অনলাইন স্টোর গোয়েন্দা বিক্রম, চিফ ডিটেকটিভ মতিলাল মিস্ত্রী ও জিনিয়াস হ্যাকার পিজির যাবতীয় বড়দের ক্রাইম থ্রিলার এখন পাওয়া যাচ্ছে Notion Book Store -এ। বইগুলো দেখুন →

অফলাইন স্টোর কলেজ স্ট্রিটে সমস্ত বই এখন থেকে পাওয়া যাচ্ছে। বুক ফ্রেন্ড। ৮/১/বি শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট, (মিত্র ঘোষের গলি, কফি হাউসের ঠিক পাশে)। ফোন - ৮৭৭৭৪২১১৪২

অ‍াতঙ্কের শেষ প্রহর | চ্যাপ্টার ৫: পাতালে অস্ত্রাগার

তার পরের ঘটনার জন্য অ‍াক্ষরিক অর্থেই রেডি ছিল না বিক্রম ও মতিলাল। 

ভয়ংকর শব্দে বাতাসটা যেন ফালাফালা হয়ে গেল।

৭.৬২ এমএম রাউন্ডের একটা কান-ফাটানো স্ট্যাকাটো গর্জন ভারী কাঠের ক্রেটগুলোকে যেন চিবিয়ে খেতে লাগল অ‍ার চারদিকে তার অভিঘাতে স্প্লিন্টারগুলো ছিটকে এল ঠিক জ্যাগেড শ্রাপনেলের মতো।

এইসব মুহূর্তে চিন্তা করার সময়টুকুও পাওয়া যায় না। কথায় বলে চিন্তার থেকে দ্রুত কিছু হয় না। কিন্তু এইসব সময়ে বাঁচতে গেলে চিন্তার থেকেও দ্রুত কাজ করতে হয়।

বিক্রম চিন্তাই করল না। চিন্তা করাটা একটা লাক্সারি, যাতে এক সেকেন্ডের চার ভাগের এক ভাগ সময় নষ্ট হয়। আর রিফ্লেক্স কাজ করে এক সেকেন্ডের দশ ভাগের এক ভাগ সময়ে।

পিওর, কাইনেটিক এনার্জির একটা ব্লারড মুভমেন্টে সরে গেল ও। সোজা গিয়ে প্রথমে সজোরে ধাক্কা মারল মতিলালকে, তারপর সেকেন্ডেরও কম ভগ্নাংশে চিফ ডিটেকটিভকে নিয়ে আছড়ে পড়ল গ্রিজ-মাখা পাথরের ফ্লোরে। 

ঠিক এক মাইক্রোসেকেন্ড আগে ওদের বুকদুটো যে শূন্যস্থানে ছিল, সেখান দিয়ে হুশ করে বেরিয়ে গেল এক ঝাঁক বুলেট, দেওয়ালে একটা নিখুঁত অনুভূমিক লাইন তৈরি করে দিল।

বিক্রম মতিলালের কলারটা হুক করে ধরে, খুব স্মুদলি তাঁকে টেনে নিয়ে গেল একটা বিশাল, মরচে ধরা লোহার লোড-বিয়ারিং পিলারের পেছনে।

সিলিং থেকে ঝুরঝুর করে ধুলো ঝরে পড়ল। গুলির আওয়াজ থেমে গেছে, তার বদলে কানে এখন শুধু একটা একটানা ভোঁ-ভোঁ শব্দ।

মতিলাল খুব শান্তভাবে মাটিতে ভর দিয়ে উঠে বসলেন। 

নিজের ইমপেক্যাবল ইস্ত্রি করা সাদা শার্ট থেকে একটা কাঠের স্প্লিন্টার ঝেড়ে ফেললেন তিনি। 

