ধরল। হাড় ভাঙার শব্দ না হওয়া পর্যন্ত রিস্ট-টা পেছনের দিকে টুইস্ট করল, আর তারপর একটা ব্রুটাল স্লিপার হোল্ড অ্যাপ্লাই করল। তিন সেকেন্ড পর, লোকটা নেতিয়ে পড়ল।

চার – লাস্ট মার্সেনারি বুঝতে পারল তাদের স্কোয়াড একটা ভূতের হাতে খতম হচ্ছে। আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে সে তার এসএমজি থেকে একটা ওয়াইল্ড, সুইপিং বার্স্ট ফায়ার করল। 

মাজল ফ্ল্যাশগুলো ভায়োলেন্টভাবে স্ট্রোব করতে লাগল, ডেমনিক হলুদ আলোর ঝলকানিতে ওই কেওটিক, চিৎকার করতে থাকা ক্যাফেটা কয়েক সেকেন্ডের জন্য আলোকিত হয়ে উঠল। বুলেটগুলো কংক্রিটের সিলিং চিবিয়ে খেতে লাগল, আতঙ্কে কাঁপতে থাকা টিনএজারদের মাথার ওপর ঝুরঝুর করে প্লাস্টার খসে পড়তে লাগল।

বিক্রম ওই মাজল ফ্ল্যাশকে দেখে টার্গেট কোথায় বুঝে ফেলল। ও শূন্যে ডাইভ দিল, চার নম্বর লোকটাকে ট্যাকল করে সোজা এক সারি ডেড কম্পিউটারের ওপর আছড়ে ফেলল। নিজের হাঁটু দিয়ে মার্সেনারির গান আর্মটা পিন ডাউন করে, বিক্রম ওর টেম্পল-এ একটা সিঙ্গেল, ক্যালকুলেটেড পাঞ্চ ডেলিভার করল।

অন্ধকার ঘরে আবার নিস্তব্ধতা ফিরে এল, শুধু আটকে পড়া গেমারদের চাপা কান্নার শব্দ ছাড়া আর কিছু শোনা যাচ্ছে না।

চারজন আর্মড মেন। এক্স্যাক্টলি অ‍াট সেকেন্ডে নিউট্রালাইজড।

অজয় ইজ মুভিং! ইয়ারপিসে মতিলালের গলা ভেসে এল। চিফ ডিটেকটিভ বাইরে আছেন, ভিড়ের ফ্লো রিড করছেন।

বিক্রম টার্মিনাল ফোর-এর দিকে স্প্রিন্ট করল। ও ডেস্কে ধাক্কা খেল। পোর্টে ইউএসবি ড্রাইভটা নেই। কালো ব্যাকপ্যাকটাও নেই।

কিন্তু এর মধ্যেই অন্ধকারে এক টিনএজার ভয়ের চোটে হাতের কাছে কাউকে না পেয়ে বিক্রমকে জড়িয়ে চেঁচাতে লাগল, ভুত, ভুত।

কয়েক সেকেন্ড লাগল ছেলেটাকে ছাড়াতে। বিক্রম বলতে লাগল, ওরে অ‍ামি ভুত নই। ভুতের ওঝা।

কিন্তু এই দেরির সুযোগ নিল অজয়।

হি ওয়েন্ট আউট দ্য ব্যাক! বিক্রম চিৎকার করে ডেস্কের ওপর দিয়ে ভল্ট দিয়ে পেরিয়ে লাথি মেরে একটা মরচে ধরা ফায়ার এক্সিট দরজা খুলে ফেলল, আর ক্যাফের পেছনের একটা সরু, রোদে পোড়া সার্ভিস অ্যালিতে এসে পড়ল।

তিরিশ গজ দূরে, অজয় তখন পাগলের মতো দৌড়চ্ছে, ব্যাকপ্যাকটা ওর পিঠে তালে তালে লাফাচ্ছে। 

