পার্ক স্ট্রিটের স্টাডি রুমে ভারী ওক কাঠের দরজাটা মল্লিকার পিছনে সশব্দে বন্ধ হলো নিজে থেকেই।
মতিলাল মিস্ত্রীর অাপাত নিস্তব্ধ স্যাংচুয়ারিতে ওই ক্লিক শব্দটা বড্ড বেশি জোরালো শোনায়।
কয়েক সেকেন্ড চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল মল্লিকা।
মতিলাল বুঝলেন, চোখ দিয়ে পুরো ঘরের ডাইনামিকসটা ক্যালকুলেট করে নিচ্ছে। মতিলাল এটাও বুঝলেন, মল্লিকা এমন একজন মহিলা যে নিজের শারীরিক উপস্থিতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে জানে। ওর মধ্যে একটা ন্যাচারাল অথরিটি অাছে, যা ওর অাত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মিলেমিশে পুরুষদের ওপর একটা সম্মোহন জাল বিস্তার করে। মল্লিকা সবার চোখের দিকে সরাসরি চায়। ওর চাউনিতে ভয়ের কোনো জায়গাই নেই। নিউ দিল্লির ব্যুরোক্রেটিক মাইনফিল্ডে বছরের পর বছর কাটিয়েছে সে, দেশের সবচেয়ে ভয়ংকর ক্রিমিনাল মাইন্ডগুলোর সাইকোলজিকাল প্রোফাইল ব্রেকডাউন করেছে।
কিন্তু সামনের তিনটে মানুষের দিকে তাকিয়ে এই প্রথম মল্লিকা বুঝল, সে আসলে একদল অ্যাপেক্স প্রেডেটরের ডেরায় এসে ঢুকেছে।
মতিলাল তাকে ওয়েলকাম করার জন্য চেয়ার ছেড়ে উঠলেন না। নিজের ডেস্কের উল্টোদিকের একটা ভারী সেগুন কাঠের চেয়ার দেখিয়ে বসতে ইশারা করলেন। অাড়চোখে একবার তাকালেন বিক্রমের দিকে।
মল্লিকাকে অার প্রাধান্য বিস্তার করতে না দিয়ে তিনি বললেন, কোনো জার্নালিস্ট খুন হলে সেন্ট্রাল মিনিস্ট্রি বড্ড তাড়াতাড়ি নড়েচড়ে বসে। মতিলালের গলাটা একদম ফ্ল্যাট।
নিজের স্টিলের ফ্লাস্ক খুলে একটা ফ্রেশ কাগজের কাপে মেপে একটু গরম জল ঢাললেন তিনি। তিনফোঁটা পাতি লেবু চিপলেন তাতে। তারপর কাপটা টেবিল দিয়ে স্লাইড করে মল্লিকার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, সকালে একটু গরম জলে পাতি লেবুর রস খেলে নাকি পেট পরিস্কার হয় ম্যাডাম প্রোফাইলার। খাবেন নাকি? ব্রেনটাও সেটল হবে।
মল্লিকা কাপটার দিকে তাকাল না। বলল, এসব পাতি ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামানোর মত অবস্থা এখন অামার নেই চিফ। তাছাড়া আমার ব্রেন সেটল করারও কোনো দরকার নেই।
কাপটাকে সম্পূর্ণ ইগনোর করে চেয়ারে বসল সে। বলল, দেখুন, রেড করিডোর স্নাইপারের বিহেভিয়ারাল অ্যানালিসিস লিড করার জন্য মিনিস্ট্রি আমাকে অথরাইজ করেছে। ছ’টা স্টেটের ডিজি (DG) এফেক্টিভলি স্টেপ ডাউন করছে, এবং এখন থেকে সমস্ত ইন্টেলিজেন্স আমার থ্রু দিয়ে রাউট করা হবে।
বুকের ওপর ভাঁজ করে রাখা হাতদুটো নামাল বিক্রম।