তাঁর পালস রেট একটুও স্পাইক করেনি। 

টেরিবল গ্রুপিং, চিফ ডিটেকটিভ ঠাণ্ডা গলায় ফিসফিস করে বললেন, তুমি অ‍ামার প্রাণ বাঁচালে ভায়া। বিভু প্যানিক করে ট্রিগার টানছে। রিকয়েলের চোটে ওর ব্যারেল ওপরের দিকে উঠে যাচ্ছে। ও একজন ইঞ্জিনিয়ার হতে পারে, কিন্তু ইনফ্যান্ট্রিম্যান তো নয়। ফলে কীভাবে এসব বস্তু হ্যান্ডল করতে হয় তা শেখেনি।

ওর ইনফ্যান্ট্রিম্যান হওয়ার কোনো দরকারও নেই, বিক্রম ফিসফিস করে বলল। 

ব্ল্যাক-অপস ওয়ারফেয়ারে ট্রেইনড বিক্রমের চোখ ওই অন্ধকার গোডাউনের জিওমেট্রিটা খুব দ্রুত স্ক্যান করে নিল।

বিক্রম নীচু গলায় বলল, ওই ক্রেটগুলোর ওপর বুলেটের ট্র্যাজেক্টরিটা দেখুন মতিবাবু। ও আমাদের হিট করার ট্রাই করছে না।

মতিলালের বরফ-ঠাণ্ডা লজিক্যাল সেন্স সাথে সাথে ব্যাপারটা ক্যাচ করে নিল। তিনি গলা নামিয়ে বললেন, ও একটা সুইপিং আর্কে ফায়ার করছে। অ‍াসলে ও আমাদের তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এক্সিট থেকে দূরে। সোজা ঘরের মাঝখানের দিকে।

ওয়েলকাম টু মাই থিসিস ডিফেন্স, ডিটেকটিভস! 

হঠাৎ ওপর থেকে মাইক্রোফোনে একটা গলা ভেসে এল। 

এটা কোনও মানুষের গলা নয়। 

এটা ডিজিটাল, একটা সস্তা ব্লুটুথ স্পিকারের মাধ্যমে অ্যাম্প্লিফায়েড , স্পিকারটা ছাদের একটা কাঠের বিমের সাথে জিপ-টাই দিয়ে আটকানো। 

তবে গলাটা বিভুরই। 

বি-টেক গ্র্যাজুয়েট ছেলেটার গলার মধ্যে একটা অস্থিরতা রয়েছে। বোঝা যাচ্ছে ওর বুকের মধ্যে যেন একটা ঝড় চলছে।

ডোর ট্র্যাপটা তোমাদের কেমন লাগল? স্পিকারটা আবার বেজে উঠল, তবে ওটা ছিল সিম্পল টেনশন মেকানিক্স। কিন্তু ওটা জাস্ট একটা ফিল্টার ছিল। একটা আইকিউ টেস্ট বলতে পারো। তোমরা যদি দরজায় লাথি মারার মতো গাধা হতে, তাহলে আর তোমাদের ওপর আমার ভালো এক্সপ্লোসিভগুলো নষ্ট করতে হতো না।

কোথায় ও? অন্ধকার হাতড়ে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলেন মতিলাল।

ও এখানে নেই, বিক্রম রিয়ালাইজ করল, ঘরের মাঝখানে কেমিক্যাল ড্রামের একটা প্যালেটের গায়ে লাগানো ছোট্ট, বিপবিপ করতে থাকা একটা লাল আলোর দিকে ততক্ষণে ওর চোখ আটকে গেছে। 

বিক্রম বলল, বিভু একটা রিমোটলি অপারেটেড সেন্ট্রি গান ফায়ার করেছে। একটা প্যানিং সার্ভো মোটরের সাথে ও একটা অ্যাসাল্ট রাইফেল রিগ করে রেখেছিল। ও অলরেডি গায়েব। তবে অ‍ামরা যত অ‍াস্তেই কথা বলি না কেন, ও শুনতে পাচ্ছে।

টেন আউট অফ টেন, কমান্ডো! 