বা‍েঝাই যাচ্ছে, ও ঠিক কতটা ডেসপারেট। কতটা অ‍াতঙ্কিত। অ‍ার সেই কারণেই এতটা ফাস্ট।

টার্গেট অ্যাকোয়ার্ড। ইন পারসুট, মতিলালের দিকে চিৎকারটা ছুঁড়ে দিয়েই বিক্রম দৌড়তে শুরু করল। একটা ডেড স্প্রিন্টে লঞ্চ করার সময়ও ওর ব্রিদিং পারফেক্টলি রেগুলেটেড।

আমি ইন্টারসেপ্ট করার জন্য মুভ করছি, মতিলাল ঠাণ্ডা গলায় রিপ্লাই দিলেন, পিজি, ট্র্যাক হিজ ফোন।

ও ওটা ডাম্প করেছে! ওপার থেকে পিজি বলল, ক্যাফেই সিগন্যাল ডেড হয়ে গেছে। হি ইজ টোটালি অফ দ্য গ্রিড, চিফ। তোমাদের অ্যানালগ ওয়েতেই ওকে ফলো করতে হবে! অ‍ামি সিসিটিভি দেখে যতটা পারা যায় হেল্প করছি।

অজয় সরু গলি থেকে ছিটকে বেরিয়ে সোজা চক বাজারের মেইন আর্টারিতে পড়ল। একটা ফলের ঠেলাগাড়ির সাথে মারাত্মক ধাক্কা খেল ও, কয়েকশো কমলালেবু আর মুসাম্বি রাস্তার এবড়োখেবড়ো পাথরের ওপর ছিটকে পড়ল। 

কিন্তু ওই ধাক্কা ওকে থামাতে পারল না। শাড়ি পরা একদল মহিলার মধ্যে দিয়ে প্রায় ধাক্কা মেরে বেরিয়ে গেল ও, ফলে ঘুরে দাঁড়িয়ে মহিলারা দেশােয়ালি ভাষায় চেঁচাতে লাগলেন। পেছনে বিক্রমকে দৌড়তে দেখে তাঁদের চিৎকার বদলে গেল অ‍ার্তনাদে, অ‍াই মা, ইয়ে কেয়া চল রহা হ্যায়।

ওপরের ঝুলে বারান্দাগুলোতেও ভিড় জমে গেছে, কে একটা সেখান থেকে বিজ্ঞের মত বলল, অ‍ারে, বড়িয়া শুটিং চলা রহা হ্যায়। 

সবাই যে কত মূর্খ, সে ব্যাপারেও তার মতামত জানাতে পিছপা হল না সে।

রাস্তার উল্টোদিক থেকে কে একটা বলল, উয়ো দেখো, নায়ক অ‍া গয়া।

কারণ মতিলাল গলির উল্টোদিক থেকে ঠিক নায়কের মতই উদয় হয়েছেন।

বিক্রম একটুও স্পিড না কমিয়ে উল্টে যাওয়া ফলের গাড়িটা হার্ডল-এর মতো টপকে গেল। অজয়ের সঙ্গে ওর ব্যবধান কমে অ‍াসছে। 

মতিবাবু, ও নর্থের দিকে যাচ্ছে, মসজিদের দিকে, বিক্রম দৌড়তে দৌড়তেই রিলে করল, ওর চোখ বাউন্স করতে থাকা কালো ব্যাকপ্যাকটার ওপর লকড।

ওকে ভায়া, কপি ইট, মতিলাল বললেন।

অজয় একটা জ্যামে আটকে থাকা ট্যাক্সির হুডের ওপর দিয়ে স্ক্র্যাম্বল করে পার হলো, ওর লাংস বার্ন করছে। একবার ও পেছনের দিকে তাকাল।

এক ঝলক দেখা গেল ওর ভয়ার্ত মুখটা। 

কালো জ্যাকেট পরা লোকটা প্রায় ওকে ধরে ফেলেছে। 

যেন যন্ত্রণা পেয়েছে এভাবে অজয় ককিয়ে উঠল, তারপর শার্পলি ডানদিকে কাট করে দুটো বিশাল জুয়েলারি দোকানের মাঝখানের একটা চোক পয়েন্টের দিকে দৌড়ল।

