সকাল ছ’টা।
বাইরে কলকাতার ধোঁয়াশা মাখা ফ্যাকাশে ভোর। কিন্তু পার্ক স্ট্রিটে মতিলাল মিস্ত্রীর স্টাডি রুমে একমাত্র আলো বলতে দেওয়ালের প্রকাণ্ড ডিজিটাল মনিটর আর পিজির লিনাক্স ল্যাপটপ।
কোণার টেলিভিশনটা মিউট করা, কিন্তু ন্যাশনাল নিউজ চ্যানেলগুলোর ফ্ল্যাশিং রেড ব্যানারগুলোই যা বলার বলে দিচ্ছে।
ব্রেকিং নিউজ: ছত্তিশগড়ে অাততায়ীর গুলিতে নিহত সাংবাদিক গুলমোহর গুছাইত।
রেড করিডোর স্নাইপার স্ট্রাইকস এগেইন।
এটা কি টেররিস্টদের কামব্যাক?
নানা ধরনের হেডিং একের পর এক স্ক্রল করছে চোখের সামনে।
চরম নির্লিপ্তভাবে স্ক্রিনটার দিকে তাকিয়ে আছেন মতিলাল। সাইডবোর্ডের কাছে দাঁড়িয়ে স্টিলের ফ্লাস্ক থেকে মেপে এক গ্লাস গরম জল ঢাললেন তিনি। তাতে রুটিনমাফিক তিন ফোঁটা পাতিলেবুর রস। জেগে থাকার জন্য এখন অার তাঁর কফির দরকার হয় না।
ফ্যাটিগ বা ক্লান্তি তাঁর কাছে একটা বায়োলজিক্যাল ভ্যারিয়েবল, যেটাকে তিনি নিজের মনের জোর দিয়ে ম্যানেজ করেন।
ওরা ওকে একটা ব্র্যান্ড বানিয়ে দিয়েছে, এয়ার কন্ডিশনারের একটানা গুঞ্জন চিরে মতিলাল বললেন, মিডিয়া ওকে একটা টাইটেল দিয়েছে। রেড করিডোর স্নাইপার। ওরা খুনগুলোর জায়গাকে টেররিস্ট ইনসার্জেন্সি জোনের সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে।
চেয়ারে পাথরের মতো বসে আছে বিক্রম। সারা রাত জেগে থাকার পরও তার বসে থাকা ধরণ একটুও বদলায়নি। ছত্তিশগড় পুলিশের দণ্ডকারণ্য ফরেস্টের বিশাল এলাকা কর্ডন করার ফুটেজটার দিকে তাকিয়ে আছে সে।
এটা একটা ট্যাকটিকাল ডিজাস্টার, চরম বিরক্তি নিয়ে প্রায় বলে উঠল বিক্রম, ওদের দিকে একবার তাকান মতিবাবু। তিনশো আর্মড কনস্টেবল জঙ্গল জুড়ে গ্রিড সার্চ করছে। ওরা পুরো মাইক্রো-এনভায়রনমেন্টটাকে ডেস্ট্রয় করে দিচ্ছে। খুনি যদি একটা ভাঙা ডাল, বুট প্রিন্ট বা এক ফোঁটা ঘামও ফেলে যায়, সেটা এখন ওই অাতঙ্কগ্রস্ত পুলিশগুলোর বুটের তলায় পিষে গেছে। কোনও মানে হয় না। ওয়ার্থলেস।
এটা কিন্তু খুব অস্বাভাবিক নয় ভিকি। তুই যতই রেগে যাস না কেন, এটা যাকে বলে ইনএভিটেবল ছিল। সেন্ট্রাল মিনিস্ট্রি একটা ন্যারেটিভ ডিমান্ড করছে, আর স্টেট পুলিশ তাদের কাছে সবচেয়ে সহজ অপশনটাই বেছে নিয়েছে, ম্যাপ থেকে চোখ না সরিয়েই বলল পিজি, টেররিস্টদের ঘাড়ে দোষ চাপানোটা একটা পলিটিকাল সেফটি নেট। এটা লোকাল পুলিশকে তাদের ইনকম্পিটেন্সির দায় থেকে বাঁচায়। একটা হেভিলি আর্মড প্যারামিলিটারি ফ্যাকশনকে ধরতে না পারার জন্য আপনি তো আর কোনো রুরাল ইন্সপেক্টরকে ব্লেম করতে পারেন না।