সে এতক্ষণ মল্লিকাকে এমনভাবে স্টাডি করছিল, ঠিক যেভাবে একজন স্নাইপার হাওয়ার গতিপথ স্টাডি করে—সেই অদৃশ্য ফোর্সগুলোকে খোঁজার চেষ্টা করছে যা বুলেটের ট্র্যাজেক্টরি ঠিক করে দেয়।
মল্লিকার কথার জবাব এবার বিক্রম দিল।
আপনি একজন প্রোফাইলার, বিক্রমের গলাটা নিচু, কিন্তু দৃঢ়, আপনি একটা থিওরিটিক্যাল বক্স তৈরি করেন আর কিলারকে জোর করে তার ভেতরে ঢোকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আমরা থিওরি নিয়ে ডিল করি না ম্যাডাম। আমরা ডিল করি ফিজিক্স নিয়ে।
নিজের শার্প চাউনিটা বিক্রমের দিকে ঘোরাল মল্লিকা, ফিজিক্স আপনাকে শেখায় একটা মানুষ কীভাবে মরে, কম্যান্ডো। আর সাইকোলজি শেখায় কেন মরে। এবং যতক্ষণ না আপনি এই ‘কেন’-র উত্তরটা পাচ্ছেন, ততক্ষণ এই কিলার ছ’টা স্টেট জুড়ে বডি ফেলতেই থাকবে।
চশমাটা একটু অ্যাডজাস্ট করল পিজি। মেকানিক্যাল কিবোর্ডের ওপর তার আঙুলগুলো সাইলেন্টলি নাচছে, চশমার কাঁচে উবুন্টু টার্মিনালের রিফ্লেকশন। সে বলল, আপনার ক্রেডেনশিয়ালস চেক করলাম মল্লিকা। টপ-টিয়ার ক্লিয়ারেন্স। বিহেভিয়ারাল ফরেনসিকসে পিএইচডি (PhD)। মুম্বই সিন্ডিকেট টেকডাউনে আপনি কনসাল্ট করেছিলেন। ভেরি গুড। কিন্তু আপনি ঘরে ঢুকেই বললেন যে, এই কিলার সম্বন্ধে আমাদের সব ধারণা ভুল। এটা কি একটু এক্সপ্লেইন করবেন?
সামান্য ঝুঁকে সেগুন কাঠের টেবিলের ওপর একটা স্লিক ট্যাবলেট রাখল মল্লিকা। ছ’জন ভিকটিমের ক্রাইম সিন ফটো স্ক্রিনে তুলে আনল সে। যার মধ্যে সদ্য নিহত সাংবাদিক গুলমোহর গুছাইত আর রিটায়ার্ড মিলিটারি স্নাইপার সুবেদার মেজর হরিশ রাওয়ের ক্লাসিফায়েড ফাইলটাও আছে।
মল্লিকা বলল, আপনারা এটাকে একজন আইসোলেটেড সাইকোপ্যাথের স্পোর্ট হান্টিং হিসেবে দেখছেন।
মল্লিকার গলায় একটা সবার ওপর প্রাধান্য বিস্তারের চেষ্টা, আপনারা ভাবছেন একটা অশরীরি প্রেতাত্মার মত একজন খুনী শুধু নিজের সুপিরিওরিটি প্রমাণের জন্য এগুলো করছে। এটা ভিকটিমোলজির একটা ফান্ডামেন্টাল মিসরিড।
নিজের হাতের আঙুলগুলো শব্দ করে মটকালেন মতিলাল, তাহলে একটু এনলাইটেন করুন আমাদের। বলুন অাপনার রিডিং কী বলছে?
এসক্যালেশনটা খেয়াল করুন, স্ক্রিনে টোকা দিয়ে মল্লিকা বলল, ও একজন রিটায়ার্ড প্যারা কম্যান্ডো স্নাইপারকে দিয়ে শুরু করেছে। তারপর একজন ফরেস্ট গার্ড। ট্রেকার। বোটানিস্ট। ফটোগ্রাফার। আর এখন, একজন হাই-প্রোফাইল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট। এটা কোনো র্যান্ডম স্পোর্ট নয়। এটা রেড করিডোরকে টার্গেট করে একটা সিস্টেমেটিক ডি-স্ট্যাবিলাইজেশন প্রসেস।
বিক্রমের চোয়াল শক্ত হলো, ডি-স্ট্যাবিলাইজেশন? হােয়াট ডু ইউ মিন ম্যাডাম?