ফাঁকটা দিয়ে গলে গেলেও সোজা গিয়ে ধাক্কা খেল একটা নিখুঁতভাবে ইস্ত্রি করা সাদা শার্টের সাথে।

চিফ ডিটেকটিভ মতিলাল মিস্ত্রী গলির ঠিক মাঝখানে, পারফেক্টলি সেন্টারড হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি দৌড়াননি। তিনি সিম্পলি এস্কেপ ভেক্টরটা ক্যালকুলেট করেছিলেন আর হেঁটে কারেক্ট কোঅর্ডিনেটে এসে দাঁড়িয়েছেন।

অজয় মতিলালের রিজিড ফ্রেমে ধাক্কা খেয়ে বাউন্স করে পিছিয়ে এসে ধুলোর ওপর পড়ল। ও একটা কাঁকড়ার মতো পিছিয়ে যেতে লাগল, আতঙ্কে ওর চোখদুটো বড় বড় হয়ে গেছে।

চারপাশের ভিড় থেকে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস হাউইয়ের মত অ‍াকাশের দিকে উড়ে গেল। দু-একটা হাততালিও শোনা গেল।

এন্ড অফ দ্য লাইন, অজয়, মতিলাল খুকখুক করে হাসতে হাসতে বললেন। তিনি নিজের বন্দুক বের করলেন না। শুধু একটা হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, গিভ মি দ্য ব্লু-প্রিন্টস।

অজয় বাঁদিকে তাকাল। বিক্রম মেইন রাস্তা ব্লক করে দাঁড়িয়ে আছে। ও ডানদিকে তাকাল। মতিলাল গলিটা ব্লক করে আছেন। ও ট্র্যাপড।

তারপর, ড্রপআউট ছেলেটা হাসল। একটা টুইস্টেড, ডেসপারেট, হিস্টেরিক্যাল হাসি।

আমি আর লজিস্টিক্স গাই নই, অজয় চিৎকার করে উঠল, ওর গলাটা ভেঙে যাচ্ছে। আই অ্যাম দ্য বেট!

হঠাৎ, বাজারের আওয়াজ চিরে ডিজেল ইঞ্জিনের কানে তালা লাগানো গর্জন শোনা গেল।

একটা মরচে ধরা, আর্মার-প্লেটেড মহিন্দ্রা জিপ গলির মুখের কাঠের স্টলগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে ঢুকে এল, চারদিকে স্প্লিন্টার আর চিৎকার করতে থাকা মানুষজন ছিটকে পড়ল। খোলা জিপটার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে তিনজন লোক, হাতের একে-৪৭-য়ের ওপর রোদ পড়ে ঝকঝক করছে।

নীরব শুধু ক্যাফে পাহারা দেওয়ার জন্য লোক রাখেনি। ও একটা পুরো এক্সট্র্যাকশন টিম হায়ার করেছিল।

ডাউন মতিবাবু! বিক্রম গর্জে উঠল।

জিপের লোকগুলো যে গুলি চালাতে শুরু করবে তা তো প্রত্যাশিত।

ব্যাং-ব্যাং-ব্যাং-ব্যাং!

হেভি ৭.৬২এমএম রাউন্ডগুলো স্টোরফ্রন্টগুলো শ্যাটার করে দিল। ডেডলি কনফেটির মতো চারদিক থেকে কাঁচ ঝরে পড়তে লাগল। ইটের দেওয়ালগুলো এক্সপ্লোড করল। 

গিজগিজে বাজারটা সঙ্গে সঙ্গে, কান-ফাটানো আতঙ্কে ধোঁয়ার মত পাকিয়ে উঠে একটা জলজ্যান্ত হুড়োহুড়িতে পরিণত হলো। 

শুটিং দেখা মাথায় উঠল। জায়গাটা থেকে পালানোর জন্য হাজার হাজার লোক একে অপরের গায়ে পড়ে, ধাক্কাধাক্কি করে, একে অন্যকে পদদলিত করে পালাতে লাগল। 

