অনলাইন স্টোর গোয়েন্দা বিক্রম, চিফ ডিটেকটিভ মতিলাল মিস্ত্রী ও জিনিয়াস হ্যাকার পিজির যাবতীয় বড়দের ক্রাইম থ্রিলার এখন পাওয়া যাচ্ছে Notion Book Store -এ। বইগুলো দেখুন →

অফলাইন স্টোর কলেজ স্ট্রিটে সমস্ত বই এখন থেকে পাওয়া যাচ্ছে। বুক ফ্রেন্ড। ৮/১/বি শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট, (মিত্র ঘোষের গলি, কফি হাউসের ঠিক পাশে)। ফোন - ৮৭৭৭৪২১১৪২

চ্যাপ্টার ৬: ভোপালি ভেলকি | অ‍াতঙ্কের শেষ প্রহর

বারাণসীর শ্মশানের ধোঁয়া আর চিতার গন্ধ পেছনে ফেলে ওরা যখন ভোপালের রাজা ভোজ এয়ারপোর্টে নামল, তখন সকালের রোদ লেকের শহরের ওপর একটা রূপোলি চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। 

বারাণসী যদি হয় তিন কী চার হাজার বছরের পুরনো এক সভ্যতা, তবে ভোপাল তার পাশে একটি অ‍াধুনিক সুশৃঙ্খল নবাবী মেজাজের অদ্ভুত ফিউশন। একপাশে এশিয়ার অন্যতম বড় মসজিদ তাজ-উল-মাসাজিদ, অন্যপাশে চকচকে চওড়া রাস্তা। প্রচীন ঐতিহ্যের সঙ্গে চমৎকার খাপ খাইয়ে নিয়েছে অ‍াধুনিকতা ও গতি।

মতিলালের সাদা শার্টটা এখন ভোপালের রোদে লিনেন-এর মতো ঝকঝক করছে। মতিলালও ফিরে পেয়েছেন নবাবী মেজাজ।

এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়েই তিনি একটা গভীর শ্বাস নিলেন, বললেন, একটু জ্ঞান দেওয়ার মুডে অ‍াছি। তুমি কি এই শহরের ইতিহাস শুনতে ইচ্ছুক?

বিক্রম মুচকি হেসে বলল, সংক্ষেপে হলে রাজি অ‍াছি।

মতিলাল বললেন, এই শহরটা বড় বিচিত্র, জান ভায়া। রাজা ভোজ এটা বানিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু এর আসল জৌলুস এনেছিলেন চারজন মহিয়সী নারী—ভোপালের বেগমরা। এখানকার মহিলারা পর্দার আড়ালে থেকেও তলোয়ার চালাতে জানতেন। এই ড্রপআউট ডাকাতরা কি এই নবাবী মেজাজের অ‍াড়ালে নিজেদের লুকিয়ে রেখেছে বলে ভাবছে?

বিক্রমের চোখ তখন রাস্তার ধারের দোকানগুলোকে স্ক্যান করতে ব্যস্ত। বলল, ওরা ভারতের বিভিন্ন শহর বেছেছে তদন্তকে স্লো করে দেওয়ার জন্য। মনে হয় না, অ‍ার কোনও মহৎ উদ্দেশ্য রয়েছে বলে।

ভোপালের সকাল মানেই ছোট ছোট স্টলে পোহা-জলেবির পাহাড়। স্টিলের প্লেটে হলুদ পোহা, ওপরে ছড়ানো মুচমুচে সেউ আর একপাশে রসালো জিলিপি। 

এখানকার মানুষজনের কথা বলার ধরনও আলাদা—একটু উর্দু ঘেঁষা মিঠে বুলি, কিন্তু তার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে মারাত্মক হিউমার। লখনউয়ের মতো অত অলঙ্কার নেই, আবার দিল্লির মতো মেজাজিও নয়। 

মতিলাল খাদ্য রসিক। ফলে দাঁড়িয়ে পড়ে বললেন, ভায়া একবার নিয়ম ভেঙে পোহা-জিলিপি খেয়ে দেখো না। ঠকবে না, এটুকু বলতে পারি।

উঁহু, মতিবাবু, পোহা-জিলিপি পরে হবে, আগে শিকার, বিক্রম হেসে মাথা নেড়ে ইয়ারপিসে ট্যাপ করল, পিজি, আপডেট দে। লোকটার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট কী বলছে?