এটা একটা হাইলি অর্গানাইজড, অ্যান্টি-এস্টাবলিশমেন্ট এক্সট্রিমিস্ট সেলের কাজ, চরম অাত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানাল মল্লিকা, লোকাল পুলিশ যে টেররিস্ট থিওরিটা ভাসাচ্ছে, সেটা পুরোপুরি ভুল নয়। তারা শুধু ভুল ফ্যাকশনের দিকে তাকিয়ে আছে। আপনারা ভাবছেন সে সুবেদার মেজর রাওয়ের কাস্টম রাইফেলটা ট্রফি হিসেবে চুরি করেছে? না। সে ওটা চুরি করেছে তাদের একটা হাইলি স্পেশালাইজড ইনসার্জেন্ট ইউনিটকে আর্মড করার জন্য। ওই জার্নালিস্টকে মারাটা একটা ডেলিবারেট স্ট্রাইক, যার উদ্দেশ্য হলো মাস প্যানিক তৈরি করা আর ফরেস্ট রিজিয়নের ওপর স্টেটের কন্ট্রোল ভেঙে দেওয়া।
একটু থামল মল্লিকা। সবার মুখের ওপর দিয়ে ওর বড় বড় কালো চোখদুটো ঘুরে গেল এক নিমেষে।
স্টাডি রুমে আবার সেই নীরবতা নেমে এল।
মল্লিকা বলতে লাগল, থিওরি হিসেবে এটা ব্রিলিয়ান্ট আর কোহেসিভ, সাইকোলজিকাল জার্গন আর পলিটিকাল কনটেক্সট দিয়ে নিখুঁতভাবে বোনা। ঠিক এই ন্যারেটিভটাই সেন্ট্রাল মিনিস্ট্রিকে স্যাটিসফাই করবে আর মিডিয়াকে আগামী কয়েক মাস ব্যস্ত রাখবে।
কিন্তু ম্যাডাম, বলতে বাধ্য হচ্ছি, থিওরিটা ফান্ডামেন্টালি ইললজিক্যাল।
গরম জলের গ্লাসটা তুললেন মতিলাল। এক চুমুক খেলেন। তাঁর মুখে কোনো এক্সপ্রেশন নেই, বললেন, যদিও অাপনার ন্যারেটিভটা বেশ কম্পেলিং, খুব শান্ত গলায় বলতে লাগলেন মতিলাল, কিন্তু ফিজিক্যাল এভিডেন্সের ভারে এটা নিজেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ছে।
চোখ কুঁচকে এল মল্লিকার, এক্সকিউজ মি? ঠিক বুঝলাম না।
যদি কোনো এক্সট্রিমিস্ট সেল ওই রিজিয়নকে ডি-স্ট্যাবিলাইজ করতে চায়, তবে তারা খুনের দায় স্বীকার করবে, মতিলালের কোল্ড লজিক মল্লিকার প্রোফাইলকে টুকরো টুকরো করে কাটতে শুরু করল। টেররিজম আসলে একটা থিয়েটার, মল্লিকা দেবী। এর জন্য অডিয়েন্স দরকার। তারা যদি কোনো মেসেজ দেওয়ার জন্য একজন সাংবাদিককে খুন করে, তবে তারা লোকটার বুকে একটা ম্যানিফেস্টো পিন করে রেখে যাবে। এক কিলোমিটার দূর থেকে গুলি করে নিজেদের ইনভিজিবল রাখার জন্য ব্রাস পলিশ করে পালিয়ে যাবে না।
টেবিলের ওপর কনুই রেখে সামনের দিকে ঝুঁকল বিক্রম। এবার সে নিজের যুক্তি পেশ করল, আরও একটা ব্যাপার। কোনো ইনসার্জেন্ট ফ্যাকশন যদি একজন রিটায়ার্ড প্যারা কম্যান্ডোকে অ্যামবুশ করে, তবে তারা শুধু তার স্নাইপার রাইফেলটা নিয়ে ছেড়ে দেয় না। তারা পুরো বডি স্ট্রিপ করে। তার সাইডআর্ম, অ্যামিউনিশন, বুট, এমনকি সঙ্গের রেশনটুকুও—সব নিয়ে নেয়। এগুলো অাপনার জানার কথা নয়। অামরা যারা টেররিস্টদের হ্যান্ডল করি, তারা বিষয়গুলো জানি। এইসব অাতঙ্কবাদীরা জিনিসপত্র পাওয়ার জন্য ওঁত পেতে থাকে। কারণ ওদের সবকিছুই কাজে লাগে। আর আপনার কিলার শুধু রাইফেলটা নিয়েছে এবং রাওয়ের ওয়ালেটে হাজার টাকাও ফেলে রেখে গেছে। রিডিকিউলাস।
পিজি স্ক্রিন থেকে মুখ না তুলেই বলে উঠল, অারও অাছে, এক্সট্রিমিস্ট সেল কমিউনিকেট করে। তারা এনক্রিপ্টেড রেডিও, বার্নার ফোন আর কুরিয়ার নেটওয়ার্ক ইউজ করে। গত ছত্রিশ ঘণ্টায় আমি ট্রাই-স্টেট এরিয়ার সমস্ত নোন ফ্যাকশনের ডিজিটাল ট্রাফিক মনিটর করেছি। পুরো নেটওয়ার্ক একদম ডার্ক। কোনো চ্যাটার নেই, কোনো প্যানিক বা সেলিব্রেশন কিচ্ছু নেই। আপনার ওই এক্সট্রিমিস্ট সেলের কোনো অস্তিত্বই নেই।