ভোপালের নবাবী মেজাজ নিমেষে কাবাবী ব্লাডবাথে পরিণত হলো।

মতিলাল একটা ভারী পাথরের পিলারের পেছনে ডাইভ দিলেন। বিক্রম একটা কাস্ট-আয়রন মেলবক্সের পেছনে রোল করল, ওর মাথা থেকে কয়েক ইঞ্চি দূরে মেটালের গায়ে বুলেট লেগে স্পার্ক করছে।

অজয় তড়িঘড়ি উঠে দাঁড়িয়ে ওই স্ক্রিচ করতে থাকা জিপটার দিকে পাগলের মতো দৌড় দিল।

মতিলাল খুব স্মুদলি নিজের সার্ভিস পিস্তল ড্র করলেন। তাঁর মুখে ভয়ের লেশমাত্র নেই। তার ব্রেন লাইট-স্পিডে ওই কেওটিক সিনটার জিওমেট্রি প্রসেস করছে।

উইন্ড স্পিড: নেগ্লিজিবল। 

ডিস্ট্যান্স: চল্লিশ গজ। 

টার্গেট: অজয়ের সেন্টার মাস।

মতিলাল কভার থেকে বেরিয়ে এলেন। তিনি একটা ফ্ললেস উইভার স্ট্যান্স নিলেন। আয়রন সাইটটা তিনি অজয়ের স্পাইনের সাথে আলাইন করলেন। তাঁর আঙুল খুব আলতো করে ট্রিগারে প্রেশার অ্যাপ্লাই করল। ইট ওয়াজ আ গ্যারান্টিড কিল। জিপে পৌঁছনোর আগেই তিনি লজিস্টিক্স ম্যানকে ড্রপ করে দেবেন।

কিন্তু ঠিক তখনই, লজিক ওভাররাইড করল ইন্সটিংক্টকে।

অজয়ের ঠিক পেছনে, এক্স্যাক্টলি লাইন অফ ফায়ারে, স্ট্যাম্পিডের মধ্যে পড়ে গেছে এক বৃদ্ধা। সে তার আতঙ্কে জমে যাওয়া নাতনিকে বুকের কাছে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বসে আছে, আর তার চারপাশ দিয়ে পাগলের মতো ভিড় ছুটে যাচ্ছে।

মতিলালের ট্যাকটিকাল কম্পিউটার নাম্বারগুলো রান করল। হাই-ভেলোসিটি ৯এমএম রাউন্ডটা অজয়ের শরীর ভেদ করে সোজা বেরিয়ে যাবে। ওভার-পেনিট্রেশন হয়ে পেছনের বাচ্চাটার গায়ে লাগার প্রোবাবিলিটি এইটি-সেভেন পার্সেন্ট।

চিফ ডিটেকটিভের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। তিনি এই ডাকাত তথা টেররিস্ট গ্যাংকে থামাতে পারেন। নন্দিনীর মৃত্যুর বদলা নিতে পারেন। নীরবের অপারেশনটা তিনি ঠিক এখানেই, এই মুহূর্তেই পঙ্গু করে দিতে পারেন।

কিন্তু মতিলাল মিস্ত্রী কোনো মার্ডারার নন। হি ইজ আ পুলিশম্যান।

তিনি আস্তে আস্তে নিজের গ্লক পিস্তল নামিয়ে নিলেন।

অজয় একজন মার্সেনারির বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা খামচে ধরল আর বিপজ্জনকভাবে ওই জিপের পেছনে উঠে পড়ল। গানম্যানরা একটা ফাইনাল, সুইপিং ব্যারেজ অফ সাপ্রেসিং ফায়ার ডেলিভার করল, ব্লকের বাকি জানলাগুলোও চুরমার হয়ে গেল।

জিপটা কর্নার ঘুরে অ্যাসফাল্টের ওপর টায়ারের স্ক্রিচিং শব্দ তুলে ভোপালের ধোঁয়াশার ভেতর স্রেফ উধাও হয়ে গেল।