স্পিকার থেকে বিভুর গলাটা উল্লাসে ফেটে পড়ল, আমি এখান থেকে দু-মাইল দূরে বসে একটা থার্মাল ক্যামেরা দিয়ে তোমাদের দেখছি। চার নম্বর পিলার সাব-সেকশনের পেছনে লুকিয়ে থাকা দুটো ব্রাইট রেড হিট সিগনেচার আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। তোমরা স্মার্ট। কিন্তু আমি যেখানে চেয়েছিলাম, তোমরা ঠিক সেখানেই দাঁড়িয়ে আছো।

বিক্রম এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। ও নিচের দিকে তাকাল। এটা অ‍াবার নতুন কোনও ট্র্যাপ নয় তো?

লোহার পিলারটার গোড়ায়, ধুলোর মধ্যে অর্ধেক পোঁতা অবস্থায় রয়েছে একটা মোটা, ধূসর রঙের পুটির মতো জিনিস। সি-ফোর। ডিরেক্টলি একটা ডিজিটাল টাইমারের সাথে তার দিয়ে বাঁধা।

ব্রিটিশ আমলের ওই কলোনিয়াল পিলারটার স্ট্রাকচারাল ইন্টিগ্রিটি আমি নিখুঁতভাবে ক্যালকুলেট করেছি, বিভুর শিক্ষিত, কিন্তু বিদ্বেষে ভরা গলাটা প্রতিধ্বনিত হল, আমি যদি বেস সাপোর্টটা (base support) উড়িয়ে দিই, তাহলে পুরো ছাদটা ভেতরের দিকে ভেঙে পড়বে। একশো টন ইট আর সুরকির কাইনেটিক ফোর্স তোমাদের পিষে একেবারে হিরে বানিয়ে দেবে। সোসাইটি আমার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কদর করেনি। তাই, আমি সেটা ওদের ফেরত দিচ্ছি। ক্লাস ডিসমিসড।

বিপ।

সি-ফোরের ওপরের টাইমারটা ফ্লিকার করে জ্বলে উঠল। 

০০:০৯।

ঠিক ৯ সেকেন্ড।

পিজি! নিজের ইয়ারপিসে ট্যাপ করে গর্জে উঠলেন মতিলাল, জ্যাম দ্য সিগন্যাল!

এটা একটা ক্লোজড-সার্কিট হার্ডলাইন, চিফ! 

ওপার থেকে পিজির গলাতেও এবার সামান্য অ‍াতঙ্কের ছোঁওয়া, কি-বোর্ডে ওর ফ্র্যান্টিক টাইপিংয়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে। 

পিজি চেঁচিয়ে বলল, এটা ওয়্যারলেস নয়! কপারের তার হ্যাক করা যায় না! রান বিক্রম!

০০:০৮।

বিক্রম কিন্তু প্যানিক করল না। অ‍াতঙ্ক মানুষকে মেরে ফেলে। ও নিজের মনের ভেতর ব্লাস্ট রেডিয়াসটা ম্যাপ করে নিল। তিন পাউন্ড সি-ফোর। একটা ঘেরা জায়গার ভেতর। প্রাইমারি শকওয়েভটা কুড়ি ফুট রেডিয়াসের মধ্যে থাকা ওদের ইন্টারনাল অর্গানগুলোকে জাস্ট লিকুইফাই করে দেবে। তারপর সেকেন্ডারি কলাপ্স হিসেবে ছাদটা ভেঙে পড়ে বাকি যা কিছু থাকবে, সব ধুলোয় মিশিয়ে দেবে।

কোনো এক্সিট নেই। দরজাটা পঞ্চাশ ফুট দূরে। বড্ড বেশি দূর।

০০:০৬।

বিক্রমের চোখ ফ্লোরে লকড। ওদের থেকে ঠিক পাঁচ ফুট বাঁদিকে একটা মিউনিসিপ্যাল ড্রেনেজ কালভার্টের মুখ, একটা পুরনো, ভারী লোহার গ্রেট দিয়ে ঢাকা।