পিজির কথা শুনে মতিলাল মাথা নাড়তে লাগলেন, কিন্তু লজিকটা এখানে পুরোপুরি ফেল করছে ভায়া।
সেগুন কাঠের টেবিলের দিকে ফিরে এসে মতিলাল বললেন, টেররিস্ট ইনসার্জেন্টরা ভায়োলেন্সকে মেগাফোন হিসেবে ইউজ করে। তারা প্যামফ্লেট ছাড়ে। আতঙ্ক ছড়াতে আর পলিটিকাল ডিমান্ড আদায় করতে তারা রেসপনসিবিলিটি ক্লেইম করে। আর আমাদের এই ভূতটা ছ’মাস ধরে টোটাল সাইলেন্সের মধ্যে অপারেট করছে। এটা খুব অদ্ভুত নয়?
ও ওর কাজের জন্য কোনো অডিয়েন্স চায় না, মতিলালের কথায় সায় দিল বিক্রম, কারেক্ট মতিবাবু। ওর শুধু হান্টিংয়ের ইন্টার্নাল স্যাটিসফ্যাকশনটা দরকার। এটা টিপিক্যাল সাইকো-সোসিওপ্যাথদের লক্ষণ। ও একজন জার্নালিস্টকে এই কারণে শুট করেনি যে সে কী লেখে, বরং এই কারণে করেছে যে লোকটা ওর ক্রসহেয়ারের মধ্যে এসে পড়েছিল। একটা সোসিওপ্যাথ স্নাইপারের কাছে জার্নালিস্ট, ট্রেকার বা বোটানিস্টের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। থার্মাল অপটিকের মধ্যে সবাই জাস্ট এক একটা হিট সিগনেচার। শিকার পেলেই ও খুশি।
মেকানিক্যাল কিবোর্ডের ওপর পিজির আঙুলগুলো হঠাৎ থেমে গেল। চশমাটা অ্যাডজাস্ট করল সে। তার সাধারণত ভাবলেশহীন মুখে একটা সূক্ষ্ম ভ্রূকুটি।
আমাদের টাইমলাইনে একটা ফ্ল আছে, মতিবাবু, পিজি বলল।
জলের গ্লাসটা নামিয়ে রাখলেন মতিলাল, এক্সপ্লেইন করো।
পিজি বলল, আমরা অ্যাসিউম করছি যে ঘোস্ট ছ’মাস আগে দলমা হিলের ওই ট্রেকারকে দিয়ে হান্টিং শুরু করেছে।
টার্মিনাল উইন্ডো লঞ্চ করতে করতে পিজি বলল, কিন্তু কোনো মানুষ একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে একটা কাস্টম .338 লাপুয়া ম্যাগনাম নিয়ে ঘন জঙ্গলে ঢুকে, মুভিং টার্গেটের ওপর আটশো মিটারের একটা ফ্ললেস কিল শুট এক্সিকিউট করতে পারে না। এটা ঈশ্বরের অসাধ্য।
ঠিক, বিক্রম মাথা নাড়ল, এর জন্য ওকে প্র্যাকটিস করতে হবে, বিক্রম যোগ করল, আমরা আগেই এস্টাবলিশ করেছি যে ওর উইপন জিরো করার জন্য একটা অকৌস্টিক ডেড-জোন দরকার।
ইয়েস, পিজি সায় দিল, কিন্তু একটা স্টেশনারি পাথরের ওপর রাইফেল জিরো করা এক জিনিস। আর একজন জ্যান্ত মানুষের ওপর শুট করা, যে আনপ্রেডিক্টেবলি মুভ করছে—তার জন্য একটা সাইকোলজিকাল ক্রসিং অফ রুবিকন দরকার। এর একটা লার্নিং কার্ভ আছে। দলমা হিলের কিলটা যদি ফ্ললেস হয়, তবে সেটা ওর প্রথম শিকার ছিল না।
তার মানে, তুমি কি বলতে চাইছ আরও পুরোনো বডি আছে? চোখ কুঁচকে এল মতিলালের, কিলার অারও অাগে থাকতেই অ্যাক্টিভ?