বাজারে আবার নিস্তব্ধতা ফিরে এল, যেটাকে সাথে সাথেই রিপ্লেস করল আতঙ্কিত জনতার কান্না ও অ‍ার্তনাদ, ভাগো, ভাগো, ইয়ে ফিল্মকা শুটিং নেহি, অ‍াসলি শুটিং হ্যায়।

গুলি চলতে দেখেই ওপরের বারান্দায় ঝুলে থাকা লোকগুলো উবে গেছে।

মতিলাল সেই শ্যাটার্ড রাস্তার ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে রইলেন। তার সাদা শার্টটা গুঁড়িয়ে যাওয়া ইটের ধুলোয় মাখামাখি। তিনি খুব শান্তভাবে নিজের গ্লকটা খাপে ভরে রাখলেন।

বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া মেলবক্সের পেছন থেকে বিক্রম বেরিয়ে এল। ও মতিলালের কাছে হেঁটে এল, ওর চোখ পালানো জিপটার টায়ার ট্র্যাকগুলো ফলো করছে।

ইউ হ্যাড দ্য শট, মতাবাবু। কিন্তু কিছু করার নেই। বাচ্চাটাও গুলি খেত, বিক্রম শান্তভাবে বলল, ছেলেটা লাকি। এ যাত্রায় বেঁচে গেল। তবে বেশিদিনের জন্য নয়। শুধু ওকে নয়, ওদের সবকটাকেই অ‍ামরা ধরব।

ইয়েস, শট ওয়াজ কম্প্রোমাইজড, মতিলাল বললেন, তাঁর গলাটা যেন এক টুকরো বরফ, কোল্যাটারাল ড্যামেজ ইজ আনঅ্যাকসেপ্টেবল, ভায়া। অজয় লিভস টু রান অ্যানাদার ডে। শুধু ওকে কেন, এই গোটা গ্যাংটাকেই অ‍ামাদের যে করেই হোক ধরতে হবে। 

ভিকি… ইয়ারপিসে পিজির গলায় সামান্য নার্ভাসনেস প্রতিধ্বনিত হল,  ভল্টের ব্লু-প্রিন্টওয়ালা ফ্ল্যাশ ড্রাইভটা কি তোরা পেয়েছিস? অজয়ের থেকে‍ও ওটা বেশি দরকার।

মতিলাল মাটির দিকে তাকালেন।

অজয় পালিয়েছে ঠিকই। কিন্তু জিপে ওঠার ওই প্যানিকড স্ক্র্যাম্বলের সময়, ওর ভারী কালো ব্যাকপ্যাকটা মরচে ধরা বাম্পারে আটকে ছিঁড়ে গেছে।

আর ধুলোর ওপর, পালিয়ে যাওয়া ড্রপআউটটার ফেলে যাওয়া সেই এনক্রিপ্টেড ইউএসবি ড্রাইভটা পড়ে আছে।

বিক্রম নিচু হয়ে ওটা তুলে নিল। ও সেটা আলোর দিকে ধরল।

আমরা অজয়কে পাইনি ঠিকই, বিক্রম বলল, ওর ঠোঁটের কোণে অবশেষে একটা মৃদু হাসি ফুটে উঠল, বাট উই গট হিজ টয়েজ। ছেলেটা পালিয়েছে ঠিকই মতিবাবু, কিন্তু ওর ব্রেনটা এখন আমাদের হাতে।

মতিলাল নিজের শার্টের ধুলো ঝাড়লেন, ইয়ারপিসে বললেন, পিজি, এই ইউএসবি ড্রাইভটা এখন আমাদের স্যান্ডউইচ। এর ভেতর কী মশলা আছে দেখো তো। ইস হারামজাদাটার জন্য ভোপালের পরোটা অ‍ার মাংস খাওয়া হল না।

লেখাটি ভালো লাগলো?

এই থ্রিলার মাল্টিভার্সকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং লেখায় বাড়তি অক্সিজেন জোগাতে চাইলে সাপোর্ট করতে পারেন।

কীভাবে সাপোর্ট করবেন? →

Leave a Comment