অনলাইন স্টোর গোয়েন্দা বিক্রম, চিফ ডিটেকটিভ মতিলাল মিস্ত্রী ও জিনিয়াস হ্যাকার পিজির যাবতীয় বড়দের ক্রাইম থ্রিলার এখন পাওয়া যাচ্ছে Notion Book Store -এ। বইগুলো দেখুন →

অফলাইন স্টোর কলেজ স্ট্রিটে সমস্ত বই এখন থেকে পাওয়া যাচ্ছে। বুক ফ্রেন্ড। ৮/১/বি শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট, (মিত্র ঘোষের গলি, কফি হাউসের ঠিক পাশে)। ফোন - ৮৭৭৭৪২১১৪২

১০. ডায়েরির হেঁয়ালি | বিষকন্যা রহস্য

বিকেল ৫.১০

এটা ঠিকই যে ভজনলালের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে অ‍াগাম কিছু অনুমান করা উচিত নয়। 

সবথেকে বেশি দরকার, অ‍ারও বেশি তথ্য, প্রমাণ এবং এইসব তথ্যের মধ্যে যুক্ত হয়ে থাকা সম্পর্ক। 

 অসম্পূর্ণ হলেও একটা বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছিল—ভট্টাচার্য প্যালেস আসলে একটা জ্যান্ত মিউজিয়াম, যেখানে গত দুই দশকের অজস্র নোংরা রহস্য ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। এটা এখন আর কেবল ক্রাইম সিন নয়, বরং মিথ্যে আর প্রতারণার স্তরে স্তরে জমে থাকা একটা আর্কিওলজিক্যাল ডিগ (archaeological dig)।

বিক্রম আর মতিলাল নিজেদের টিমকে নিয়ে হলঘরে দাঁড়ালেন। বিক্রমের পরনে ব্ল্যাক ট্যাকটিক্যাল জ্যাকেট, চোখে সেই তীক্ষ্ণ কম্যান্ডো লুক।

বিক্রম নির্দেশ দিল, ওকে বয়েজ, মন দিয়ে শোনো। আমাদের এমন কিছু খুঁজে বের করতে হবে যা ওরা পুড়িয়ে ফেলতে বা মাটি চাপা দিতে পারেনি। ভজনলালের কথা অনুযায়ী, অতীতের সাথে বর্তমানের একটা গভীর যোগসূত্র আছে। তাই পুরো বাড়িটা তন্নতন্ন করে সার্চ করো।

মতিলাল যোগ করলেন, ফোকাস করো পার্সোনাল এরিয়াগুলোতে। বিশেষ করে জয়ন্ত নারায়ণ ভট্টাচার্যের স্টাডি রুম। ওখানেই সব ঘুঁটি সাজানো হত।

বিক্রম রাঘব আর শেখরকে নিয়ে বড়কর্তার সেই খাস স্টাডিতে ঢুকল। ঘরটা গ্রাউন্ড ফ্লোরে, যেখানে বড়কর্তা তাঁর ক্লায়েন্ট আর সেই রহস্যময় কুলগুরু শঙ্কর মহারাজের সাথে মিটিং করতেন। ধুলোর আস্তরণ আর পুরনো বইয়ের গন্ধে ঘরটা ভারী হয়ে আছে।

বিক্রম আলমারিগুলো চেক করতে করতে বলল, মতিবাবু, জয়ন্ত নারায়ণ ভট্টাচার্যের সেই অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান সেক্রেটারি ববি-র কথা মনে আছে? এই প্যালেসের কাস্ট হায়ারার্কি (caste hierarchy) এতটাই স্ট্রং ছিল যে সেই মহিলাকে কখনও ওপরের তলায় উঠতে দেওয়া হয়নি। জয়ন্ত নারায়ণের মৃত্যুর পরই চন্দ্রলেখা ওনাকে ওপরে যাওয়ার পারমিশন দিয়েছিলেন।

মতিলাল মাথা নাড়লেন। জয়ন্ত নারায়ণ কেবল একজন দুঁদে ব্যারিস্টারই ছিলেন না, তাঁর ভেতরে একটা ভয়ংকর অপরাধী মন লুকিয়ে ছিল। জগনের মৃত্যুকে ওভাবেই সুইসাইড বলে চালিয়ে দেওয়া খুব একটা কঠিন ছিল না ওঁর জন্য।