আমি এই মুহূর্তে একটা ডিসেন্ট্রালাইজড ক্রলার লিখছি, কিবোর্ডের ওপর ঝড় তুলল পিজির আঙুল, একইসঙ্গে ও বলে চলল, আমি স্টেট ফায়ারওয়ালগুলোকে বাইপাস করে সরাসরি ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো বা এনসিআরবি (NCRB)-র কোল্ড কেস আর্কাইভে প্লাঞ্জ করছি। আমি জিওগ্রাফিক্যাল ফিল্টার পুরোপুরি ড্রপ করে দিচ্ছি। আমি শুধু ফিজিক্যাল সিগনেচারটা খুঁজছি।
সিঙ্গেল এন্ট্রি উন্ড, ম্যাসিভ এক্সিট উন্ড ইন্ডিকেটিং হাইড্রোস্ট্যাটিক শক। ডিপ ফরেস্ট এনভায়রনমেন্ট। আনসলভড, প্যারামিটারগুলো বলে গেল বিক্রম।
এক্স কম্যান্ডোর মাথায় তখন ওই ভয়ংকর ডেটাগুলোর একটা ভিজ্যুয়াল তৈরি হচ্ছে।
কারেক্ট, ভিকি। ফুল মার্কস। এক্সিকিউটিং নাও, পিজি বলল।
দেওয়ালের প্রকাণ্ড ডিজিটাল মনিটরটা কয়েক ডজন ক্যাসকেডিং উইন্ডোতে স্প্লিট হয়ে গেল। গত দশ বছরের হাজার হাজার কোল্ড কেস স্ক্রিনে ফ্ল্যাশ করতে শুরু করল—মার্ডার, অ্যাক্সিডেন্ট, ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স, আননোন বডি।
এনসিআরবি ডেটাবেসটা মিসক্ল্যাসিফাইড ডেটায় ভর্তি। দ্যাখ, অামার অ্যালগরিদমটা কীভাবে ফাইলগুলো চিবিয়ে খাচ্ছে, বিড়বিড় করল পিজি, লোকাল করোনাররা অনেক সময় হাই-ভেলোসিটি এক্সিট উন্ডকে পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক শটগান ব্লাস্ট বা এক্সপ্লোসিভ ট্রমা বলে ভুল করে। আমাকে সার্চটা রি-ক্যালিব্রেট করতে হবে। ‘আনএক্সপ্লেইন্ড ক্যাটাস্ট্রোফিক টিস্যু ড্যামেজ’ আর ‘সাসপেক্টেড আইইডি (IED)’-র কিওয়ার্ডগুলো অ্যাড করছি।
মতিলালের বাংলোর স্টাডি রুমে একটা টানটান সাইলেন্স নেমে এল।
বাইরে হঠাৎ একটা কোকিল ডেকে উঠল ভুল করে।
বিক্রম নিজের ব্রিদিং কন্ট্রোল করছে, হার্ট রেট রেস্টিং ষাট বিট পার মিনিটে আটকে রেখেছে।
মতিলাল স্ক্রিনটার দিকে তাকিয়ে আছেন একেবারে চোখের পাতা না ফেলে, অবিকল একটা শিকারির মতো।
মিনিটে অন্তত তিরিশবার যে চোখের পাতা ফেলতে হয়, সেই হিসেব তিনি ভুলে মেরেছেন। পিজি যা বলছে, তা যদি সত্যি হয়, তাহলে তো সব হিসেব বদলে যাবে।
দশ মিনিট কেটে গেল। হাজার হাজার ফাইল কমতে কমতে কয়েকশো হলো। তারপর কয়েক ডজন।
টার্মিনাল থেকে একটা সিঙ্গল, শার্প বীপ সাউন্ড হলো।
ক্যাসকেডিং উইন্ডোগুলো ভ্যানিশ হয়ে গিয়ে স্ক্রিনে একটা সিঙ্গেল ডিজিটাইজড পুলিশ ফাইল ভেসে উঠল। উপরের রেড ব্যানারটায় লেখা: স্ট্যাটাস: কোল্ড, ক্লাসিফায়েড।
মতিলাল ঝুঁকে বসলেন, কোথায়?