মতিবাবু ড্রেনটার দিকে তাকান, বিক্রম বলল, অ‍ামার পেছনে অ‍াসুন।

০০:০৪।

বিক্রম ঝাঁপ মারল। 

মরচে ধরা লোহার গ্রেটটার ধারগুলো খামচে ধরল ও। বছরের পর বছর কমান্ডো ডিসিপ্লিনে তৈরি হওয়া মাসলগুলো এক লহমায় কয়েল করে স্ন্যাপ করল। 

একটা জান্তব গর্জনের সাথে, ও এক ঝটকায় ওই ভারী লোহার চৌকো কাঠামোটাকে কংক্রিটের ফ্লোর থেকে উপড়ে নিল।

০০:০৩।

ডাউন! বিক্রম এক ধাক্কায় মতিলালকে ওই ড্রেনের সরু, দুর্গন্ধযুক্ত অন্ধকারের ভেতর ফেলে দিল।

০০:০২।

চিফ ডিটেকটিভের ঠিক পেছনে বিক্রম নিজেও হেডফার্স্ট ডাইভ দিয়ে ভেতরে ঢুকল।

০০:০১।

ভেতরে ঢুকে ও ভারী লোহার গ্রেটটা টেনে আবার মাথার ওপর লক করে দিল।

০০:০০।

পৃথিবীটা যেন ধ্বংস হয়ে গেল ওদের মাথার ওপর।

এটা কোনও সাধারণ শব্দ ছিল না। 

পরে বিক্রম ভেবে দেখেছে, এটা ছিল এমন একটা ফিজিক্যাল ব্লো যাতে কিনা গোডাউনের ভেতরের বাতাসটা ইনস্ট্যান্টলি সুপারহিট হয়ে মানুষের কল্পনার বাইরে একটা বিধ্বংসী গর্জনের সাথে এক্সপ্যান্ড করল। সি-ফোরটা ডেটোনেট করে লোহার পিলারটার গোড়া চূর্ণবিচূর্ণ করে দিল।

সরু ড্রেনের ভেতর, বিক্রম নিজের শরীর দিয়ে মতিলালকে ঢেকে রেখেছে। শকওয়েভটা একটা মালগাড়ির মতো ওদের ওপর দিয়ে রোল করে গেল। মাথার ওপরের ভারী লোহার গ্রেটটা ভয়ংকরভাবে কাঁপতে লাগল, কারণ তার ওপর তখন জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ আর কংক্রিটের চাঙড় বৃষ্টির মতো খসে পড়ছে।

মাটি কেঁপে উঠল। গোডাউনের কলোনিয়াল ছাদটা ভেঙে পড়ল, হাজার হাজার পাউন্ড প্রাচীন ইট আর সুরকি ঠিক তিন সেকেন্ড আগে ওরা যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, সেই জায়গাটাকে আছড়ে গুঁড়িয়ে দিল।

তারপর, টোটাল অন্ধকার। এবং অ্যাবসলিউট সাইলেন্স।

তিরিশ সেকেন্ড ধরে, দুজনের কেউই নড়ল না। কালভার্টের ভেতরের হাওয়াটা তখন গলা টিপে ধরা ধুলো আর গুঁড়িয়ে যাওয়া কংক্রিটের তেতো গন্ধে ভারী হয়ে আছে।

মতিলাল আস্তে করে কাশলেন, তুমি আমার পাঁজরের হাড়গুলো গুঁড়িয়ে দিচ্ছ ভায়া।

বিক্রম খুব সাবধানে চিফ ডিটেকটিভের ওপর থেকে রোল করে সরে গেল। ও লোহার গ্রেটটার ওপর নিজের দু-হাত দিয়ে চাপ দিল। ওটা এখন মারাত্মক ভারী, ধ্বংসাবশেষের তলায় চাপা পড়ে আছে, কিন্তু তবুও একটু নড়ল। 