মল্লিকার মুখের রেখা এতটুকু কাঁপল না। কাউন্টার আর্গুমেন্টগুলো সে বিন্দুমাত্র বাধা না দিয়ে মন দিয়ে শুনল, তার মুখের ওপর লাগানো অাত্মবিশ্বাসের মুখোশটা একদম অটুট।
জবাব দেওয়ার জন্য কিছুটা সময় নিল মল্লিকা। তারপর বলল, আপনারা বড্ড বেশি মাটির কাছাকাছি আছেন।
সামান্য থেমে সবার মুখের দিকে একবার তাকাল ও। গলায় একটা প্যাট্রোনাইজিং টোন এনে মল্লিকা কাউন্টার দিল, আপনারা শুধু গাছ দেখতে গিয়ে জঙ্গলটাই মিস করে যাচ্ছেন। এই কিলার একটা মিথ তৈরি করছে। এটা একটা সাইকোলজিকাল ওয়ারফেয়ার ট্যাকটিক। সে চায় আপনারা এমন লোকেদের পেছনে দৌড়ান যার কোনও অস্তিত্বই নেই, আর সেই সুযোগে তার ফ্যাকশন একটা বড় স্ট্রাইকের জন্য প্রিপারেশন নিক। আমার কাছে ইন্টেলিজেন্স আছে, তেলেঙ্গানার নাল্লামালা ফরেস্টের একটা কম্পাউন্ড থেকে একজন এক্স-মিলিটারি র্যাডিকাল এগুলো অপারেট করছে। ওটাই আমাদের প্রাইমারি সাসপেক্ট। আমি এক্সপেক্ট করব আপনাদের টাস্ক ফোর্স ওই কম্পাউন্ডের ওপর সমস্ত রিসোর্স ফোকাস করবে।
মতিলাল মল্লিকার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তাঁর সাধারণত কোল্ড আর ডিটাচড চোখদুটোতে এখন একটা রেজার-শার্প ইনটেনসিটি। তিনি মল্লিকার চোয়ালের সূক্ষ্ম টেনশন আর ওর ব্রিদিংয়ের রিজিড কন্ট্রোলটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন।
আমরা আপনার ইন্টেলিজেন্স মাথায় রাখলাম, ম্যাডাম প্রোফাইলার, তবে অামরা কী করব, তা শুধু অামরাই ঠিক করব। অাপনি যেমন মতামত দিচ্ছেন দিন। যত মত, তত পথ। কী বলো বিক্রম ভায়া?
নিজের বসে থাকার ভঙ্গিটা সামান্য বদলে কার্যত মল্লিকাকে ডিসমিস করে দিলেন মতিলাল। শুরুতেই বুঝিয়ে দিলেন, মল্লিকাকে তিনি তাঁর নিজের দলে কাউন্ট করছেন না।
চারকোল জ্যাকেটের বোতাম আটকাতে আটকাতে উঠে দাঁড়াল মল্লিকা। বেশ অাপনাদের যেটা ভাল মনে হবে করবেন। অামি ওপরমহলে জানিয়ে দেব। তবে খুব বেশি সময় নেবেন না, চিফ। মিনিস্ট্রি রেজাল্ট এক্সপেক্ট করছে, ব্যালিস্টিকস নিয়ে কোনো অ্যাকাডেমিক ডিবেট অামি চাই না। গুড ডে।
ঘুরে দাঁড়িয়ে স্টাডি থেকে বেরিয়ে গেল সে। হার্ডউড ফ্লোরের ওপর তার হিলের তীক্ষ্ণ খটখট শব্দ মিলিয়ে গেল।
বাংলোর ভারী মেইন ডোরটা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনজন চুপ করে রইল।
ও মিথ্যে বলছে, বিক্রমের গলাটা একদম ফ্ল্যাট।
ও মিসডিরেক্ট করছে, পিজির আঙুল আবার নেচে উঠল কি বোর্ডের ওপর। মল্লিকার ট্যাবলেটের কানেকশন হিস্ট্রি থেকে একটা ব্যাকগ্রাউন্ড ট্রেস পুল-আপ করতে করতে সে বলল, মল্লিকা এখানে এসেছিল স্পেসিফিকালি আমাদের তেলেঙ্গানার দিকে পুশ করার জন্য। ও চায় আমরা যাতে নর্দান করিডোরের দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিই।
পিজি ও বিক্রমের দিকে চোখ কুঁচকে তাকিয়ে মতিলাল বললেন, বেশ তো, ওকে ভাবতে দাও যে ও সাকসিড করেছে, মল্লিকার ফাঁকা চেয়ারটার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন মতিলাল, তবে পিজি, ওর গতিবিধির ওপর নজর রাখো। একজন প্রোফাইলার যখন লজিক ইগনোর করে, তখন সে আসলে কোনো মিস্টেক করে না। সে একটা স্ট্র্যাটেজি এক্সিকিউট করে। মেয়েটা কী চাইছে? ওর উদ্দেশ্যটা কী?