অন্ধ্রপ্রদেশ, এনক্রিপ্টেড ডেটা স্ক্যান করতে করতে পিজি পড়ল, নাল্লামালা ফরেস্ট। ঠিক ছত্রিশ মাস আগে। দলমা হিলের কিলিংয়ের তিন বছর আগে।
তিন বছর, খুব নরম গলায় বলল বিক্রম, তার মানে স্নাইপার অনেকদিন ধরে শ্যাডোর মধ্যে আছে। ভিকটিম কে?
অটোপ্সি ফটোগ্রাফ আর ভিকটিম প্রোফাইলটা ওপেন করল পিজি। চশমার আড়ালে তার চোখ দুটো সামান্য বড় হয়ে গেল—এই জিনিয়াস হ্যাকারের ক্ষেত্রে সারপ্রাইজের এমন এক্সপ্রেশন খুব বিরল।
এই কারণেই পুলিশ ফাইলটা চাপা দিয়ে দিয়েছিল, পিজির গলার স্বর এক অক্টেভ নেমে গেল, ভিকটিম কোনো সিভিলিয়ান ট্রেকার বা পথ হারানো ফটোগ্রাফার ছিলেন না। ওঁর নাম ছিল সুবেদার মেজর হরিশ রাও। রিটায়ার্ড।
বিক্রমের চোখমুখ ভিকটিমের র্যাঙ্কটা শুনেই স্টিফ হয়ে গেল, মিলিটারি? অার্মি ম্যান?
শুধু মিলিটারি নয়, রাওয়ের সার্ভিস রেকর্ড স্ক্রিনে টানতে টানতে পিজি শুধরে দিল, রাও ছিলেন ইন্ডিয়ান আর্মির এলিট প্যারা কম্যান্ডোদের একজন মাস্টার স্নাইপার ইন্সট্রাক্টর। তিনি রিটায়ার করার পর অন্ধ্রপ্রদেশের গভীর জঙ্গলে গেম হান্টিং করে সময় কাটাতেন।
স্ক্রিনের অটোপ্সি ফটোগুলো স্টাডি করলেন মতিলাল। সিগনেচারটা আনমিসটেকবল। বললেন, সেম এন্ট্রি উন্ড। সেম ডেভাস্টেটিং এক্সিট উন্ড। ভূতটা একজন মাস্টার স্নাইপারকে হান্ট করেছিল।
তার মানে কি এটা একটা টেস্ট ছিল? বিক্রমের মাথায় একটা কোল্ড রিয়্যালাইজেশন খেলে গেল, ও বলে চলল, তার মানে, ঘোস্ট খুনী অ্যামেচারদের মেরে হান্টিং শুরু করেনি। ও নিজের গডহুড প্রমাণ করতে চেয়েছিল। ও একটা অ্যাপেক্স প্রেডেটরকে ট্র্যাক করে জঙ্গলে ঢুকেছিল, আর এক কিলোমিটার দূর থেকে তাকে শুট করে প্রমাণ করেছিল যে ও তার থেকেও সুপিরিয়র।
ক্লাসিফায়েড পুলিশ রিপোর্টের মধ্যে স্ক্রোল করতে করতে হঠাৎ থেমে গেল পিজি।
ওয়েট, পিজির আঙুলগুলো ফাইলের একদম নীচে একটা অ্যাডেন্ডাম ডিক্রিপ্ট করার জন্য ফিউরিয়াসলি টাইপ করতে শুরু করল।
টাইপ করতেই করতেই পিজি বলল, লোকাল পুলিশ ক্রাইম সিনে রাওয়ের পার্সোনাল এফেক্টস ক্যাটালগ করেছিল। ওয়ালেট, চাবি, ক্যাম্পিং গিয়ার। সব প্রেজেন্ট ছিল।