বিক্রম লোহাটার ওপর নিজের পিঠ ঠেকিয়ে পা দিয়ে ওপরের দিকে লেগ-প্রেশার দিল। ধাতু আর পাথরের একটা বিশ্রী ঘর্ষণের আওয়াজ করে গ্রেটটা উল্টে গেল, তার ওপর জমে থাকা ধ্বংসাবশেষের স্তূপটা একপাশে ছিটকে পড়ার ফলে বেরনোর জায়গাটা বেরল অবশেষে।

বিক্রম গর্ত থেকে বেরিয়ে এল, মতিলালকেও টেনে তুলল।

অস্ত্রাগারটা আর নেই।

ওটা এখন ভেঙে পড়া ইট, দুমড়ানো লোহা আর জ্বলতে থাকা কেমিক্যাল ড্রামের একটা ধোঁয়া ওঠা ক্রেটার। ছাদটা যেখানে ছিল, সেই বিশাল গর্তটা দিয়ে সকালের রোদ এসে পড়ছে। ধুলোটা একটা ঘন, ধূসর কুয়াশার মতো বাতাসে ঝুলে আছে।

নিজের ভাইটালস চেক করুন, মতিবাবু। সবকিছু ঠিকঠাক অ‍াছে তো? একমুখ ধুলো মুখ থেকে ফেলে দিয়ে বিক্রম বলল মতিলালকে।

খুকখুক করে নিজের স্পেশাল হাসিটা হাসলেন মতিলাল, একটা জিনিস ঠিকঠাক থাকলেই হবে। ওটা ঠিকই অ‍াছে। কোথায় হিসি করা যায় বলো তো ভায়া?

একটু দূরে গড়াগড়ি খাচ্ছে বিভুর লাগানো স্পিকারটা। ওটার দিকে তাকিয়ে বিক্রম বলল, ওটাকে বিভুর মুখ ধরে নিয়ে অ‍াপাতত ওর ওপরেই মাইনাস করুন। হারামজাদাটাকে যেমন করেই হোক ধরতে হবে। 

মতিলাল মাইনাস করতে করতেই বললেন, হার্ট রেট এলিভেটেড। হিয়ারিং ইমপেয়ার্ড। আর ওয়ারড্রোব পুরোপুরি রুইনড, নিজের একসময়ের সাদা, কিন্তু এখন পুরো ধূসর হয়ে যাওয়া শার্টটা ঝাড়তে ঝাড়তে মতিলাল জানালেন, তবে মাইনাসটা করার পর মনে হচ্ছে, আই অ্যাম এনটায়ারলি ফাংশনাল।

কলকাতা থেকে ওদের ইয়ারপিসে পিজির অ‍াতঙ্কগ্রস্ত গলা ভেসে এল, 

হ্যালো? হ্যালো! অ্যানালগ বয়েজ! টক টু মি! 

ওদের ইয়ারপিসে পিজির গলাটা প্রায় চিৎকার করে উঠল, স্ট্যাটিকের জন্য অডিওটা কেটে কেটে যাচ্ছে। আমি জাস্ট স্যাটেলাইটে একটা থার্মাল স্পাইক দেখলাম, যেটা দেখতে পুরো একটা লোকালাইজড সুপারনোভার মতো ছিল! আর ইউ ডেড?

বিক্রম বলল, ডেড ক্যান্ট টক পিজি। মৃতেরা কথা বলে না।

মতিলাল জবাব দিলেন, তাঁর গলাটা ধুলোয় বেশ খসখস করছে, আনফরচুনেটলি ফর বিভু, নো, আমরা বেঁচে আছি। কিন্তু অস্ত্রাগারটা ডেস্ট্রয়েড। হুইচ ইজ বেটার দ্যান এভার।

নট এভরিথিং, বিক্রমের উত্তরটা অবাক করে দিল মতিলালকে।

বললেন, বলো কি ভায়া, এখনও বাকি অ‍াছে? এরপরেও কিছু বাকি থাকতে পারে?

