অনলাইন স্টোর গোয়েন্দা বিক্রম, চিফ ডিটেকটিভ মতিলাল মিস্ত্রী ও জিনিয়াস হ্যাকার পিজির যাবতীয় বড়দের ক্রাইম থ্রিলার এখন পাওয়া যাচ্ছে Notion Book Store -এ। বইগুলো দেখুন →

অফলাইন স্টোর কলেজ স্ট্রিটে সমস্ত বই এখন থেকে পাওয়া যাচ্ছে। বুক ফ্রেন্ড। ৮/১/বি শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট, (মিত্র ঘোষের গলি, কফি হাউসের ঠিক পাশে)। ফোন - ৮৭৭৭৪২১১৪২

১. মাঝরাতের ফোন | রেড করিডর স্নাইপার

কান পাতলে বাইরে থেকে একটা দুটো গাড়ির চলে যাওয়ার শব্দ শুধু শোনা যায়। কথায় বলে, কলকাতার রাস্তা কখনও ঘুমোয় না। 

ঠিক এই মুহূর্তে চোখে ঘুম নেই অ‍ারও তিনটি মানুষের। পার্ক স্ট্রিটে চিফ ডিটেকটিভ মতিলাল মিস্ত্রীর বাংলোতে কিছুক্ষণ অ‍াগেই প্রাগৈতিহাসিক কাঠের ঘড়িটি ঢং ঢং করে বারোবার বেজেছে। তার গম্ভীর সুর ছড়িয়ে গেছে গোটা বাড়ি জুড়ে।

বাইরে কলকাতার রেস্টলেস এনার্জি এখন শান্ত, কিন্তু মতিলাল মিস্ত্রীর স্যাংচুয়ারির ভেতরে টেনশনটা একটা ট্রিপওয়ারের মতো টানটান হয়ে আছে।

স্টাডি রুমটা একদম নিখুঁত। কোথাও উপচে পড়া অ্যাশট্রে বা সিগারেটের ধোঁয়ার লেশমাত্র নেই। দামি ক্রিস্টাল ডিক্যান্টিং গ্লাসে হুইস্কিও নেই। মতিলাল মিস্ত্রী নিজের শরীরকে বিষাক্ত করায় বিশ্বাস করেন না। ভারী মেহগনি কাঠের সাইডবোর্ডের কাছে দাঁড়িয়ে তিনি স্টিলের ফ্লাস্ক থেকে এক গ্লাস গরম জল ঢাললেন। তাতে পাতি লেবু চিপলেন, খুব সাবধানে। ঠিক তিন ফোঁটা।

মেপে এক চুমুক খেলেন। এমনিতে তাঁর মুখটা ঠান্ডা, একটা নিরেট কোল্ড লজিকের মুখোশ যেন, কিন্তু একটু অ‍াগেই সেই মুখোশটা খসে পড়ে তিনি মানুষ হয়ে গেছিলেন। 

তাঁর দুই বন্ধু, এক্স-কম্যান্ডো বিক্রম ও জিনিয়াস হ্যাকার পিজিকে নিজের বাংলোতে এত রাতে ডেকে পাঠানোটা ঠিক হবে কী হবে না, তাই নিয়ে সামান্য দোনামোনা করছিলেন চিফ ডিটেকটিভ।

শেষ পর্যন্ত ফোনটা করেই ফেলেছিলেন তিনি। কারণ, বাস্তবিকই, এই অদ্ভুত ও জটিল কেসটাতে তাঁর এই দুই বন্ধুর সাহায্য ছাড়া এক পাও যে তিনি এগতে পারবেন না, তা তিনি ভাল করেই জানেন।

প্রকাণ্ড সেগুন কাঠের টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ালেন তিনি। পালিশ করা কাঠের ওপর পাঁচটা মোটা ম্যানিলা ফোল্ডার জ্যামিতিক মাপে সাজানো।

ডানদিকে বসে আছে বিক্রম। প্রাক্তন কম্যান্ডো। শরীরটা পাথরের মতো স্থির। রাত জাগার জন্য তার কোনো আর্টিফিশিয়াল স্টিমুল্যান্ট বা নেশার দরকার হয় না। শিরদাঁড়া টানটান। চোখ দুটো ফোল্ডারের ওপর স্থির। 

বিক্রমের উল্টোদিকে পিজি। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের চলমান অশরীরি।

আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন থেকে শুরু করে সাইবার দুনিয়া—সবার কাছে এই মানুষটা পিজি বা পারফেক্ট জেন্টলম্যান। ল্যাপটপের হালকা নীল আলো এসে পড়েছে পিজির মুখে। 