বিক্রম টেবিলের ড্রয়ারগুলো হাতড়াতে হাতড়াতে বলল, কিন্তু ডাক্তার শাশ্বত বিশ্বাসের কী হয়েছিল? আর চন্দ্রলেখার বয়স্ক স্বামী চন্দ্রশেখর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন কেন? তারক কবুল করেছে যে বড় বাবুর খাবার চন্দ্রলেখা নিজেই বানাতেন। বিপ্লবকে এই বাড়িতে পার্মানেন্টলি ঢোকানোর জন্য কি উনি নিজের স্বামীকে স্লো-পয়জন (slow poison) করেছিলেন?

ঠিক সেই মুহূর্তে কোণের একটা ক্যাবিনেট থেকে রাঘব চেঁচিয়ে উঠল, স্যার! এদিকে দেখুন।

বিক্রম আর মতিলাল দ্রুত ওদিকে গেলেন। একটা সরু কাঠের ক্যাবিনেটের নিচে, এক গাদা লিগ্যাল ডকুমেন্টের তলায় লুকানো ছিল একটা চামড়ায় বাঁধানো ডায়েরি। পুরনো, জরাজীর্ণ, কিন্তু ইতিহাসের ভারে ভারী।

বিক্রম ডায়েরিটা হাতে নিল। পাতাগুলো হলদে হয়ে গেছে। ওটা ওল্টাতেই ওর ভুরু কুঁচকে গেল। মতিবাবু, এটা সাধারণ ডায়েরি নয়। এটা একটা ক্রিপ্টিক কোডবুক (cryptic codebook)।

ডায়েরির লেখাগুলো ছিল অনেকটা এরকম:

প্রজেক্ট এ ভালোই এগোচ্ছে। জে ইস্যু রিজলভড। ডক্টর বি কমপ্লিকেশন—হ্যান্ডেলড। কে-র সাথে মিটিং। বিয়ে কনফার্মড। ফিউচার সিকিওর। গুরু এস-এর পরামর্শ নেওয়া হল। সমাধান পাওয়া গেছে। প্যাকেজ ডেলিভারড টু ওড়িশা। সেফ।

বিক্রম নিচু গলায় কোডগুলো ডিকোড করার চেষ্টা করল। জে মানে নির্ঘাত জগন। ডক্টর বি মানে ডক্টর বিশ্বাস। কে মানে কানুনলাল আর গুরু এস মানে শঙ্কর মহারাজ। কিন্তু শেষ লাইনটা মতিবাবু?

মতিলাল ডায়েরিটা দেখলেন। প্যাকেজ ডেলিভারড টু ওড়িশা? কীসের প্যাকেজ?

বিক্রমের চোখে একটা বিচিত্র আলো জ্বলে উঠল। চন্দ্রলেখা একটা লম্বা সময় নিরুদ্দেশ ছিলেন। তিনি কি ওড়িশায় ছিলেন? নাকি সেই প্যাকেজটা অন্য কিছু… বা অন্য কেউ?

বাইরে তখন শীতের বিকেল ফুরিয়ে অন্ধকার নামছে। প্যালেসের দীর্ঘ ছায়াগুলো যেন ডায়েরির রহস্যের মতোই আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

মতিলাল বললেন, ভুতুড়ে প্যালেসটা মুখ খুলতে শুরু করেছে ভায়া। কিন্তু সবটাই যেন ধাঁধার মতো।

বিক্রম ডায়েরিটা পকেটে ঢোকাল। মুচকি হেসে বলল, এই ধাঁধার উত্তর ওড়িশাতেই আছে মতিবাবু। অপারেশন চন্দ্রবংশ এবার কলকাতা ছাড়িয়ে পাড়ি দিচ্ছে অন্য রাজ্যে। 

গল্পটি ভালো লাগছে? পরের পর্ব পড়ুন:

পরবর্তী পর্ব: ২. চরম গোপনীয়তা | নরকের দরজা →

Leave a Comment