কলকাতার ডার্ক রুমে বসে পিজি এক চুমুক সুলেমানি চা খেল। 

বেশ অনেকদিন পর, একটা চেজ করার থ্রিল পাওয়া যাচ্ছে। পিজি বলল, তোদের ফোনের জিপিএস ম্যাপে আমি চক বাজারের একটা কোঅর্ডিনেট পাঠাচ্ছি। ওই গলিতে একটা ক্যাশ-ওনলি সাইবার ক্যাফে আছে। অজয় এখন ওখানেই বসে ডার্ক ওয়েবে কোনো একটা বড় ডেটাবেস ডাউনলোড করছে। এই কারণে একটু সময়ও লাগছে বেশি। ওর আইপি অ্যাড্রেসটা জাস্ট এখনও ফ্লিকার করছে। তোরা ওকে ওখানেই পেয়ে যাবি।

মতিলাল অ‍ার বিক্রম যখন চক বাজারের সরু গলিতে ঢুকল, চারপাশের পরিবেশটা বদলে গেল এক নিমেষে। 

একদিকে আতর আর জরি দেওয়া ভোপালি বাটুয়ার দোকান, অন্যপাশে ভোপালি গোশত কোরমার ম ম গন্ধ। 

এখানে যারা ঘুরছে সেইসব পুরুষদের পরনে লম্বা কুর্তা আর হাফ জ্যাকেট, মাথায় কিস্তি টুপি। ভিড়ের ভেতর দিয়ে বিক্রম যখন এগোচ্ছিল, ওর কাঁধের হালকা ঘষা লাগতেই একটা লোক হেসে বলল, আরে ভাইজান, একটু দেখেশুনে চলুন, ভোপালের নবাবরা কিন্তু এখন আর ঘোড়ায় চড়ে না, পায়ে হাঁটে।

বিক্রম কোনও উত্তর দিল না। ওর কানে এখন অ‍ার কিছু ঢুকছে না। মাথায় ঘুরছে একটাই নাম – অজয়। যেমন করেই হোক, এই লজিস্টিক্স গাইকে ধরতেই হবে।

বিক্রম সেই সাইবার ক্যাফেটার কাছে পৌঁছে গেছে।

এটা একটা দ্য ডিজিটাল ম্যাট্রিক্স। দরজার সামনে চারজন লোক দাঁড়িয়ে, জ্যাকেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে। ওরা স্রেফ পাহারা দিচ্ছে না, ওরা রেডি। 

বিঙ্গো, পিজি ফিসফিস করে জানাল, অজয়ের ডাউনলোড ৯৫ পারসেন্ট কমপ্লিট। ওর ব্যাকপ্যাকে একটা এনক্রিপ্টেড ইউএসবি ড্রাইভ আছে। ও যদি একবার ওটা নিয়ে ভিড়ের ভেতর মিশে যায়, তবে ভোপালের লেকে ওকে খুঁজে বের করা আর গঙ্গায় সুচ খোঁজা একই ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।

উত্তরে বিক্রম বলল, ডোন্ট ওয়ারি, উই উইল টেক কেয়ার অফ হিম।

লেখাটি ভালো লাগলো?

এই থ্রিলার মাল্টিভার্সকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং লেখায় বাড়তি অক্সিজেন জোগাতে চাইলে সাপোর্ট করতে পারেন।

কীভাবে সাপোর্ট করবেন? →

Leave a Comment