একমাত্র মতিলাল মিস্ত্রীর বাংলো বা বিক্রমের তিন পুরুষের পুরনো বাড়ি ছাড়া অ‍ার কোথাও পিজি যায় না। 

একটু কিন্তু কিন্তু করে মতিলাল বললেন, দ্যাখো ভায়া, এই কেসটাতে সেন্ট্রাল এজেন্সি পুরো ফেল করেছে। তিনটে না চারটে রাজ্যের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স একশতে জিরো পেয়েছে। কিন্তু এই সিরিয়াল কিলারকে এবার থামানো দরকার। অ‍ার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনে করছেন, সেটা একমাত্র করতে পারো তোমরা দুজন। বলাইবাহুল্য মিনিস্টারকে সুপারিশ করেছেন এজেন্সির ডিরেক্টর, যিনি অ‍াবার ঘটনাচক্রে অ‍ামার ব্যাচমেট ছিলেন। ফলে এত রাতে তোমাদের না ডেকে অ‍ার কোনও উপায় ছিল না অ‍ামার।  

বিক্রম হাসল, অ‍াপনি অকারণেই এত বিব্রত বোধ করছেন মতিবাবু। অ‍াপনি তো জানেন, অ‍াপনার কাজ মানে, অ‍ামাদেরও কাজ।

মতিলাল খুকখুক করে তাঁর সিগনেচার হাসিটা পেশ করলেন, জানি ভায়া, জানি। সেটা জানি বলেই তো রাত নাই বিরেত নাই, অ‍ামার শুধু তোমাদের চাই। অ‍ার তোমরাও এই হাফ বুড়োর উপদ্রব সহ্য করো।

পিজি মুচকি হেসে বলল, অ‍াসলে অ‍াপনার গলাটা শুনলেই অ‍ামাদের মনটাও কেমন অ‍াবেগে উপ-দ্রবীভূত হয়ে যায়। অ‍াসার পথে বিক্রম অ‍ামাকে কিছুটা ব্রিফ করেছে। বাকিটা এবার অ‍াপনার কাছ থেকেই শোনা যাক।

ঘরের নীরবতা চিরে তীক্ষ্ণ শোনাল মতিলালের গলা, খুনীর হান্টিং গ্রাউন্ড আর শুধু তিনটে রাজ্যের বর্ডারে আটকে নেই। ভূতটা এখন দক্ষিণের দিকে এগোচ্ছে। প্রথম থেকেই ও এজেন্সির অ‍াগে চলছে। ফলে খুন করার পর এজেন্সির লোক যখন পৌঁছচ্ছে, ততক্ষণে খুনী তার পরবর্তী টার্গেট সেট করে ফেলছে।

চোখ কুঁচকে কিছু একটা ভাবতে ভাবতে বিক্রম বলল, জায়গাগুলো একবার ম্যাপে দেখা যায়?

মতিলাল বললেন, সিওর।

রিমোট কন্ট্রোল তুলে একটা বাটন প্রেস করলেন মতিলাল। স্টাডি রুমের দেওয়ালে লাগানো বড় স্ক্রিনে হাই-রেজোলিউশন ডিজিটাল ম্যাপ ফুটে উঠল। ছ’টা রাজ্য জুড়ে একটা বিশাল, এবড়োখেবড়ো সবুজ করিডোর: পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ আর তেলেঙ্গানা।

ইস্টার্ন ঘাট আর ছোটোনাগপুর মালভূমির ওপর পাঁচটা রেড মার্কার বিপদের সংকেত দিচ্ছে।

পাঁচটা লাশ, কোনো আবেগ নেই মতিলালের গলায়। বলে চললেন, ছ’মাস ধরে এই তাণ্ডব চলছে। লোকাল পুলিশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত। মিডিয়া একদম উন্মাদ হয়ে উঠেছে। আর ছ’টা আলাদা রাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ এখন নিজেদের মধ্যে লড়ছে, যাতে এই ফেইলিওরের দায় তাদের ঘাড়ে না পড়ে।

প্রথম তিনটে ফোল্ডার তুলে নিল বিক্রম, বলল, প্রথম তিনজনের কথা আমরা জানতাম। দলমা হিলের এক নীরিহ ট্রেকার। সারান্ডার ফরেস্ট গার্ড। আর শিমলিপাল বর্ডারের ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার। ফোল্ডারগুলো টেবিলের ওপর ছুড়ে দিল সে। বাকি দুজন কে?