বিক্রম কোনও কথা না হলে সোজা ব্লাস্টের এপিসেন্টারের দিকে হেঁটে গেল। লোহার পিলারটা আড়াআড়িভাবে পুরো দু-টুকরো হয়ে গেছে। কিন্তু বিক্রম পিলারের দিকে তাকাচ্ছে না। ও মাটির সেই জায়গাটার দিকে তাকিয়ে আছে যেখানে সি-ফোরটা প্ল্যান্ট করা হয়েছিল।

ও হাঁটু গেড়ে বসল। গ্লাভস পরা হাত দিয়ে ও তখনও ধোঁয়া উঠতে থাকা ধ্বংসাবশেষটা ঘাঁটতে শুরু করল।

ব্লাস্ট সবসময় সবচেয়ে ভারী কম্পোনেন্টগুলোকে বাইরের দিকে ছুঁড়ে ফেলে, ব্লাস্ট প্যাটার্নটা ট্রেস করতে করতে বিক্রম বিড়বিড় করল। ও বাঁদিকে তিন ফুট সরে গিয়ে পোড়া মাটির ভেতর আঙুল ঢোকাতেই পেয়ে গেল যা খুঁজছিল।

একটা ঝলসানো, দুমড়ে যাওয়া সবুজ রঙের ফাইবারগ্লাসের টুকরো টেনে বের করল বিক্রম। 

ওটা একটা ক্রেডিট কার্ডের সাইজের গলে যাওয়া লিথিয়াম ব্যাটারি তখনও ওর সাথে ফিউজ হয়ে লেগে আছে।

ফাউন্ড দ্য ব্রেন, বিক্রম ওটা তুলে ধরে বলল। ওর মুখে ফুটে উঠল সেই বিরল হাসি যা কদাচিৎ দেখা যায়।

পিজি, ভিডিও ফিড ইজ আপ, মতিলাল বিক্রমের হাতে ধরা ওই ভাজাভাজা হয়ে যাওয়া সার্কিট বোর্ডটার দিকে নিজের ফোনের ক্যামেরাটা পয়েন্ট করে বললেন, টেল মি ইউ ক্যান রিড দ্যাট।

প্রায় সাতশো কিলোমিটার দূরে কলকাতায় নিজের অন্ধকার, মাল্টি-মনিটর স্যাংচুয়ারিতে বসে পিজি স্ক্রিনের আরও কাছে ঝুঁকে এল। ও একটা আপেলে বিরাট কামড় দিল। 

ক্রাঞ্চ।

বলে উঠল, ওহ, দ্যাট ইজ বিউটিফুল। এটা একটা আইওটি—ইন্টারনেট অফ থিংস—লজিক বোর্ড। বিভু টাইমারটা একদম স্ক্র্যাচ থেকে বানায়নি। ও একটা স্মার্ট-হোম রিলে সুইচ কিনেছিল আর সেটার মাইক্রো-কন্ট্রোলারটাকে রিপ্রোগ্রাম করেছিল, যাতে ওটা কফি মেকারের বদলে একটা ব্লাস্টিং ক্যাপ ট্রিগার করে।

তুই কি এটা ট্র্যাক করতে পারবি? এর অবস্থা তো খুব খারাপ হয়ে অ‍াছে? বিক্রম জিজ্ঞেস করল।

দেখি চেষ্টা করে, পিজি হেসে জবাব দিল, ওর মেকানিক্যাল কি-বোর্ডে আঙুলগুলো আবার ঝড় তুলেছে। 

একইসঙ্গে পিজি ওদের বোঝাতে লাগল বিষয়টা, ফিজিক্যাল বোর্ডটা ফ্রাই হয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু ম্যাক অ্যাড্রেসটা সিলিকন চিপের ভেতর হার্ডকোডেড করা থাকে। তুই আমাকে যে সিরিয়াল নাম্বারটা দেখাচ্ছিস, আমি জাস্ট সেটার ওপর একটা অপটিকাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন স্ক্যান রান করালাম। এখন সেটাকে গ্লোবাল শিপমেন্ট ম্যানিফেস্টের সাথে ক্রস-রেফারেন্স করছি।