কী মিসিং? ডেটার শিফটটা সেন্স করে মতিলাল জিজ্ঞেস করলেন।
রাও হান্টিং করছিলেন। কিন্তু পুলিশ ওঁর উইপনটা কোনোদিন রিকভার করতে পারেনি, মতিলাল আর বিক্রমের দিকে মুখ তুলে তাকাল পিজি, রাওয়ের পার্সোনাল, কাস্টম-মেশিনড .338 বোল্ট-অ্যাকশন রাইফেলটা সিন থেকে নিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
ঘরটা হঠাৎ ডেড সাইলেন্ট হয়ে গেল।
বিক্রম বলল, মাই গুডনেস, ভূতটা শুধু একজন মাস্টার স্নাইপারের ওপর নিজের স্কিল টেস্ট করেনি। সে একটা ট্রফিও ক্লেম করেছিল। একটা স্টোলেন মিলিটারি-গ্রেড উইপন নিয়ে ঘুরে বেড়ানো চাট্টিখানি কথা নয়।
বিক্রমের কথা শেষ হল না। মতিলালের স্টাডির ভারী ওক কাঠের দরজায় তিনটে শার্প, নকের অাওয়াজ পাওয়া গেল।
মতিলাল এতটুকু সারপ্রাইজড হলেন না। ডেসকের নীচে একটা বাটন প্রেস করলেন তিনি। ফ্র্যাকশন অফ আ সেকেন্ডের মধ্যে ডিজিটাল মনিটরটা ব্ল্যাক হয়ে গেল, লুকিয়ে ফেলল সমস্ত ক্লাসিফায়েড ফাইল।
ইয়েস, কাম ইন, হাঁকলেন মতিলাল।
দরজাটা খুলল। দোরগোড়ায় একজন অল্পবয়সী মেয়ে দাঁড়িয়ে। হঠাৎ দেখলে মনে হবে ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছে।
ইস্ত্রি করা চারকোল স্যুট, এক্সপ্রেশন থেকে একটা অ্যাবসোলিউট, ব্যাপক অাত্মবিশ্বাস ঠিকরে বেরোচ্ছে।
প্রথম তার চোখগুলো পুরো ঘরটা ঘুরে গেল। বৃদ্ধবেশী পিজির ল্যাপটপ, পাশে বিক্রমের বসে থাকা, আর শেষে মতিলালের ঠাণ্ডা চাউনির ওপর এসে স্থির হলো মেয়েটির কালো বড় বড় চোখদুটো।
চিফ ডিটেকটিভ মিস্ত্রী, ইনভিটেশনের তোয়াক্কা না করেই ঘরের ভেতর পা রাখল মেয়েটি, আমি মল্লিকা পুরকাইত। সেন্ট্রাল মিনিস্ট্রি আমাকে আপনাদের টাস্ক ফোর্সের লিড ক্রিমিনাল প্রোফাইলার হিসেবে অ্যাসাইন করেছে। আর আমি আপনাদের এখনই বলে দিতে পারি, এই কিলার সম্বন্ধে আপনারা যা যা ভাবছেন, তার সবটাই ভুল।
মতিলাল গলা নামিয়ে পিজির কানে কানে বললেন, ভায়া, এ তো শুরুতেই অামাদের কাইত কইরা দিল।
পিজি মুচকি হেসে বলল, অত সহজে মাইত হইবেন না মতিবাবু। দ্যাখেন না ও অার কী কী কয়।
মতিলাল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, বয়সটা কম তো, সেইটাই হইল গিয়া ভয়।