কিবোর্ডে পিজির আঙুল নেচে উঠল। প্রজেকশন স্ক্রিনে ক্রাইম সিনের রিপোর্টের পাশাপাশি আরও দুটো নতুন ছবি ভেসে উঠল।

ভিকটিম নাম্বার ফোর, পিজির গলা গম্ভীর, তিন সপ্তাহ আগে তেলেঙ্গানার নাল্লামালা ফরেস্ট থেকে বডিটা পাওয়া গেছে। আঠাশ বছরের একজন বোটানিস্ট, রেয়ার প্ল্যান্ট স্যাম্পল কালেক্ট করছিল। আর ভিকটিম নাম্বার ফাইভের বডি পাওয়া গেছে মাত্র চারদিন আগে, অন্ধ্রপ্রদেশের আরাকু ভ্যালিতে। একজন সোলো ক্যাম্পার।

মতিলাল মাথা নাড়লেন, একটা ব্যাপার খেয়াল করো। সবাই কিন্তু ইনোসেন্ট, এবং একেবারে আইসোলেটেড। 

মিডিয়ার তো এখন ফিল্ড ডে, একটা সেকেন্ডারি উইন্ডো ওপেন করল পিজি। বলল, স্ক্রিনে এখন ব্রেকিং নিউজ আর ট্রেন্ডিং সোশ্যাল মিডিয়া হ্যাশট্যাগের কোলাজ। তারা এটাকে কখনও বলছে আর্মড টেররিস্ট ফ্যাকশনের কাজ, তো কখনও হাইলি অর্গানাইজড ইন্টারন্যাশনাল পোচিং সিন্ডিকেট। গ্রামের মানুষ চরম আতঙ্কে। গোটা ট্রেকিং রুট শাট ডাউন করে দেওয়া হয়েছে। রিজি‍ওনাল ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি এক রাতেই কলাপ্স করেছে। নাঃ মতিবাবু, কেসটা বেশ কিচাইন হয়ে অ‍াছে শুরু থেকেই।

পাঁচটা রেড মার্কারের চারপাশের টপোগ্রাফিক্যাল ডেটা অ্যানালিসিস করল বিক্রম। পিজির দিকে ঘুরে বলল, কোনও প্যাটার্ন চোখে পড়ছে তোর?

পিজি বলল, সেটাই তো খুঁজে বের করা দরকার। একমাত্র তাহলেই ওর নেক্সট টার্গেট প্রেডিক্ট করা যাবে। এখনও পর্যন্ত কিলার দক্ষিণের দিকে সরছে। কিন্তু তাতে কিছু প্রমাণ হয় না।

কারেক্ট। মিডিয়া একদম ব্লাইন্ড, আর পুলিশ এই ধরনের কেস অ‍াগে কখনও পায়নি। ফলে, … বিক্রমের গলাটা নিচু, কিন্তু বোঝা গেল ও একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছে, এটা কোনো সিন্ডিকেটের কাজ নয়। সিন্ডিকেটের বিশাল লজিস্টিক্যাল ফুটপ্রিন্ট থাকে। তারা লোকালদের ব্রাইব করে, টায়ারের ট্র্যাক ছাড়ে, আর নানা ধরনের নয়েজ তৈরি করে। এটা একজন মাত্র মানুষের কাজ। লোন উলফ। সোসিওপ্যাথ। সেন্ট্রাল আর ইস্টার্ন ফরেস্টের ঘন, ইন্টারকানেক্টেড ক্যানোপি ব্যবহার করে সে অদৃশ্যভাবে মুভ করছে। সবচেয়ে বড় কথা, সে স্টেট বর্ডারগুলোকে নিজের গা ঢাকা দেওয়ার দেওয়ার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

জ্যুরিসডিকশনাল ব্লাইন্ডনেস ভায়া, গরম লেবুর জলে আরেকটা চুমুক দিয়ে সায় দিলেন মতিলাল।

এক্স্যাক্টলি, বিক্রম বলল। যদি সে ঝাড়খণ্ডে মার্ডার করে ওড়িশায় স্লিপ করে যায়, তাহলে ঝাড়খণ্ড পুলিশ বর্ডারের দিকে তাকানো বন্ধ করে দেয়। আর ওড়িশা পুলিশ একদম স্ক্র্যাচ থেকে ইনভেস্টিগেশন শুরু করে। সে আসলে স্টেট ব্যুরোক্রেসিগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলাচ্ছে, আর ম্যাপের ফাঁকফোকরে লুকিয়ে থাকছে।