মতিলাল ধোঁয়া ওঠা ধ্বংসস্তূপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। বিভু ভাবছে ও জিতে গেছে। ও ভাবছে ও নিজের সমস্ত ট্র্যাক মুছে দিয়েছে। সব ক্রিমিনাল মাইন্ডের একটাই চিহ্ন – তারা নিজেদের সুপিরিয়র ভাবতে ভালোবাসে।

অ্যারোগেন্স ইজ আ ফ্ল, বিক্রম বলল। অ্যান্ড ফ্ল-ক্যান বি এক্সপ্লয়েটেড।

গট আ পিং! পিজি ঠাণ্ডা গলায় বলল, ওরা কোথায় পালাবে? এই লজিক বোর্ডটা তিন সপ্তাহ আগে একটা ডার্ক ওয়েব হার্ডওয়্যার সাপ্লায়ারের কাছ থেকে অর্ডার করা হয়েছিল। পেমেন্ট হয়েছিল বিটকয়েনে। ডেলিভারি রিসিট কনফার্ম করার জন্য যে আইপি অ্যাড্রেসটা ইউজ করা হয়েছিল, সেটা কোনো প্রক্সি দিয়ে বাউন্স করানো হয়নি। সামওয়ান গট লেজি।

আইপি-র লোকেশন কোথায় পিজি? মতিলাল জিজ্ঞেস করলেন।

এটা বারাণসীতে নেই। কলকাতাতেও নেই, পিজি জানাল, ট্রেসটা ফাইনালাইজ করার সাথে সাথে ওর কি-বোর্ডের ক্লিকিংটা স্লো হয়ে এল।

একটু পর পিজি বলল, পিংটা অরিজিনেট করছে একটা পাবলিক নেটওয়ার্ক রাউটার থেকে। স্পেসিফিকালি, একটা আন্ডারগ্রাউন্ড, ক্যাশ-ওনলি সাইবার ক্যাফে থেকে।

ভাইটি অ‍ার সাসপেন্সের মধ্যে না রেখে শহরের নামটা বলো, মতিলাল বললেন।

ভোপাল, পিজি অ্যানাউন্স করল, দ্য সিটি অফ লেকস। এই জায়গাটা অজয়ের টার্ফ। ড্রপআউট ছেলেটা সেন্ট্রাল ইন্ডিয়া থেকে লজিস্টিক্স রান করছে। আমি ঠিক এই মুহূর্তেই তোমাদের ফোনে এক্স্যাক্ট জিপিএস কোঅর্ডিনেটটা পাঠিয়ে দিচ্ছি।

মতিলাল নিজের ঘড়ি দেখলেন। তারপর বিক্রমের দিকে তাকালেন, উই নিড আ ফাস্টার প্লেন, ভায়া। কার্গােতে হবে না।

বিক্রম মাথা নাড়ল, ধোঁয়া ওঠা ক্রেটারটার ওপরে অ‍াকাশের দিকে ওর চোখ তখন ফিক্সড। 

বিভু ওর বেস্ট পাঞ্চটা ছুঁড়েছিল। কিন্তু ওরা সারভাইভ করেছে। এবার, শিকারিরা দেশের হার্টল্যান্ডের দিকে মুভ করছে।

চলুন মতিবাবু, ড্রপআউট বোম্বারটাকে খুঁজে বের করা যাক, বিক্রম বলল, চেজ অন। ডেস্টিনেশন এবার ভোপাল।

মতিলাল খুকখুক করে হেসে বললেন, ভোপালে গিয়ে কি পালের গোদাটাকে পাওয়া যাবে?

বিক্রম বলল, কে জানে? হয়ত দেখা যাবে পালে পালে অ‍ারও টেররিস্ট বেরিয়ে অ‍াসবে।

গল্পটি ভালো লাগছে? পরের পর্ব পড়ুন:

পরবর্তী পর্ব: ২. খুনীর চ্যালেঞ্জ | বিষকন্যা রহস্য →

Leave a Comment