বাংলোর বাইরে কলকাতার ধোঁয়াশা কাটিয়ে বাইরে সবে সকালের রোদ উঠছে।
পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাত ধরে দ্রুত পায়ে হাঁটছিল মল্লিকা।
ওর টিন্টেড সেডান গাড়িটা সামান্য দূরে পার্ক করা ছিল।
গাড়ির দরজাটা সশব্দে বন্ধ হতেই ওর প্রফেশনাল মুখোশটা অাচমকাই যেন খসে পড়ল।
দেখা গেল, হাতদুটো সামান্য কাঁপছে ওর।
মল্লিকা জানে, এইমাত্র সে দেশের সবচেয়ে বিপজ্জনক আর পারসেপটিভ তিনজন মানুষের সাথে একধরনের মনস্তাত্বিক যুদ্ধ করে এল। আর সে এটাও ভালো করেই জানে ওরা তার প্রোফাইলের একটা শব্দও বিশ্বাস করেনি।
নিজের ডিজাইনার হ্যান্ডব্যাগ থেকে অফিশিয়াল মিনিস্ট্রি স্মার্টফোনটা সরিয়ে রাখল সে। তার বদলে বের করল একটা সস্তা, আনট্রেসেবল বার্নার ফোন।
কিন্তু এই ফোনটা সত্যিই অানট্রেসেবল তো? ওরা ওর কথা শুনতে পাবে না তো? মল্লিকার হাত কাঁপতে লাগল।
বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ডটা হাতুড়ি পেটার মতো শব্দ করছে। সে এমন একটা লাইন ক্রস করছে যেখান থেকে আর ফেরার কোনো উপায় নেই। মল্লিকা জানে, নিজের ব্যাজ, দেশ আর নিজের বিবেকের সাথে বেইমানি করছে ও—এমন একটা মানুষের জন্য, যার অন্ধকার তাকে পুরোপুরি গ্রাস করে নিয়েছে।
নেটওয়ার্কের ওপারে থাকা একটা অশরীরির উদ্দেশ্যে একটা সিঙ্গেল, এনক্রিপ্টেড এসএমএস টাইপ করল সে।
মল্লিকা লিখল, ওরা তোমাকেই খুঁজছে। ট্র্যাপ ক্লোজ হচ্ছে। স্টে কোয়ায়েট। নো অ্যাকশন নাও।
সেন্ড বাটনটা প্রেস করল মল্লিকা। তারপর বার্নার ফোন থেকে ব্যাটারিটা খুলে নিয়ে জানলার বাইরে ফেলে দিল।
মল্লিকার পক্ষে জানা সম্ভব ছিল না, হাই-পাওয়ার্ড অার্মি বাইনোকুলারের পেছনে থাকা দুটি চোখ অনেক দূর থেকে ওর প্রতিটি গতিবিধি এতক্ষণ নজর করছিল।
মল্লিকার জন্য নির্ধারিত সরকারি গাড়িটা ততক্ষণে কলকাতার তুমুল ব্যস্ত ট্রাফিকের মধ্যে মিশে গেছে।
লেখাটি ভালো লাগলো?
এই থ্রিলার মাল্টিভার্সকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং লেখায় বাড়তি অক্সিজেন জোগাতে চাইলে সাপোর্ট করতে পারেন।
কীভাবে সাপোর্ট করবেন? →