মাথা নেড়ে সায় দিল পিজি, ঠিক। খুনী মিস-কমিউনিকেশনের সুযোগ নিচ্ছে।  

পিজির স্ক্রিনে এখন ছ’টা রাজ্যের পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কমিউনিকেশন লগস। 

পিজি বলল, বিক্রম ঠিক বলেছে। এই মাস্টার ফাইলটা বানানোর জন্য আমাকে ছ’টা আলাদা রিজিনাল পুলিশ সার্ভার হ্যাক করতে হয়েছে। স্টেট সিআইডি (CID) তাদের ডেটা লুকিয়ে রাখছে। ব্যালিস্টিক রিপোর্ট বা অটোপ্সি ফটো শেয়ার করতে চাইছে না। কারণ তারা সবাই অ্যারেস্টের গ্লোরিটা চায়, অথবা তারা ফেইলিওরের দায় নিতে ভয় পাচ্ছে।

কিন্তু তারা কেউই খুনীর সিগনেচারটা দেখতে পায়নি, খুব শান্ত গলায় বললেন মতিলাল।

টেবিলের ওপর রাখা অটোপ্সি রিপোর্টগুলোতে টোকা দিলেন তিনি, তারা এই মৃত্যুগুলোকে ক্রুড হান্টিং অ্যাক্সিডেন্ট, ইনসার্জেন্ট ক্রসফায়ার, আর অ্যানিমাল অ্যাটাক বলে রুল আউট করেছে। ফিজিক্সের দিকে তাকানোর প্রয়োজনই বোধ করেনি। ছোট, একদম গোলাকার এন্ট্রি উন্ড। আর বিশাল, ডেভাস্টেটিং এক্সিট উন্ড—যা এক্সট্রিম হাইড্রোস্ট্যাটিক শকের প্রমাণ দেয়। খুনি একটা হাই-পাওয়ারড, কাস্টম-মেশিনড স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করছে। অনেকটা দূর থেকে একবার মাত্র শুট করছে, তারপর ব্রাস পলিশ করে ট্রি-লাইনের মধ্যে ভ্যানিশ হয়ে যাচ্ছে।

বিক্রমের চোখ দুটো সরু হয়ে গেল, লোকটা স্পোর্ট হিসেবে মানুষ শিকার করছে। জঙ্গলের মধ্যে নিজেকে কি সে ঈশ্বর মনে করে?

নারে, সোসিওপ্যাথরা চিরকালই নিজেদের ঘোস্ট মনে করে, টার্মিনালের দিক থেকে চোখ না সরিয়েই বিক্রমকে শুধরে দিল পিজি।

তারপর ঘুরে বসে বলল, কিন্তু প্রত্যেকটা ঘোস্ট কিছু না কিছু রিপল তৈরি করে। এই সিক্স-স্টেট করিডোর জুড়ে অপারেট করার জন্য তার ফিউয়েল দরকার, স্পেশালাইজড হেভি-গ্রেইন অ্যামিউনিশন দরকার, আর ডিজিটাল লজিস্টিক্স দরকার। আমি এই মুহূর্তে একটা ডিসেন্ট্রালাইজড ক্রলার লিখছি। ডার্ক ওয়েব স্ক্র্যাপ করে ম্যাচ-গ্রেড .338 লাপুয়া ম্যাগনাম (Lapua Magnum) রাউন্ড খুঁজব। সে যদি অনলাইনে গিয়ার কিনে থাকে, আমি তার শ্যাডো খুঁজে বের করবই।

প্লিজ ডু ইট। ব্রাদার, তোমাদের দুজনের ওপরে এই কেস অ‍ামি পুরোপুরি ছেড়ে দিলাম, মতিলাল বললেন, আমরা স্টেট পুলিশকে পুরোপুরি বাইপাস করব। আমরা যেটা করে থাকি, অর্থাৎ অন্ধকারেই অপারেট করব, আর ওই লোকটাকে ডিসম্যান্টল না করা পর্যন্ত থামব না।

স্টাডি রুমে আবার একটা ভারী, অর্থপূর্ণ নীরবতা নেমে এল। শুধু পিজির মেকানিক্যাল কিবোর্ডের খটখট শব্দ। 

প্যারামিটার সেট। জিওগ্রাফিক্যাল স্কেলও জানা। ইস্টার্ন ফরেস্টের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যানহান্ট শুরু হতে চলেছে কলকাতার এই শান্ত পুরনো বাংলোটা থেকে।

ঠিক সেই মুহূর্তে মতিলালের ডেস্কের লাল ফোনটা বেজে উঠল।

হাইলি এনক্রিপ্টেড, ডিরেক্ট-লাইন সিকিওর ফোন। এই নম্বরটা শুধু নিউ দিল্লির গুটিকয়েক টপ-টিয়ার ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর আর ক্যাবিনেট মিনিস্টারের জানা। এই ফোনটা খুব একটা বাজে না। যখন বাজে, তার মানে সিস্টেম কোলাপ্স করতে চলেছে।

বিক্রমের চোখ সোজা ফোনের দিকে। কিবোর্ডের ওপর থেমে গেল পিজির আঙুল।

খুব ধীরে, মেপে মেপে জলের গ্লাসটা নামিয়ে রাখলেন মতিলাল। ভারী রিসিভারটা তুললেন।

ইয়েস, মতিলাল বললেন।

ওপারের গলাটা চরম ফ্র্যান্টিক। কোনো ব্যুরোক্রেটিক ফর্মালিটি নেই। মতিলাল পুরো ষাট সেকেন্ড একদম চুপ করে শুনলেন। তাঁর মুখের এক্সপ্রেশন একটুও বদলাল না, কিন্তু ঘরের টেম্পারেচার যেন দশ ডিগ্রি নেমে গেল।

আন্ডারস্টুড, বলে রিসিভারটা খুব সন্তর্পণে নামিয়ে রাখলেন মতিলাল।

তিনি বিক্রম আর পিজির দিকে তাকালেন। তাঁর চোখের সেই কোল্ড লজিক এখন আরও অনেক বেশি বিপজ্জনক দিকে বাঁক নিয়েছে।

ঘোস্ট রুলস চেঞ্জ করেছে, ঘরের টেনশন চিরে দিয়ে বললেন মতিলাল। এক ঘণ্টা আগে ছত্তিশগড়ের দণ্ডকারণ্য ফরেস্টের একদম গভীরে ছ’নম্বর বডিটা পাওয়া গেছে।

আরেকজন ট্রেকার? পেশিগুলো শক্ত হলো বিক্রমের।

না, মতিলালের গলাটা গুমোট হয়ে উঠল, ভিকটিম হলো গুলমোহর গুছাইত, ন্যাশনাল ক্রনিকলের চিফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট। সে এই স্নাইপার কিলিংয়ের একটা লিড ট্র্যাক করছিল। মিডিয়া ব্ল্যাকআউট ওভার। কাল সকালে গোটা দেশ একটা ব্লাডবাথের খবর নিয়ে ঘুম থেকে উঠবে। মিনিস্ট্রি অফিশিয়ালি প্যানিক করছে। তাই এজেন্সি থেকে একজন প্রোফাইলার পাঠাচ্ছে অ‍ামাদের হেল্প করার জন্য। তোমরা কী বলো? দরকার অ‍াছে? নাকি না বলে দেব?

বিক্রম ও পিজির দিকে তাকালেন মতিলাল, তারপর ডিজিটাল ম্যাপের দিকে তাকালেন মতিলাল। ছত্তিশগড়ের ওই বিশাল, সবুজ শূন্যতার দিকে।

পিজি বলল, অ‍াসতে দিন মতিবাবু। হয়ত কাজে লেগেও যেতে পারে ভদ্রলোকের মনস্তাত্বিক বিশ্লেষণ। 

ভদ্রলোক নয় ভায়া, ভদ্রমহিলা। মতিলাল খুকখুক করে হাসলেন।

বিক্রম কাঁধ ঝাঁকাল। পিজির মুখে হাসিটা এসেও মিলিয়ে গেল। 

মতিলাল বললেন, সে ওকে অ‍াসতে দাও। দেখা যাক, কাজে লাগে কিনা। তুমি তোমার গিয়ার প্যাক করো, বিক্রম। অ‍ামাদের রওনা হতে হবে। পিজি কলকাতায় থেকেই ব্যাক অ‍াপ সাপোর্ট দেবে, মতিলাল যখন কথাটা শেষ করলেন, তখন কি সামান্য হতাশার সুর ছুঁয়ে গেল তাঁর গলাকে?

নাকি এতগুলো ক্লুলেস খুন তাঁর মত অভিজ্ঞ মার্ডার ডিটেকটিভকেও ভাবিয়ে তুলেছে?

লেখাটি ভালো লাগলো?

এই থ্রিলার মাল্টিভার্সকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং লেখায় বাড়তি অক্সিজেন জোগাতে চাইলে সাপোর্ট করতে পারেন।

কীভাবে সাপোর্ট করবেন? →

Leave a Comment